বিএনপির ঈদ আসবে কবে?

257

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি। এই দলটি তিনবার দেশ শাসন করেছে দাপটের সাথে। দীর্ঘ এক যুগ ক্ষমতদার বাইরে থেকে মামলা হামলায় জর্জরিত দলটি। আবার প্রায় দেড় বছর যাবৎ দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে।

অপরদিকে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিন যাবত লন্ডনে অবস্থান করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এতে বলাই যায় দলীয় ইতিহাসে চরম সংকটপূর্ণ মুহূর্তে এসে পতিত হয়েছে দলটি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে ভোটে গিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখা দলটি এখন সংকটের মুখে।

বিভিন্ন প্রোগ্রাম বা সেমিনারে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলে থাকেন আন্দোলন বলে কয়ে আসে না। আন্দোলন আসবে।

আন্দোলন কবে হতে পারে এনিয়েও বিএনপির মধ্যে রয়েছে ধোঁয়াশা। আন্দোলন নিয়ে বিএনপির কোন নেতাই মুখ খুলতে চায় না।

আবার ঈদের পরে বিএনপির আন্দোলন এটা মানুষের মধ্যে হয়ে গেছে একটা ট্রোল।

কিন্তু কোন ঈদের পরে বিএনপির আন্দোলন মানুষের মনে এমন প্রশ্নও জাগে। বিএনপির আদৌ ঈদ আসবে কিনা এমন প্রশ্নও রয়েছে জনমনে। আবার বিএনপির আন্দোলন করার কোন মুরোদ নেই এমন কথাও বলে থাকেন ক্ষমতাসীন দল।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার সামর্থ্য বিএনপির নেই। বিএনপির যদি এতই সাহস আর সক্ষমতা থাকে, তাহলে খালেদা জিয়ার জন্য আন্দোলন করে না কেন? তারা শুধু মুখে আন্দোলনের হাঁক ডাক দেয়। বাস্তবে কোনো আন্দোলন আজ পর্যন্ত তারা করতে পারেনি।

দলীয় প্রধানের মুক্তির জন্য বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, গণ-অনশন, বিক্ষোভ মিছিল এবং কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করে থাকেন দলটি। এতে সন্তুষ্ট নয় তৃণমূল। বিভিন্ন প্রোগ্রামে দলের সিনিয়র নেতারা তৃণমূল কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। তৃণমূল কর্মীরা জানতে চায় এই ধরনের আন্দোলনে দলীয় প্রধানের মুক্তি হবে না তাহলে যেমন আন্দোলনে বেগম জিয়ার মুক্তি হবে সেই ধরনের আন্দোলন কেন দেয়া হচ্ছে না।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং আন্দোলন নিয়ে তৃণমূলে রয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। তৃণমূল কর্মীদের প্রশ্ন- তাদের দলীয় প্রধান কবে মুক্তি পাবে? আইনি প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই দলীয় প্রধানের মুক্তি হচ্ছে না, তাহলে যেই ভাবে তার মুক্তি মিলবে সেই পথে কেন আগানো হচ্ছেনা। যেহেতু আইনি প্রক্রিয়ার কোন অবস্থাতেই দলীয় প্রধানের মুক্তি হবে না তাহলে আন্দোলন হচ্ছে না কেন এমনটাই বলছেন কর্মী-সমর্থকরা।

আবার দলটির সিনিয়র নেতারা বারবার বলে আসছেন গণতন্ত্রের মুক্তি আর খালেদা জিয়ার মুক্তি একই সূত্রে গাঁথা। তাই আন্দোলনের দিকেই যাচ্ছে দলীয় নেতারা। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা মনে করছেন আন্দোলনে যাওয়ার পূর্বে দলকে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। দলকে পুনর্গঠন করেই আন্দোলনের নামার পরিকল্পনাও এঁটেছেন নীতি নির্ধারকরা।

বিএনপি’র সিনিয়র অনেক নেতা এবং খালেদা জিয়ার আইনজীবীরাও বলছেন মানববন্ধন গণ-অনশন দিয়ে বেগম জিয়ার মুক্তি হবে না। এমনকি আইনি প্রকৃয়ায়ও তার মুক্তি হবে না। তাকে মুক্তির জন্য একমাত্র পথ হচ্ছে আন্দোলন।

জাতীয় নির্বাচনের পর দলের সিনিয়র নেতাদের একাধিক বৈঠকে দল পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই পেক্ষিতে ইতো মধ্যে বিএনপির অনেক অঙ্গ ও সহোযোগী পুনর্গঠনের নতুন কমিটি দেয়া হয়েছে। দল গোছাতে বিভিন্ন সময় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গতকাল স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় শহরে সমাবেশের কর্মসূচি শুরু হবে শিগগিরিই।

তিনি বলেন, আগামী ১৮ তারিখে বরিশালে, ২০ তারিখ চট্টগ্রাম ও ২৫ তারিখ খুলনায় সমাবেশ করবে বিএনপি। এই ৩ টা বিভাগে সমাবেশের তারিখ আমরা এখন পর্যন্ত কনফার্ম করেছি। আশা করছি আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে বাকী বিভাগীয় শহরগুলো সমাবেশ করতে পারবো।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ জেলে রয়েছেন। তার মুক্তির জন্য যে সকল কর্মসূচী দেয়া হচ্ছে তাতে মুক্তি মিলবে না এমন কথা বলছেন অনেক সিনিয়র নেতা। তাহলে কোন ধরনের আন্দোলনে তার মুক্তি মিলবে? আর সেই আন্দোলন কবে নাগাদ হতে পারে জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এগুলো আমাদের দলের নীতিগত এবং সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

এ ব্যাপারে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কর্মকাণ্ড করছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত আমদের মুখপাত্র দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলতে পারবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ জেলে রয়েছেন। তার মুক্তির জন্য যেসকল কর্মসূচী দেয়া হচ্ছে তাতে মুক্তি মিলবে না এমন কথা বলছেন অনেক সিনিয়র নেতা। তাহলে কোন ধরনের আন্দোলনে তার মুক্তি মিলবে? আর সেই আন্দোলন কবে নাগাদ হতে পারে জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এসকল বিষয় আমি বলতে পারবো না। এসকল বিষয় বলতে পারবে দলের মহাসচিব। ভিন্ন ভিন্ন লোকের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

এ বিষয়ে জানার জন্য বিএনপি মহাসচিবকে তার মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments