পানি বাড়ছে যমুনায় বাড়ছে নদীভাঙন

145

আলোকিত সকাল ডেস্ক

যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ভাঙন। নদীপাড়ের ঘরবাড়ি ও ফসলের জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। যমুনা তীরবর্তী মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভাঙন আতঙ্ক। টাঙ্গাইলের মামুদনগর ইউনিয়নের সাতটি গ্রামে ভাঙনের তীব্রতা আস্তে আস্তে বেড়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো কোনো জায়গায় জরুরিভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এলাকাবাসীর।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের কুকুরিয়া, কেশব মাইঝাইল, মাইঝাইল, সোনা মাইঝাইল, বারবাড়িয়া, চালা বাকলা ও বানিয়াপাড়া গ্রামে যমুনা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জুন মাসের মাঝামাঝি সময় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের মাত্রাও বেড়ে যায়। অনেক স্থানে পাট, বাদামসহ ফসলের জমি, অসংখ্য গাছ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেকে ভাঙন আতঙ্কে অন্যত্র চলে গেছে। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে গবাদিপশুসহ ঘরবাড়ি।

কুকুরিয়া গ্রামের করিম শেখ জানান, তার নিজের ১৬ বিঘা ফসলি জমি যমুনা গ্রাস করেছে। তিনি ভাঙনের আশঙ্কায় আগেই অন্যত্র বাড়ি করেছিলেন। সেই বাড়িটিই এখন তার সম্বল। একই গ্রামের আবু সাইদ জানান, তাদের পরিবারের ১৫০ বিঘা জমি ছিল। যমুনার ভাঙনে সবটুকু চলে গেছে। তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ায় বাড়ি করে সেখানে বসবাস করছেন। তারা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরিভাবে ভাঙন কবলিত এলাকায় হাজার হাজার জিওব্যাগ ফেলছে। তাতে স্রোতের গতি কিছুটা কমলেও খুব একটা লাভ হয়নি। অনেক জিওব্যাগ দেবে যমুনার তলদেশে চলে গেছে। কুকুরিয়া থেকে উজানে চার কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করার দাবি তাদের।

মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাজেদুর রহমান তালুকদার বলেন, যমুনা ও ধলেশ্বরীর ভাঙনে মামুদনগর ইউনিয়নের মানুষ দিশেহারা। একদিকে যমুনা অন্যদিকে ধলেশ্বরী। দুই নদীতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেকে ভিটেবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে তিনি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করার দাবি জানান।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির ঢলে যমুনার পানি বেড়ে যাওয়ায় মামুদনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে পাউবো ১২টি স্পার (জায়গা) নির্ধারণ করে প্রতিটি স্পারে তিন হাজার করে জিওব্যাগ ফেলেছে। মে মাসের প্রথম দিকে এ কাজ শুরু হয়। কোনো কোনো স্থানে পাড়ের দিক থেকে ভেঙে যাওয়ায় আরো এক হাজার ৫০০ ব্যাগ ফেলা হয়। এতে পানির স্রোতের গতি অনেকটা কমে গেছে। জরুরি কাজের জন্য আরো তিন হাজার ৫০০ ব্যাগ মজুত রাখা হয়েছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর টাঙ্গাইলের অংশের যেসব এলাকায় স্থায়ী কাজ হয়নি সেসব এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ বাস্তবায়নের প্রকল্প প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments