বন্ড বাহিনীর নেতৃত্বে ছিল রিফাত ফরাজী

354

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যায় মাত্র ২ মিনিট সময় নেয় ‘বন্ড বাহিনী’। ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন। এ হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের মূল নেতৃত্বে ছিল মামলার দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজি বলে নতুন ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে।

এ হত্যার ঘটনার পরিকল্পনাকারী নয়ন বন্ড হলেও কিলিং মিশনে মূল ভূমিকা পালন করে দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজি এমনটাই ওই ভিডিও চিত্রে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি চ্যানেলের প্রকাশিত ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজে এ চিত্র দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া রিফাত শরীফ ঘটনার দিন সকাল ১০টায় তার স্ত্রী মিন্নিকে নিতে সাদা একটি মোটরসাইকেলে কলেজে আসে। ১০টা ৩ মিনিটে বন্ড বাহিনীর প্রধান রিফাত ফরাজি ৬ থেকে ৭ জনকে নিয়ে কলেজ গেটের বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। দুই থেকে তিন মিনিট পরে আরও ২ থেকে ৩ জনকে কলেজে পাঠায় সে। ১০টা ৯ মিনিটে ওই ২ থেকে ৩ জনসহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে রাস্তার উল্টো পাশে অবস্থান নেয়। এক মিনিট পরে ঘাতক রিফাত ফরাজি গেটের কাছে এসে আরো দুটি ছেলেকে কিছু নির্দেশনা দিয়ে উল্টো দিকে পাঠায়।

১০টা ১২ মিনিটে কলেজ থেকে বেরিয়ে রিফাত গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করে। ঠিক ১০টা ১৩ মিনিটে রিফাত ফরাজি নিহত রিফাত শরিফকে কলেজের গেটে এসে বন্ড বাহিনীর সহায়তায় জোরপূর্বক নয়ন বন্ডের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে সবাই তাকে মারধর করতে থাকলে রিফাত ফরাজি ও একজন দৌড়ে গিয়ে তিনটি রামদা নিয়ে আসে। রিফাতের দুই হাতের দুটি দায়ের একটি নয়নকে দেয় ও আরেকটি দিয়ে নিজেই কোপাতে শুরু করে। ১০টা ১৫ মিনিটে নয়ন, রিফাতসহ বন্ড বাহিনী কলেজ গেটের সামনে থেকে চলে যায়। আর ঘটনার ৮ মিনিট পরে দুজন পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করে।

গত ৩ জুলাই রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মামলার ২ নাম্বার আসামি রিফাত ফরাজিকে (২৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে কোথায় গ্রেফতার করা হয়েছে তা তদন্তের স্বার্থে জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ।

এদিকে রিফাত ফরাজীর আপন খালু ওই এলাকার বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি স্থানীয় আওয়ামী নেতা দেলোয়ার হোসেন। এছাড়া এই দুই ঘাতক বরগুনার দুই প্রভাবশালী এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছিল জিরো জিরো সেভেন (০০৭) নামে সন্ত্রাসী গ্রুপ। যে গ্রুপের প্রধান ছিল নয়ন বন্ড আর তার অন্যতম সঙ্গী রিফাত ফরাজী বলেও স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এর আগে মঙ্গলবার (২ জুলাই) ভোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন নয়ন বন্ড। এদিকে নয়ন বন্ড রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছাড়াও একাধিক মাদক মামলার আসামি ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন (বৃহস্পতিবার) সকালে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সন্ত্রাসীরা। পরে বিকালে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। রিফাত শরীফকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল ও গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর থেকে শুরু হয় প্রশাসনের তৎপরতা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments