পাহাড়ি ঢলে চকরিয়ার দুইলক্ষ মানুষ পানিবন্দি

230

এম, রিদুয়ানুল হক, কক্সবাজার

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়ার নিম্নাঞ্চল প্রাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার অভ্যান্তরীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দী রয়েছেন দুইলক্ষ জনসাধারণ।

গত শুক্রবার থেকে ৬দিন টানা চকরিয়া, পার্বত্য বান্দরবানের লামা ও আলীকদমে মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরুহয়। এ বৃষ্টির পানি রাতের দিকে মাতামুহুরী নদী দিয়ে ভাটির দিকে চলে আসে। এ সময় নদীর দুই কূল উপচে সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, সাহারবিল, চিরিংগা, কৈয়ারবিল ও উপকূলীয় সাত ইউপি ও পৌরসভার একাংশসহ বেশকটি ইউপির দেড়শতাধিক গ্রাম ডুবে রয়েছে ।

বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার ও কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার বলেন, ৬ দিনের টানা বৃষ্টিতে এলাকার বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোও বর্তমানে ঢলের পানির নিচে রয়েছে । এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

চিরিংগা ইউপির চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন বলেন, এখনো অধিকাংশ এলাকায় পানি ঢুকেনি। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হলে উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়ি জোনের বেশিরভাগ মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে কয়েকশ কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান ও সুরাজপুর-মানিকপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক বলেন , আমাদের ইউপি দুটি মাতামুহুরী নদী একেবারে লাগোয়া। নদীর পানি বাড়তে থাকায় এলাকায় অধিকাংশ রাস্তা-ঘাট, স্কুল, ঘর-বাড়ি পানিতে তলিয়ে বার বার তলিয়ে যাচ্ছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এলাকার জনসাধারণ। এমনকি বর্তমানে শতশত পরিবারের পারিবারিক রান্নার কাজও বন্ধ রয়েছে ।

কৈয়ারবিল ইউপি চেয়ারম্যান মক্কি ইকবাল হোছেন বলেন , টানা বৃষ্টিতে কৈয়ারবিলের বেশিরভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ইউপির খিলছাদক, ভরন্যারচর, বানিয়ারকুম গ্রামের মানুষ এখন পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টিতে দেড়শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতায় আটকা পড়েছেন। বন্যার পানি দ্রুত নামার জন্য পৌর ড্রেনগুলো পরিস্কার করা হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি এরই মধ্যে বিপদসীমার উপর প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে চিরিংগা শহর রক্ষা বেড়ী বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। এতে পৌরশহর হুমকীর মুখে পড়তে পারে।

এ ব্যাপারে চকরিয়ার ইউএনও নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, চকরিয়ার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। কবলিত এলাকাগুলোতে শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে । জরুরী ভাবে কাল থেকে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে ৩০ মে: টন চাল বিতরণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বন্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আরো শুকনো খাবারের চাহিদা চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে দূর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন ইউপির চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মোকাবেলাসহ জরুরী সবধরনের পদেক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে ।

আস/এসআইসু

Facebook Comments