বদলে যাচ্ছে রাজনীতির হালচাল

216

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রাজপথে জামায়াতের সহিংসতা নেই। শূন্যের কোঠায় আন্দোলন অবরোধের নামে অরাজকতা। হামলা-মামলা গ্রেপ্তার আতঙ্কের পরিবেশও নেই। একসময়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল বিএনপিও বিরোধী রাজনৈতিক দলের ভূমিকা হারিয়ে ফেলছে।

ইসলামপন্থি অন্য দলগুলোও প্রভাবশালী দলের নিয়ন্ত্রণে প্রায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতির নোংরামি এখন প্রায় নেই বললেই চলে। সবমিলে সব রাজনৈতিক দলের নেতারাই এখন বুক ফুলিয়ে চলছেন। নিজ স্থান ধরে রেখে রাজনীতিতে ভূমিকা পালন করছেন সবাই।

কমে গেছে আক্রমণ-আক্রোশের রাজনীতিও। বহু মামলায় আটক থাকা বিরোধী দলীয় শীর্ষ নেতারাও কারাগার থেকে একেক করে বের হয়ে আসছেন। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সমপ্রতি মুক্তি পেয়েছেন।

এছাড়া নির্বাচনের আগে কারাগার থেকে জামায়াতের আমীর মকবুল আহমাদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানও নীরবে বেরিয়ে আসেন। এখন রাজনৈতিক মাঠে গুঞ্জন রয়েছে— দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও আগামী কুরবানির ঈদের আগে মুক্তি পেতে পারেন। আন্দোলন ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি বের হয়ে আসবেন।

সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য— প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনায় হ্যাট্রিক সময় শুরু করায় অতীতের কঠিন অবস্থান থেকে ফিরে এসেছে দলটি। সকল রাজনৈতিক দল সঙ্গে নিয়ে শান্ত সময়ে ক্ষমতার তৃতীয় মেয়াদ পার করতে চাচ্ছে দলটি।

এ জন্য প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি, এছাড়াও প্রভাবশালী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলামসহ এমন দলগুলোর সঙ্গে পর্দার আড়ালে আলোচনায়-সমঝোতায় একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয় যাত্রা শুরু করেছে দলটি।

আগুন সন্ত্রাস, হরতাল-অবরোধ এমন কর্মসূচি, যেগুলোতে মোকাবিলায় সরকারের হস্তক্ষেপ থাকবে; তা থেকে বিরোধী দলগুলোর বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি থাকায় অতীতের মতো গণগ্রেপ্তার, কর্মসূচিতে বাধা— এমন প্রতিক্রিয়া থেকে দূরে থাকছে ক্ষমতাসীন দল। তাই অতীতের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে রাজনীতিতে শান্ত পরিবেশের সোনালি সময়ের পথ শুরু হয়েছে বলে মনে করছে দেশের রাজনৈতিক মহল।

এর মধ্যে যে রাজনৈতিক দলটি নিয়ে মাঠপর্যায়ে বেশি আলোচনা, তা হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ দলটি অতীতের যেকোনো সময় থেকে খুব ভালো সময় পার করছে। রাজপথে কিংবা ঘরোয়াভাবে ধারাবাহিক সব কর্মসূচি পালন করছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হ্যাট্রিক সময়ের সাত মাস চললেও এখনো কোনো খবর পাওয়া যায়নি এ দলটির কোনো কর্মসূচিতে পুলিশ কিংবা আওয়ামী লীগ থেকে বাধা এসেছে। বরং এ দলটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় কারাগারে আটক থাকা হেভিওয়েট নেতারা একের পর মুক্ত হচ্ছেন। যেমন নির্বাচনের আগে তাদের দলের শীর্ষ নেতারা গোপনে বেরিয়ে আসেন।

এ দলটির ব্যবসায়িক একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে জামায়াতের একটি সমঝোতা হয়েছে। তারা আর এ সরকারের সময়ে সহিংস কোনো কর্মসূচিতে যাবে না।

আর সরকারের কাছ থেকেও তারা সবুজ সংকেত পেয়েছেন হামলা-মামলায় সরকারের প্রভাব থেকে তারা অতীতের চেয়ে শক্ত অবস্থানে থাকবে না। এদিকে সরকারের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফীর বড় একটা দূরত্ব থাকলেও সেটিও সরকার সমঝোতায় এনে তাদের শান্তনায় রেখেছে।

জেলে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে এখন বিএনপির সঙ্গে একটু দূরত্ব ক্ষমতাসীন দলের। রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এটিও আর বেশি দিন থাকবে না। ধারণা করা হচ্ছে, হয়তো বিএনপির সঙ্গে সরকারের এমন সমঝোতা হতে পারে যে, খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে তাকে চিকিৎসার জন্য সুকৌশলে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

আর দেশে বিএনপি কোনো ধরনের আন্দোলন করতে পারবে না। আর বিএনপির শীর্ষ নেতারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ঈদুল আজহার আগেই অর্থাৎ দেড় মাসের মধ্যে বন্দি খালেদা জিয়া মুক্তি পেতে পারেন। আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না, প্যারোলে মুক্তিও চাওয়া লাগবে না, আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়া বের হয়ে আসবেন।

বিশ্ব আস্থায় বাংলাদেশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, অতীতে রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের ওপর আন্তর্জাতিক মহলগুলো অনেকটাই ক্ষুব্ধ ছিলো।

সাম্প্রতিককালে এখন তার অনেক উন্নত হয়েছে। দেশের রাজনীতিতে, সংঘাত, হানাহানি অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে বাংলাদেশের ওপর এখন বিশ্ব আস্থা জাগছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকায় চীন, জাপানসহ অনেকগুলো দেশ এখন বৃহৎ অর্থনৈতিক সাপোর্ট দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গী হচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য, যারা দেশ পরিচালনা করছেন তাদের জন্য অনেক বড় সাফল্য।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এ অধ্যাপক আরও বলেন, বিশ্বের কাছে এখন বাংলাদেশের আরেক পরিচয় উন্নয়নের মাইলফলক হিসেবে। আন্তর্জাতিক মহলগুলো আমাদের পাশে যেভাবে আছে, দেশের স্বার্থে এটি ধরে রাখতে হবে। তবে এটিও বলতে তারাও তাদের স্বার্থ ছাড়া আমাদের সঙ্গে থাকেন না।

আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো অপরিপক্বতার কারণেই মাঝে মধ্যে তাদের হস্তক্ষেপ বাড়ে। আমরা যদি নিজেরাই সমাধান করতে পারি তাহলে রাজনীতির মাধ্যমে দেশের সবকিছু পরিবর্তন হয়ে যাবে। ক্ষমতাসীন দল আর বিরোধী দল সংলাপের মাধ্যমে কিংবা আলোচনার মাধ্যমে নিজেরাই সহিংসতা কমিয়ে শান্তিতে থাকার পরিবেশ রাখতে পারি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সফলতা
আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন আমার সংবাদকে বলেন, দেশে আজ কোনো হানাহানি নেই। দেশের জনগণ শান্তিতে বসবাস করছেন।

আর অবশ্যই এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সফলতা। শান্তিপূর্ণভাবে দেশে একটা নির্বাচন হয়ে গেছে। বিরোধী দলের যারা, তারাও সংসদে এসেছেন। গণতন্ত্রের পূর্ণ চর্চা হচ্ছে।

নূহ-উল আলম লেনিন আরও বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মানে উন্নয়ন ঘটেছে, পার ক্যাপিটাল আয় বেড়েছে। বিশ্বমন্দা মোকাবিলা করে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল হয়েছে। বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ যে একটা অমিত সম্ভাবনার দেশ হিসেবে এখন সারা পৃথিবীতে গণ্য হচ্ছে, এটা বিরাট সাফল্য। এছাড়া, বিশ্বব্যাংকের কারসাজি সত্ত্বেও আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করতে সক্ষম হয়েছি। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ পড়ে না। এটাই বড় সফলতা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments