পদ্মায় বিলীন হচ্ছে স্কুল চলছে পাঠদান

192

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বিদ্যালয় ভবনের লাগোয়া পদ্মা নদী। ভাঙনের কারণে মাটি সরে গিয়ে ভবনের একটি কক্ষের মেঝে ধসে গেছে। ঐ কক্ষেই বসে পড়ালেখা করছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা যতক্ষণ ওই ভবনে থাকে, ততক্ষণই উদ্বিগ্ন থাকতে হচ্ছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো বিদ্যালয়টি। এটি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের কাজিয়ারচর সমিরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের চিত্র। শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও বিদ্যালয় সূত্র জানায়, জাজিরার বিলাশপুর ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী একটি গ্রামে ১৯৬৬ সালে সমিরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। ১৯৭০ সালে পদ্মার ভাঙনে বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন বন্ধ হলে ওই এলাকার পাশে কাজিয়ারচর নামক স্থানে চর জেগে উঠলে ১৯৭৭ সালে পুনরায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু করা হয়। তখন নামকরণ করা হয় কাজিয়ারচর সমিরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে চারতলা ভিত্তির একতলার একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সাল থেকে ভবনটি ব্যবহার করা হচ্ছে। গত এপ্রিল মাসে ঐ ভবনের একটি কক্ষের মেঝের একটি অংশ ধসে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলীদের নিয়ে ভবনটি পরিদর্শন করেন। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তখন সেটি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর পাউবো ভাঙন ঠেকাতে বিদ্যালয়ের পেছনে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলেছে।

বুধবার কাজিয়ারচর সমিরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভবনের পেছনে নদী। নদীতে স্রোত ও ঢেউ বেড়েছে। বালুভর্তি জিও ব্যাগের ওপর পানি উঠেছে। জিও ব্যাগ যেখানে ফেলা হয়েছে, তার পূর্বপ্রান্ত দিয়ে ফসলি জমিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা ভবনের তিনটি কক্ষে বসে শিক্ষার্থীরা অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছে। যে কক্ষটির মেঝে ধসে গেছে, ঐ কক্ষের এক প্রান্তে বসে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে। সহকারী শিক্ষক রনি মিয়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিচ্ছেন।

বর্তমানে উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৫০ জন এবং ঐ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা ভবন ছাড়াও বিদ্যালয় দুটিতে তিনটি পাকা ও তিনটি টিনের ভবন রয়েছে। বিদ্যালয়কে ঘিরে ক্যাম্পাসের বাইরে কাজিয়ারচর বাজার গড়ে উঠেছে। ঐ বাজারে একটি সরকারি টোলঘর, একটি মসজিদ ও ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঐ সকল স্থাপনাও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

কাজিয়ারচর সমিরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার, রাজিয়া আক্তার, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিঝুম আক্তার ও পারভেজ মিয়া জানায়, তারা যখন ঐ ভবনের শ্রেণিকক্ষে থাকে তখন ভয় লাগে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি গত বছর থেকে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে আট কিলোমিটার দূরে জাজিরা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে একটি জায়গা ভাড়া নেওয়া হয়েছে। সেখানে উপজেলা প্রশাসন একটি টিনের ঘর তুলে দিয়েছে। কিন্তু ওখানে এখনো স্কুলের কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়া হয়নি। এ কারণে ভাঙনের কবলে পড়া ভবনটিতে পাঠদান করা হচ্ছে। ভাঙনের পরিস্থিতি বুঝে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়া হবে। জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, কাজিয়ারচর সমিরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবলে পড়েছে। ঐ বিদ্যালয়ের একটি ভবনের একটি কক্ষের মেঝে ধসে গেছে। ভবনটি ঝুঁকিতে থাকায় সেখানে পাঠদান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেন ঝুঁকি নিয়ে ভবনটি ব্যবহার করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হবে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি নদীর তীরে হওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন ঠেকানোর জন্য ইতিমধ্যে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য পাউবো কাজ করছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments