বাকেরগঞ্জের বড় রঘুনাথপুর গ্রামে ভয়াভহ অগ্নিকান্ডে নিঃস্ব দুইটি পরিবার

190

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

বাকেরগঞ্জের পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের বড় রঘুনাথপুর গ্রামে ৯ নং ওয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিঃস্ব হয়ে গেছেন দুইটি পরিবার। কৃষি ও অন্যেও জমি চাষ করে তিল তিল করে জমানো কষ্টের টাকা দিয়ে কিছুদিন পূর্বে গড়ে তুলে ছিলেন একটি স্বপ্নে নির, ঘরের তৈজসপত্র, পরিধানের কাপড়সহ থাকার ঘরটি পর্যন্ত আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। জানা যায়, গত ৩ জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২ টায় বিদ্যুতের মিটার বোর্ডে আগুন লাগার ফলে মৃত. সৈয়দ মিয়া হাওলাদারের পুত্র মো. চাঁন মিয়া হাওলাদার ও চাঁন মিয়া হাওলাদারের পুত্র পান্না মিয়া হাওলাদারের ঘরে আগুন লাগে পরে তাদের ডাক-চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য চেষ্টা চালায় কিন্তু সকল চেষ্টা বিফলে চলে যায়।

এসময় বাকেরগঞ্জ র্ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করা হলে রাস্তা ভাল না থাকার কারণে তারা বাড়ির ভিতর ডুকতে পারেনি। এরই মধ্যে দুইটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ক্ষতিগ্রস্ত পান্না হাওলাদার জানান, রাতে খাবার খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পরি হঠাৎ দুপুর রাত দাউ দাউ করে আগুন ঝলতে দেখি। পরে তা ছড়িয়ে যায় পুরো বাড়িতে।

এক পর্যায়ে ছড়িয়ে যায় পাশের ঘরেও। স্থানীয়দের আগুন নেভানোর আগেই সব কিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বৃহস্পতিবারের লাগা আগুন চাঁন মিয়া হাওলাদারের সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। আর এ কারণে পোড়া ঘরের কোণে বসে চাঁন মিয়া প্রলাপ ‘পরনের বস্ত্রটুকু নেই গো বাজান’। সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আগুনে নিঃস্ব হওয়া পান্নার মিয়ার স্ত্রী বলেন, দুই ঘরে অনেক জিনিস ছিল। ঘরের ভিতর বিদেশ যাওয়ার প্রায় ৩ লক্ষ টাকা ও স্বর্ন অলংকারও ছিল ২ লক্ষ টাকার। ৮টি পিপাতে ৫০ মন চাল ছিলো, ডাল ছিলো প্রায় ২০ মন এখন কিছুই নেই।

পরনের কাপড়টুকু ছাড়া আর কিছুই নেই আমার। টাকা-পয়সাও পুড়ে ছাই। ঘটনার পরে গত ৪ জুলাই ঘটনাস্থান পরির্দশন করেন, ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান বাবু, ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, মহিলা সংরক্ষিত ইউপি সদস্য নাছিমা বেগম, সাবেক লিলি বেগম। এসময় তারা বিভিন্ন সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন ক্ষতিগ্রস্তদের। ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ঘর দুটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরনে কাপড় ছাড়া আর কোনো কাপড় নেই,তারা এখন কী করবেন? কোথায় ঘুমাবেন রাতে, খাবেন কী? এমন প্রশ্ন এলাকাবাসীর মুখে মুখে। কিন্তু এর কোনো সুরাহা এখন পর্যন্ত হয়নি। সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেলেও তা খুবই সামান্য। সাজানো-গোছানো সংসার আবার কীভাবে আগের অবস্থায় যাবে? বেঁচে থাকার জন্য কোনো স্বপ্নই আর বাকি নেই পুড়ে ছাই হওয়ার। কেবল জীবনটাই আছে। ক্ষতিগ্রস্থরা ‘সব শ্যাষ হইয়া গ্যাছে’ বলে বিলাপ করছিল। তাদের বিলাপে ভারি হয়ে উঠছে পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments