ফলদ ও শোভাবর্ধনকারী গাছের বিক্রি বেশি

241

আলোকিত সকাল ডেস্ক

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বাণিজ্য মেলার মাঠে গত মাসের ২০ তারিখে শুরু হওয়া বৃক্ষমেলা এরই মধ্যে জমে উঠেছে। ২০ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত ১৪ দিনে মোট ছয় লাখ ৮০ হাজার ২২২টি চারা বিক্রি হয়েছে। যার মূল্য চার কোটি ৫০ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩৫ টাকা। বরাবরের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ফলদ গাছের চারা। এর পরেই আছে শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা। তবে রাজধানীতে ছাদবাগান জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় ক্রেতাদের দৃষ্টি ছোট থেকে মাঝারি আকারের ফলদ গাছের চারার দিকে। গত কয়েক দিনে মেলা ঘুরে এমন চিত্রই লক্ষ করা গেছে। মেলার প্রবেশপথে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেই চোখে পড়বে বের হতে যাওয়া দর্শনার্থীদের কারো হাতে হয়তো শোভা পচ্ছে ছোট আকারের কোনো ফলদ গাছের চারা, নয়তো শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা।

গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সরেজমিনে মেলা পরিদর্শন করে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের বেশি ভিড় লক্ষ করা গেছে ফলের চারাগুলোর স্টলে। সাভার থেকে আসা মৌসুমী হায়দার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিন বছর আগে ছাদে বাগান করেছি। প্রথমে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করাই মূল লক্ষ্য ছিল। পরে কিছু শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা লাগালেও ফলদ গাছের অভাব বোধ করি। পত্রিকা পড়ে জানতে পারলাম শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে। সময়টাও গাছ লাগানোর উপযোগী। তাই সুযোগটা হাতছাড়া করলাম না।’ তিনি কয়েক প্রকারের আমের চারা কিনেছেন। সেই সঙ্গে কিনেছেন কয়েক জাতের লেবু, ডোয়ার্ফ (খাটো) কলাগাছের চারা, লটকন ও চায়নিজ কমলার চারা।

মেলায় প্রবেশপথের ডান পাশে কয়েকটি স্টল পেরিয়ে হোসেন নার্সারির স্টল। এই স্টলে রয়েছে দেশি-বিদেশি শতাধিক ফলের চারার সম্ভার। নার্সারি কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশি ফলের চেয়ে বিদেশি ফলের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। তাই বিদেশি ফলের চারার জোগান বেশি রাখা হয়েছে। স্টল ঘুরে দেখা যায় হানিডিউ, বারোমাসি, কাটিমন, বুনাইটিং, ই২আর২, পাকিস্তানি চোষা, অখরম, চার কেজি, স্পেশাল-৩, আমেরিকান ক্যান্ট, আলফানসোসহ বাহারি জাতের আম যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে লাল জাম্বুরা, পার্সিমন, আলুবোখারা, জুরিয়ান, জায়ফল, জয়ত্রী, মিসরীয় ডুমুর, আছাইবেরি, ব্ল্যাকবেরি, মালবেরি, থাই নারিকেল, সিডলেস গাব, ভিয়েতনামি সুপারি, ডেয়ার্ফ কলা, রাম্বুটান, মিরাকল ফল, কাউফল, মেন্ডারিন কমলা, সান্তোল, স্ট্রবেরি, ব্লাড মালটা, আঙুর কমলা, লম্বা সফেদা, সুইট লেবু ও কট লেবুর চারার সমাবেশ ঘটানো হয়েছে এখানে। ‘চার কেজি’ আমের বিশেষত্ব হলো এই জাতের একেকটা আমের ওজন চার কেজি করে হয়ে থাকে। লাল জাম্বুরার বাইরের রং যেমন লাল তেমনি ভেতরের রসালো কোয়াগুলোও লাল।

দেশি ডুমুর থেকে মিসরীয় ডুমুরের পার্থক্য হলো দেশি ডুমুর খেতে হয় ভেজে কিন্তু এই বিদেশি পাকা রসালো মিষ্টি ডুমুর এমনিতে খাওয়া যায়। থাই নারিকেলগাছে ফল ধরে চারা রোপণের তিন থেকে চার বছরের মধ্যে। ফলের আকার অন্যান্য দেশি-বিদেশি জাতের চেয়ে বড়। গাছের আকারও ছোট। সিডলেস গাব বীজহীন, তা নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে। এর আরেকটা গুণ হলো, স্বাদ ভারি মিষ্টি। ভিয়েতনামি সুপারি আকারে বড় আর খেতেও অপক্ষোকৃত সুস্বাদু। ডেয়ার্ফ কলাগাছের আকার ছোট। এটি ছাদে লাগানোর উপযোগী। ব্লাড মালটার ভেতরটা টকটকে লাল বর্ণের। আঙুর কমলা আকারে আঙুরের সমান। প্রচলিত লেবুর মতো সুইট লেবু স্বাদে টক নয়, ভারি মিষ্টি। নার্সারি কর্তৃপক্ষ কালের কণ্ঠকে জানায়, সবচেয়ে বেশি এক লাখ ২০ হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়েছে সবুজ আপেলের একটি চারা।

হোসেন নার্সারির মতোই বরিশাল নার্সারিতেও দেখা গেল হরেক পদের বাহারি চারার সম্ভার। বেশির ভাগ স্টলে শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা ছিল লক্ষ্যণীয়। এসবের মধ্যে রয়েছে, রঙ্গন, বাগানবিলাস, গাদা, বেলি, হাস্নাহেনা, নয়নতারা, ক্যাকটাস, অর্কিড, জারবেরাসহ ৩০টির বেশি প্রজাতির চারা। ঔষধি গাছের চারাও কম নয়। আমলকী, হরীতকী, বহেরা, ঘৃতকুমারীসহ নানা জাতের গাছ স্থান পেয়েছে স্টলগুলোতে।

মেলার তথ্যকেন্দ্রে দায়িত্বরত বন অধিদপ্তরের অফিস সহকারী মজিবর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার চারা বিক্রি হয়। যার মূল্য চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা। ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও বিক্রির হার তেমন বাড়ে না।’ মেলা শুরু হয়ে প্রতিদিন সকাল ৮টায়, চলে রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত। আগামী ২০ জুলাই মাসব্যাপী এই মেলার শেষ দিন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments