পিয়াজের ঝাঁজ বাড়ছে

195

আলোকিত সকাল ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহার এখনো বাকি প্রায় এক মাস। এর আগেই নাগালের বাইরে পিয়াজের দাম। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে আরও একদফা বেড়েছে পিয়াজের দাম। যত দিন যাচ্ছে তত ঝাঁজ বাড়ছে পিয়াজের। তবে দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীরা সেই পুরনো অজুহাত দেখাচ্ছেন-সরবরাহ কম। এদিকে আমদানিকারক, আড়তদার ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সামনে পিয়াজের দাম আরও বাড়বে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ঈদুল আজহার ব্যাপক চাহিদা ও দেশে চলমান বন্যায় সরবরাহ ঘাটতির কারণে পিয়াজের দাম বাড়তে পারে। এ ছাড়া সম্প্রতি ভারত থেকে পিয়াজ আমদানি কমেছে, বৃষ্টির কারণেও পচে পিয়াজ নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে পণ্যটির দাম বাড়ছে। এদিকে ক্রেতারা দাম আরও বাড়ার আশঙ্কায় অতিরিক্ত পিয়াজ কিনে রাখছেন। তবে গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ১৫ দিনের মধ্যে পিয়াজের দাম কমতে শুরু করবে। মন্ত্রীর আশ্বাসের পরও দাম কতটা ক্রেতার নাগালের মধ্যে থাকবে তা নিয়ে সন্দিহান ভোক্তারা।

আজ (১৭ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পিয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা আর রসুন ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা। পিয়াজ-রসুনের পাশাপাশি বাজারে বেড়েছে সবজিরও দাম।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে পিয়াজের দাম বেশি। পাইকারি বাজারে দাম বেশি হলে আমাদের তো বেশি দামে বিক্রি করতেই হবে। এছাড়া পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন সরবরাহ কম তাই দাম বেশি।

ঝিগাতলা, নিউমার্কেট, রায়েরবাজার, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন আড়তের পিয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল আজহা সামনে রেখে একশ্রেণির আমদানিকারক, আড়তদার দাম বাড়ানোর সুযোগ খুঁতে থাকেন। আর এবার তো দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা চলছে। ফলে সুবিধাবাদী ব্যবসায়ীরা এটাকে হাতিয়ার করে আরেক দফা পিয়াজের দম বাড়াবে। শুধু পিয়াজ না অন্য সবজিরও দাম বাড়বে সামনে।

এদিকে গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, গত রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করেছি এবং সফলতা পেয়েছি। এখন পিয়াজ-রসুনসহ কয়েকটা পণ্যের দাম বেড়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাম কমে আসবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জিনিসপত্রের দাম যাতে না বাড়ে সে বিষয়ে আমরা ডিসিদের লক্ষ্য রাখতে বলেছি। পিয়াজের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার বিশেষ কারণ হচ্ছে বৃষ্টিতে পিয়াজ নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ভারত থেকে যেসব পিয়াজ আমদানি হতো সেটা একটু কমে গেছে।

তবে আশা করছি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই এ অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। আমরা ডিসিদের বলেছি, ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ করা আপনাদের একটা বড় দায়িত্ব।

আস/এসআইসু

Facebook Comments