বামজোটের হরতাল পালিত, দেশ অচল করার হুমকি

205

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আগাম কর্মসূচি দিয়ে শেষ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোজের অর্ধদিবস হরতাল।গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে না এলে দেশ অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। একই সঙ্গে আগামী ১৪ জুলাই বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

বাম জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এরপরও সরকার নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না এলে ১৯ জুলাই প্রতিনিধি সম্মেলন করে লাগাতার কর্মসূচি দেয়া হবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ অচল করে দেয়া হবে।

রোববার (০৭ জুলাই) জোটের ডাকা অর্ধদিবস হরতাল কর্মসূচি পালন শেষে এ আন্দোলনের ঘোষণা দেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক মোশাররফ হোসেন নান্নু।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের দলগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন ও বাসদ (মার্কসবাদী)।
বাম জোটের হরতাল- ছবি: কাশেম হারুন

মোশাররফ হোসেন নান্নু বলেন, দেশের মানুষের অতিপ্রয়োজনী গ্যাস। এর দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সব পণ্যের দাম বাড়রে, কারখানার উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, এর প্রভাব পড়বে সাধারণ জনগণের ওপর। আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানাই। সরকার যদি আমাদের এই আহ্বান না মেনে নেয় তাহলে আমরা দেশ অচল করার কর্মসূচি দেবো।

তিনি বলেন, বাসা-বাড়িতে কোনো সময়ই ৪৫ থেকে ৫০ ইউনিটের বেশি গ্যাস খরচ হয় না। বিদ্যুতে সিস্টেম লসের সম্ভাবনা না থাকলেও ক্ষমতাবানরা, আমলারা ১২ শতাংশ পর্যন্ত সিস্টেম লস দেখায়। সরকার আবারও সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা লুটপাটের মহোৎসব করতে চায়।আমরা এটা হতে দেবো না। আমরা রাজপথে থেকে জনগণের দাবি আদায় করবো।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, দেশের মানুষ কোনো সময়ই মাফিয়াদের হাত থেকে মুক্ত হতে পারেনি। যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে তারাই লুটপাট করেছে। এর আগের সরকার বলেছিলো দেশ নাকি তেলের ওপর ভাসছে। তারা ভারতে তেল রপ্তানির কথা বলেছিলো। বর্তমান সরকার নিজেদের গ্যাসের কথা ভুলে গিয়ে এলএনজি আমদানি করতে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিতে চায়। এতে কারখানার পণ্য উৎপাদনে ব্যয় বেড়ে যাবে। এর চাপ আসবে জনগণের ওপর। সরকার গণতন্ত্রের নির্বাসন দিয়ে এখন সম্পদের অপব্যবহার করতে চায়। আমরা সাম্রাজ্যবাদ সরকারের পতন ঘটিয়ে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, জনগণের যৌক্তিক দাবি আদায়ে আমাদের হরতালে সবার সমর্থন ছিলো। সরকার জোর করে কিছু গাড়ি রাস্তায় নামিয়ে দিয়েও হরতাল প্রতিরোধ করতে পারেনি। হরতাল পালনের সময় রংপুর, ময়মসসিংহে আমাদের মিছিল ঘেরাও করে রাখা হয়, চাঁদপুর ও খুলনায় অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে সরকারকে বলতে চাই, এসব বন্ধ করুন, আগুন নিয়ে খেলবেন না, এই আগুনে একদিন আপনারা নিজেরাই শেষ হয়ে যাবেন।

গণসংহতি আন্দোলণের সমন্বয়ককারী জোনায়েদ সাকি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো অযৌক্তিক। দুর্নীতি ও ভোট বাণিজ্যর কারণে সরকার লসে আছে। এই খাটতি পূরণের লক্ষ্যে সরকার জনগণের কাঁধে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি চাপিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। আমরা পুলিশের লাঠি, গুলিকে তোয়াক্কা করি না। সরকার তাদের অবস্থান থেকে সরে না আসলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই ভোট চোর সরকারের পতন ঘটানো হবে।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাফি রতন, যুগ্ম সম্পাদক জহির চন্দন প্রমুখ।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোট দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল পালন করেছে। রোববার সকাল ৬টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে হরতাল সমর্থকরা পিকেটিং করে। তবে দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিকেটিংয়ের স্থান কমে পল্টন, শাহবাগ মোড়ে সভা-সমাবেশ জমায়েতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল পুরো কর্মসূচি।

সকালে রাজধানীর শাহবাগ, পল্টন, প্রেসক্লাব, মিরপুর, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হরতাল চলাকালীন সময়ে যানবাহনের চলাচল ছিলো প্রায় স্বাভাবিক। শাহবাগ মোড়ে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ব্যানারে বামপন্থী বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা চার রাস্তার মোড় আটকে পথসভা করেন। তবে কোথাও কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি। সকালের দিকে পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটিসহ মৃদু হাতাহাতি হয়। পল্টন মোড়ে সকালে এমন ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

আস/এসআইসু

Facebook Comments