বিদায়ী বছরে লেনদেন কমেছে ১২ হাজার কোটি টাকা

187

আলোকিত সকাল ডেস্ক

‘‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আবারও দরপতন শুরু হয়। এই ইস্যুর পাশাপাশি প্লেসমেন্ট, উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির হিড়িক এবং নতুন অর্থবছরের বাজেটকে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজারে দরপতন চলছে’’

সদ্যবিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পুঁজিবাজারের লেনদেন কমেছে ১২ হাজার কোটি টাকা। চার মাস উত্থান আর আট মাস দরপতনের মধ্য দিয়ে পুঁজিবাজারে অর্থবছর শেষ হয়েছে। আর এই বছরে মোট ২৩৮ কার্যদিবস লেনদনে হয়েছে। তাতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তিনটি সূচকের মধ্যে দুটি কমেছে।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিদায়ী অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৩ কোটি ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৯৩৮ টাকা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ২৪৬ কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৪৩৮টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে লেনদেন কমেছে ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। যা শতাংশের হিসেবে কমেছে ৮ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে প্রধান সূচক বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের লেনদেন পুঁজি বেড়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা।

ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ গত বছরের চেয়ে ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪২১ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে। আর তাতে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি অর্থাৎ বাজার মূলধন বেড়েছে ১৫ হাজার ৮১ কোটি ৫৯ লাখ ৭২ হাজার ৪৫৪ টাকা। যা শতাংশের হিসেবে বেড়েছে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। তবে ডিএসইর বাকি দুটি সূচকই কমেছে। এর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক গত বছরের চেয়ে ৩০ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২৯ পয়েন্ট। অন্যদিকে শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫ হাজার ৮১ কোটি ৫৯ লাখ ৭২ হাজার ৪৫৪ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮১৬ কোটি ৩৭ লাখ ৬১ হাজার ৯২১ টাকায়।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে চলছে আস্থা ও তারল্য সঙ্কট। এই সঙ্কটে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে রয়েছেন। তাতে দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি গত বছরের বিদেশিরা ১৮৩ কোটি ৭০ লাখ ৮৪ হাজার ৯১৭টাকার কম বিনিয়োগ করেছে। যা সর্বশেষ আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছুদিন পুঁজিবাজারে নেতিবাচক ধারায় লেনদেন হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আবারও দরপতন শুরু হয়। এই ইস্যুর পাশাপাশি প্লেসমেন্ট, উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির হিড়িক এবং নতুন অর্থবছরের বাজেটকে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজারে দরপতন চলছে। আর দরপতনে বিদেশিরা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও নিস্ক্রিয়। এসব কারণেই মূলত চাঙ্গা হচ্ছে না পুঁজিবাজার।

আস/এসআইসু

Facebook Comments