“বিশুদ্ধতার প্রতীক পদ্ম ফুলের নগরী আলতাদিঘী”

23

 

আলতাদিঘী………

অপরুপ সৌন্দর্যের আরেক নাম। নওগাঁ জেলার অন্তর্গত ধামইরহাট উপজেলায় এ দিঘীটির অবস্থান, শহরের প্রাণ কেন্দ্র থেকে ভ্যান অথবা ইজিবাইকে করে ৫ কি.মি. যাত্রার পরেই আলতাদিঘী গ্রামে পৌঁছানো যাবে। আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সুবিশাল শালবন।

কথিত আছে, আনুমানিক ১৪০০ সালে এ অঞ্চলে রাজত্ব করতেন রাজা বিশ্বনাথ জগদল। রাজার রাজত্বকালেই একবার পানির প্রকট অভাব দেখা দেয়। মাঠ ঘাট শুকিয়ে চৌচির হওয়ায় আবাদি জমিতে ফসল ফলানো হয়ে ওঠে অসম্ভব। হঠাৎ একদিন রানী স্বপ্নে দেখলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না পা ফেটে রক্ত বের হবে ততক্ষণ তিনি হাঁটতে থাকবেন এবং যেখানে গিয়ে পা ফেটে রক্ত বের হবে ততদূর পর্যন্ত একটি দিঘী খনন করে দিতে হবে।

প্রজাদের দুঃখ দুর্দশা দূর করে রানী স্বপ্ন অনুযায়ী হাঁটার সিদ্ধান্ত নিলেন। সঙ্গে ছিল রানীর পাইক পেয়াদা, লোক লস্কর। অনেক দূর হাঁটার পরও যখন রানী থামছিলেন না, তখন পাইক-পেয়াদারা ভাবলেন এত বড় দিঘী খনন করা রাজার পক্ষে সম্ভব হবে না। এসময় তাদের একজন রানীর পায়ে আলতা ঢেলে দিলেন আর চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘রানী মা, আপনার পা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। একথা শুনে রানী সেখানেই বসে পড়েন।

রাজা বিশ্বনাথ ওই স্থান পর্যন্ত একটি দিঘী খনন করে দিলেন। এরপর অলৌকিকভাবে মুহূর্তেই বিশুদ্ধ পানিতে ভরে ওঠে দিঘী। রানীর পায়ে আলতা ঢেলে দেয়ার প্রেক্ষিতে দিঘীটির নামকরণ করা হয় আলতাদিঘী।

প্রায় ২৬৪.১২ হেক্টর এই বনভূমির ঠিক মাঝখানে রয়েছে ৪৩ একর আয়তনের বিশাল দিঘী। দিঘীর সচ্ছ পানিতে ফুটে থাকা হাজারো পদ্মফুল যে কোন ভ্রমণ পিপাসু মানুষকে বিমোহিত করবে। প্রতি বছর শীত যখন জেঁকে বসে, তখন ভারত সীমান্ত ঘেষা এই দিঘীতে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি এসে দিঘীর নির্মল পানিতে দাপিয়ে বেড়ায়,তাদের কলকাকলি আর চঞ্চল উড়াউড়িতে প্রাণ প্রাচুর্য মুগ্ধ হয় যে কোন বয়সের মানুষের হৃদয়।

দিঘীর পাড় ঘেষে বেড়ে ওঠা সু-বিশাল শালবনে সারি সারি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, বানর ছানার গাছে গাছে লাফানো আর জানা অজানা হাজারো পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে থাকে চারিদিক। বনের ভেতর দিয়ে পিচঢালা রাস্তা এঁকেবেঁকে চলেছে গন্তব্যে,রাস্তার দু’পাশে সারি সারি শাল গাছ,শুকনো শাল পাতার ফাঁকে বেড়ে ওঠা উইপোঁকার বড় বড় ঢিবি যা সত্যিই বিষ্ময়কর। রাতের আঁধারকে আলোকিত করে যখন চাঁদের রুপালী আলো দিঘীর শান্ত পানিতে পরে তখন সেই আলোয় ছোট বড় মাছেরা খেলায় মেতে ওঠে,অপরদিকে শেয়াল,বেজি আর বনবিড়ালের আনাগোনায় নতুন রুপে আবিষ্কার হয় রাতের আলতাদিঘী । আলতাদিঘীর আমাদের দেশের একটি অন্যতম পর্যটন এলাকা হতে পারে, তাই এর পরিবেশ সুন্দর রাখা আমাদের সবার দ্বায়িত্ব,বর্তমানে আলতাদিঘীটি ইজাদারদের নিকট ইজারা দেওয়া হয়েছে যা এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি বলে বিশেষজ্ঞগণ বিবেচনা করেন। আলতাদিঘীর সৌন্দর্য রক্ষায় কতৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করছি ।

Facebook Comments