ফিরোজ রশীদের ছেলেকে ২০১৬ সালে তালাক দিয়েছেন স্ত্রী, জানেন না শ্বশুর!

545

আলোকিত সকাল ডেস্ক

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের ছেলে কাজী শোয়েবের লাইসেন্স করা পিস্তলের ‍গুলিতে গুরুতর আহত মেরিনা শোয়েব এখন রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি রয়েছেন। গত রোববার রাতে ফিরোজ রশীদের ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর বাসায় গুলিবিদ্ধ হন মেরিনা।

গতকাল সোমবার কাজী শোয়েব দাবি করেন, তার স্ত্রী মেরিনা শোয়েব মানসিকভাবে অসুস্থ। ২০১৬ সালে মেরিনা তাকে তালাক দিয়েছেন। তবে তালাক দেওয়ার পরও তার বাসায় থাকতেন মেরিনা। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে মেরিনাকে কিছু বলেননি শোয়েব।

তবে মেরিনার বাবা সিরাজুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, কাজী শোয়েবকে তার মেয়ে যে তালাক দিয়েছে, এটা তিনি জানেন না।

কাজী শোয়েব বলেন, ‘২০১৬ সালে আমাদের ডিভোর্স হয়েছে। তারপর বাচ্চার জন্য আসত, যেত। মাঝে মাঝে থাকত, থাকত না। এবার লম্বা সময় ছিল। সে মানসিকভাবে অসুস্থ। সে রিহ্যাবে ছিল দুবার। সে মেডিসিন খেলে ঠিক থাকত, না খেলে ঠিক থাকত না, এরকম আরকি কন্ডিশনটা ছিল।’

তালাক দেওয়ার পরও মেরিনার বাসায় আসা প্রসঙ্গে শোয়েব বলেন, ‘বাসায় আসে, কারণ আমার বাচ্চাটা ছোট। মেয়ের বয়স ২০ বছর, ছেলের বয়স ১০ বছর। এখানে এসে (স্ত্রী) থাকে, যায়-আসে। বাচ্চাদের ওপর মেন্টালি প্রেসার যাবে, সেই চিন্তা করে তাকে না করিনি।’

সর্বশেষ কবে মেরিনা শোয়েব বাসায় এসেছেন, এমন প্রশ্নর জবাবে কাজী ফিরোজের ছেলে বলেন, ‘আসছে, আমার খেয়াল নাই। ১০-১২ দিন হবে, ১৫ দিন।’

মেরিনার বাবা সিরাজুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, ‘আমার মেয়ের সাথে নাকি তার ডিভোর্স হয়েছে। কিন্তু ডিভোর্স হওয়ার পরও কি কারও বউ এত দিন তার স্বামীর বাসায় থাকে?’

তালাকের কথা মেরিনার বাবা জানেন না, এ বিষয়ে শোয়েব বলেন, ‘আমার শ্বশুর এটা বলার কথা না। তিনি খুব ভালো মানুষ। উনি স্বাক্ষর দিয়েছে। উনার বাসায় গিয়েই উনি স্বাক্ষরটা দিয়েছেন। সবই করছে উনার বাসায় এবং যে আইনজীবী এটা করছেন, উনি এখনো জীবিত আছেন।’

মেরিনার শরীরে গতকাল রাতে কীভাবে গুলি লাগল, সে বিষয়ে কাজী শোয়েব বলেন, ‘আমি সেটা জানতে পারি নাই। আমার মেয়ে যেটা বলছে, সেটা হলো যে, ওরা আওয়াজ পেয়ে রুমে ঢুকে দেখে, ও (মেরিনা) পড়ে আছে, হাতের কাছে পিস্তলটা।’

মেরিনা অনেকবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছেন দাবি করে কাজী শোয়েব বলেন, ‘সে (মেরিনা) মেন্টালি ডিপ্রেসড ছিল। সে বলত, “আত্মহত্যা করবে।” আমাকে প্রায়ই বলত, সে ছাদ থেকে করবে (আত্মহত্যা)। আমার বাচ্চাদেরকেও প্রায়ই বলত। আমার বাচ্চা যদি বলত, “মা স্কুলে যাবো, নিয়ে যাও, নাস্তা বানিয়ে দাও।” তখন সে (মেরিনা) বলত, “আত্মহত্যা করব।” এটা আমার মেয়ে গতকাল মন্তব্য করছে।’

কার পক্ষ থেকে তালাক দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে শোয়েব বলেন, ‘ওর পক্ষ থেকেই দিছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের (ধানমন্ডি জোন) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আবদুল্লা আল-কাফী দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘পরিবারের সব সদস্যদের সাথে কথা হয়েছে। সবার বক্তব্যই একই রকমের। তাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে আনুমানিক তিন বছর আগে। তার (মেরিনা) মানসিকভাবে একটু সমস্যা আছে।’

আবদুল্লা আল-কাফী বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো মেয়ের বাবা বা কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি। এটা প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

আলোকিত সকাল/এসআইসু

Facebook Comments