বিনিয়োগকারীদের ২৮ হাজার কোটি টাকা হাওয়া

171

আলোকিত সকাল ডেস্ক

কোনো কিছুতেই আলো দেখছে না পুঁজিবাজার। নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই ধুঁকছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এ মাধ্যমটি। দরপতনের মধ্যদিয়ে নতুন অর্থবছরের দুই সপ্তাহ পার করল দেশের পুঁজিবাজার। আলোচিত দুই সপ্তাহে (২ জুলাই থেকে ১১ জুলাই) টানা আট কার্যদিবসে সূচক পতন হয়েছে। এই নয় কার্যদিবসে সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারিয়েছে শেয়ারবাজার। ফলে দুই পুঁজিবাজারে সূচক ও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে।

আলোচিত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বশেষ সপ্তাহে (৭ জুলাই থেকে ১১ জুলাই) বিনিয়োগকারীদের পুঁজি অর্থাৎ বাজার মূলধন কমেছে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে এর আগের সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগকারীদের ছয় হাজার কোটি টাকার পুঁজি হাওয়া হয়ে গেছে। ওই সপ্তাহে নতুন করে সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেন ও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম।

সর্বশেষ কার্যদিবস পর্যন্ত প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিনিয়োগকারীদের পুঁজি কমেছে ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি ৯০ লাখ ৪ হাজার ৫৩২ টাকা। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) বিনিয়োগকারীদের মূলধন কমেছে ১০ হাজার ৪৯২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজার ভালো হবে, বিনিয়োগকারীদের এই প্রত্যাশার ছিটেফোঁটাও পূরণ হচ্ছে না। বরং ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেট পাসের পর থেকে আবারও নগদ লভ্যাংশ দেয়ার পরিবর্তে কোম্পানিগুলো আগামীতে ‘নো ডিভিডেন্ট’ ঘোষণা করবে এমন গুজব ও ব্যাংক এবং আর্থিক খাতের দুরবস্থার খবরে হতাশা বিরাজ করছে পুঁজিবাজারে।

পাশাপাশি সুশাসনের অভাবে বাজারে পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ বিনিয়োগকারীদের। এছাড়াও গ্রামীণফোনের দেনা-পাওনা নিয়ে বিটিআরসি’র সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং পিপলস লিজিং কোম্পানির অবসায়ন ঘোষণায় নতুন করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ও তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে। পুঁজি ফিরে পাওয়ার পরিবর্তে নতুন করে পৌনে ২৮ লাখ বিনিয়োগকারীদের সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ফলে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। নতুন করে সৃষ্ট দরপতনের ফলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের হাহাকার বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে বলা হয়, নগদের পরিবর্তে বোনাস শেয়ার বিতরণের প্রবণতা কোম্পানিসমূহের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রত্যাশিত লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ জন্য বাজেটে বোনাস লভ্যাংশের ওপর কোম্পানিগুলোর জন্য ১০ শতাংশ কর ধার্য করা হয়েছে। এতে বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ প্রদানে নিরুৎসাহিত হবে।

লঙ্কা বাংলা সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিলে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। এমন নিয়ম করায় নগদ লভ্যাংশ দেবে না বরং ‘নো ডিভিডেন্ট’ লভ্যাংশ ঘোষণা করবে আশঙ্কা করছেন। আর তাতে বিদ্যমান দরপতনকে আরো বেশি ত্বরান্বিত করছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পুঁজিবাজার এখন চোরের বাজারে পরিণত হয়েছে। এখাতে কোন সুশাসন নেই।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের অডিট রিপোর্টের তথ্য তুলে ধরে ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, একটি কোম্পানি ভুয়া প্রসপেক্টাস তৈরি করে বাজার থেকে টাকা উত্তোলন করলো। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিষ্ঠান ও অডিটরের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছে।

সর্বশেষ বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের চেয়ে ১৫৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২২২পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএস-৩০ সূচক ৫২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৫৭ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক কমে ৩৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬০ কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, কমেছে ২৮১টি আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬৫টির, কমেছে ১৬৬টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩ কোম্পানির শেয়ারের দাম।

সূচক লেনদেনে ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমলেও আগের সপ্তাহের চেয়ে লেনদেন ১৬৫ কোটি টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১১২ কোটি ৮৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩৮ টাকা। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৯৪৭ কোটি ৪৭ লাখ ১৯ হাজার ১৩৩ টাকা।

সিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৭টির, কমেছে ২৪৬টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১০ কোম্পানির শেয়ারের দাম। তাতে সিএসইর প্রধান সূচক ৪৯৭ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৯৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৮৪ কোটি ২৭ লাখ ১৪ হাজার ১৯৫ টাকা। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২৪৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮৯ হাজার ৮৭৫ টাকা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments