ফিরোজ রশীদের পুত্রবধূর গুলিবিদ্ধ নিয়ে ধূম্রজাল

264

আলোকিত সকাল ডেস্ক

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের পুত্রবধূ পেছন থেকে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, নাকি সামনে থেকে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন- তা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। এই ধূম্রজাল সৃষ্টির অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে আসছে আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তোলায়। তাছাড়া পূত্রবধূর সঙ্গে তার ছেলে স্বামী কাজী শোয়েবের ডিভোর্স এবং ডিভোর্স পরবর্তী দীর্ঘদিন ধরে বসবাসের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

কাজী ফিরোজ রশীদের পরিবাররের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- পুত্রবধূ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, গুলি লেগেছে সামনে থেকে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন- গুলি লেগেছে পেছন থেকে। অবশ্য আত্মহত্যা নাকি অন্যকিছু- তা নিয়ে চিকিৎসকদের কোনো মন্তব্য নেই।

রোববার (০৭ জুলাই) দিবাগত রাতে ধানমণ্ডি ৯/এ-এর বাসায় গুলিবিদ্ধ হবার পরপরই তাকে ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে নেয়া হয়। ঘটনার খবর পেয়ে সংসদ থেকে বাসায় আসেন কাজী ফিরোজ। পরে গুলিবিদ্ধ পুত্রবধূকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করান তিনি। এসময় তার ছেলে কাজী শোয়েব বাসার বাইরে ছিলেন।

ধানমণ্ডি থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগরণকে বলেন, পেছন থেকে গুলি, তাকে বলা হচ্ছে আত্মহত্যা- এই জায়গাটা কেমন যেন লাগছে। সাধারণত আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় দেখা যায়, মাথায়, বুকে, পেটে গুলি করে আত্মহত্যা ঘটায়। এটাই দেখলাম একটু অন্যরকম। যাই হোক- তদন্ত শেষে বাকিটা বলা যাবে।

ল্যাব এইডের একজন চিকিৎসকও ওই পুলিশ কর্মকর্তার মতো ভাষ্য দেন দৈনিক জাগরণকে।

গুলিতে তার পেটের চারটি স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেটের চার স্তর ঠিকঠাক করেন চিকিৎসকরা। ল্যাব এইডের এসিসট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার সাইফুর রহমান লেনিন দৈনিক জাগরণকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত চার স্তর রিপেয়ার করা হয়েছে। কিন্তু গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। এটি মেরুদণ্ডের পাশে, পিঠের কাছে আটকা আছে।

ঘটনার পর রাতে হাসপাতালে আনার পর জরুরি বিভাগ গ্রহণ করে তাকে। এরপরই জরুরি ভিত্তিতে চারজন সার্জনের সমন্বয়ে গঠিত দল দিয়ে অপারেশন করা হয় । তখন থেকে এখন পর্যন্ত তিনি আইসিইউতে আছেন। তবে হাসপাতালে আনার পর তিনি যে অবস্থায় ছিলেন, তা থেকে উন্নত। সোমবার সকালে তার জ্ঞান ফেরে। এসময় খুলে নেয়া হয় কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্র।

কিন্তু তিনি আশঙ্কামুক্ত কি-না তা বলতে পারছেন না সাইফুর রহমান লেনিন। তিনি বলেন, আরও দুই-তিনদিন পর পূর্ণাঙ্গ মন্তব্য করা যাবে। গুলি তার পেটের পেছনে মেরুদণ্ডের কাছ ভেতরে প্রবেশ করে।

কাজী শোয়েবের শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, শোয়েব নাকি সে সময় বাড়িতে ছিলেন না। আমার মেয়ের সঙ্গে নাকি তার ডিভোর্স হয়েছে। কিন্তু ডিভোর্স হওয়ার পরও কী কারও বউ এতদিন স্বামীর বাসায় থাকে?

এ ঘটনার পর থেকে কাজী ফিরোজের পরিবারের কারও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। সোমবার দুপুরে ধানমণ্ডির বাসায় গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। বিকালে বাসার নিচে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে কাজী ফিরোজের ছেলে কাজী শোয়েবের কথা হয়।

তিনি বলেন, আমি বাইরে ছিলাম। তখন আমার মেয়ে ফোনে এ ঘটনা জানায়। ও (তার স্ত্রী) মেন্টালি আনস্টেবল, ওষুধ খেলে সুস্থ থাকে, না খেলে সুস্থ থাকে না। আল্লাহর রহমতে সে এখন কামব্যাক করেছে। সে হাসপাতালে এখন কথা বলতে পারছে।

কী অসুস্থতা সেটা বলেননি কাজী শোয়েব।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ধানমণ্ডি জোনের এডিসি মো. আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, তিন বছর আগে ডিভোর্স হলেও শোয়েব ও তার স্ত্রী একই বাড়িতে থাকতেন।

ঘটনার সময় বাসায় কাজী ফিরোজের স্ত্রী ও তার পুত্রবধূসহ দুই নাতনি ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে সংসদ থেকে বাসায় আসেন কাজী ফিরোজ। পরে পুত্রবধূকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করান। বাসা থেকে অস্ত্রটি জব্দ করে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ।

এডিসি মো.আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মেরিনা সুইসাইডের অ্যাটেম্পট নিয়েছিলেন। অস্ত্রটি জব্দ করেছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত আরও বলা যাবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments