বিশ্বকাপে যেমন ছিল টাইগারদের পারফরম্যান্স

198

আলোকিত সকাল ডেস্ক

টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয় পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। নয় ম্যাচে তিন জয় পাঁচ হার ও পরিত্যক্ত এক ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশের অর্জন ৭ পয়েন্ট! আসুন জেনে নেই বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরে টাইগাররা কে কেমন খেলেছেন?

খুব সহজে বললে, বলতে হয় ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান; ব্যাটে বলে দুই ধাপেই সাকিব ছিলেন অসাধারণ! বিশ্বকাপটাকে সাকিব নিজের করে নিয়েছিলেন! প্রতি ম্যাচে রানের পাশাপাশি বল হাতেও অবদান রেখেছেন।

সাকিবের সঙ্গে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেরা পারফরমারদের আরেকজন মুস্তাফিজুর রহমান। শেষ দুই ম্যাচে দুইবার পাঁচ উইকেট নিয়ে আলোচনায় এসেছেন এই কাটার মাস্টার। ২০টি উইকেট নিয়েছে পুরো আসরে!

আসুন ১৫ সদস্যেরর মধ্যে কে কেমন খেলেছেন? জেনে নেই-

তামিম ইকবাল :

দেশসেরা এই ওপেনার ভারতের বিপক্ষে রোহিত শর্মার ক্যাচ মিস করে হয়েছিলেন খলনায়ক! ৯ রানে জীবন পেয়ে রোহিত করেছিলেন ১০৪ রান! যেখানে ২৮ রানে হারে বাংলাদেশ।

দ্বাদশ আসরে ব্যাট হাতে এই টাইগার ওপেনার খেলেছেন সবকটি ম্যাচ! কেবল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে পারেননি; ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়াতে! বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে তামিম ২৯ বলে ১৬ রান করেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে! দ্বিতীয় ম্যাচে করেন ২৪ রান; শেষের ছয় ম্যাচে তামিমের রান যথাক্রমে ১৯, ৪৮, ৬২, ৩৬, ২২ ও ৮! পুরো আসরে কেবল একটি ফিফটি করেন তামিম; অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে- ৭৪ বলে ৬৪ রান করেছিলেন!

৮ ম্যাচে তামিমের মোট রান ২৩৫! গড় ২৯.৩৭।

সৌম্য সরকার :

তামিমের সঙ্গে ওপেনিংয়ে সফল ছিলেন না সৌম্যও! মোট ৮টি ম্যাচে করেছেন মাত্র ১৬৬ রান! গড় ২০.৭৫। কেবল সর্বোচ্চ ৪২ রান করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। যেখানে একটিও ফিফটির দেখা পাননি এই ওপেনার।

তবে বল হাতে তাক লাগানো বোলিং করেছেন সৌম্য! অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন এই পার্ট টাইম বোলার! এছাড়া ভারতের বিপক্ষেও ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছিলেন সৌম্য। সেঞ্চুরিয়ান রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের শিবিরে স্বস্তি এনে দিয়েছিলেন। পুরো আসরে সৌম্য শিকার করেন ৪ উইকেট!

সাকিব আল হাসান :

বিশ্বকাপে একমাত্র সফল বাংলাদেশি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান! ব্যাট-বল ও ফিল্ডিংয়ে ছিলেন দুর্দান্ত। সাকিব ৮ ম্যাচে করেছেন মোট ৬০৬ রান। গড় ৮৬.৫৭। যার মধ্যে পাঁচটি ফিফটি ও সেঞ্চুরি আছে দুটি! ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন তিন ম্যাচ!

বল হাতেও সাকিব সেরা। ১১টি উইকেট শিকার করেছেন আট ম্যাচে। এই আসরে সাকিবের বেস্ট বোলিং ছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে; ২৯ রানে পাঁচ উইকেট শিকার করেন সাকিব।

মুশফিকুর রহীম :

সাকিবের পর ব্যাট হাতে সফল ছিলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিক! তবে সাকিবের মতো ধারাবাহিক নয়; কিছু কিছু ইনিংসে। মুশিও খেলেছেন ৮ ম্যাচ, করেছেন ৩৬৭ রান; গড় ৪৫.৮৭।

তবে এই আসরে মুশির বিশেষ অর্জন বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়া আফগানদের বিপক্ষেও দুর্দান্ত খেলেন মুশি; ৮৩ রানের ইনিংস ছিল তার! আর টাইগারদের ওপেনিং ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন ৭৮ রানের ইনিংস!

লিটন কুমার দাস :

দ্বাদশ আসরটি ছিল বাংলাদেশের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে লিটনের অভিষেকের আসর! যদিও প্রথম তিন ম্যাচে একাদশে জায়গা হয়নি তার! তবে উইন্ডিজের বিপক্ষে জায়গা পান একাদশে! দলে ঢুকে ৯৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন লিটন। সাকিবের সঙ্গে দুর্দান্ত জুটি গড়ে বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি।

শেষের ৬ ম্যাচেই একাদশে ছিলেন লিটন। যেখানে করেছেন মোট ১৮৪ রান। গড় ৩০.৬৬! লিটন কেবল এক ম্যাচেই সফল ছিলেন। বাকি ম্যাচগুলোতে ছিলেন ব্যর্থ! তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২ রান; পাকিস্তানের বিপক্ষে।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ :

মিস্টার ফিনিশার খ্যাত মাহমুদউল্লাহও দ্বাদশ আসরে জ্বলে উঠতে পারেননি! ভারতের বিপক্ষে ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে একাদশে ছিলেন রিয়াদ! পঞ্চ পাণ্ডবদের এই একজন কেবল অজিদের বিপক্ষে নিজের সেরাটা দিয়েছেন; দলকে ৬৯ রানের একটি ইনিংস উপহার দেন তিনি। এছাড়া তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ৪৬, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

৭ ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর মোট রান ২১৯; গড় ৩১.২৮। এই আসরে ইনজুরির কারণে বল করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। প্রত্যাশানুযায়ী দলকে তেমন কিছুই দিতে পারেননি তিনি।

আবু জায়েদ রাহি:

বাংলাদেশ দ্বাদশ বিশ্বকাপ শেষ করল ১৪ ক্রিকেটারকে খেলিয়ে। ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ দলের একমাত্র আবু জায়েদ রাহিকেই খেলানো হয়নি। অথচ বিশ্বকাপের দল ঘোষণার পর এই পেসারকে নিয়ে কী নাটকটাই না হয়ে গেল। এই পেসারকে দলে নিতে কত যুক্তিই না দিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট! শেষ অবধি পর্যটক হয়েই থাকলেন আবু জায়েদ। শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি পরিবর্তন আসলেও সেই একাদশে সুযোগ হয়নি রাহির।

মোহাম্মদ মিঠুন:

প্রথম তিন ম্যাচে জায়গা পেলেও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুন! কেবল ৪৭ রান করেছেন মিঠুন! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬ রানের ছোট্ট একটি ইনিংস খেলেন! গড় ১৫.৬৬।

মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত :

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে দুর্দান্ত খেলছিলেন মোসাদ্দেক। তাতেই সবার মনে আশা জাগে হয়তো ইংল্যান্ডেও মাঠ মাতাবেন এই ২৩ বছর বয়সী তরুণ অলরাউন্ডার। কিন্তু কিছুই করতে পারেননি! প্রথম বিশ্বকাপে একটি ফিফিটিও পাননি মোসাদ্দেক। কেবল আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩৫ রানের বড় ইনিংস খেলেন।

৭ ম্যাচে মোসাদ্দেকের মোট রান ৯৬! গড় ১৩.৭১! প্রায় সবকটি ম্যাচেই ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছেন তিনি; তবুও কাজে লাগাতে পারেননি সুযোগ! আর বল হাতে মোসাদ্দেক পেয়েছেন ৩ উইকেট! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৩ রান দিয়ে দুটি উইকেট শিকার করেন এই অলরাউন্ডার।

সাব্বির রহমান :

মোসাদ্দেকের জায়গাতে খেলেন সাব্বির! ফলে একাদশে জায়গা নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু হয়! কাকে রেখে কাকে খেলাবেন টিম ম্যানেজমেন্ট! যদিও অধিকাংশ ম্যাচেই জায়গা হারিয়েছেন সাব্বির! কেবল সুযোগ পেয়েছেন ২ ম্যাচে!

দুই ম্যাচ সুযোগ পেয়েও টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি সাব্বির! করেছেন ৩৬ রান! অজিদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শূন্য রানেই ফিরেছিলেন তিনি! তবে টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন সাব্বির; যা তার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ।

মেহেদী হাসান মিরাজ :

কেবল এক ম্যাচ ছাড়া প্রতিটি ম্যাচেই একাদশে ছিলেন মিরাজ। এই টাইগার অলরাউন্ডারও প্রত্যাশানুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি! এই আসরে তার সর্বোচ্চ রান ১২! এছাড়া তার ইনিংস ছিল এমন-৫*, ৭, ১২, ৬, ৭*!

৭ ম্যাচে এই স্পিন অলরাউন্ডারের রান ৩৭! গড় ৫.২৮! বল হাতেও তেমন কিছু করতে পারেননি মিরাজ! সাত ম্যাচে পেয়েছেন ৬ উইকেট! এই আসরে তার সেরা বোলিং ফিগার ৪৭ রানে দুই উইকেট; নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে!

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন :

মিরাজের মতো এই আসরের দুই ম্যাচ বাদে সব ম্যাচেই একাদশে ছিলেন সাইফ! অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার একাদশের বাইরে থাকা নিয়ে উঠেছিল সমালোচনার ঝড়! এই টাইগার পেস অলরাউন্ডার চলতি আসরে ছিলেন ফিফটি-ফিফটি! বিশেষ করে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন কিছু ম্যাচে!

সাত ম্যাচে ১৩টি উইকেট শিকার করেছেন সাইফ! তার বেস্ট বোলিং ফিগার ৭২ রানে ৩ উইকেট! এছাড়া ব্যাট হাতে করেছেন ৮৭ রান! গড় ১২.৪২! অভিষেক বিশ্বকাপে সাইফ পেয়েছেন প্রথম ফিফটি। ভারতের বিপক্ষে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস খেলেন সাইফ!

মাশরাফি বিন মর্তুজা :

বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরটি মাশরাফির ছিল শেষ বিশ্বকাপ! স্বপ্ন দেখেছিলেন সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত খেলবে তার দল। দুর্ভাগ্য অধিকাংশ ম্যাচে পরাজয়ের কারণে ছিটকে যেতে হলো আসর থেকে!

বল হাতে এই আসরে ম্যাশের পারফরম্যান্স এমন- ০/৪৯, ০/৩২, ১/৬৮, ০/৩৭, ০/৫৬, ০/৩৭, ০/৩৬, ০/৪৬! কেবল ইংলিশদের বিপক্ষে একটি উইকেট পেয়েছেন নড়াইল এক্সপ্রেস! আর ব্যাট হাতে ৮ ম্যাচে করেছেন ৩৪ রান!

মুস্তাফিজুর রহমান :

দ্বাদশ আসরটি ছিল সাকিব আল হাসান আর মুস্তাফিজের রেকর্ডের আসর! শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচটি উইকেট শিকার করেন; এছাড়া আগের ম্যাচেও ফিজ শিকার করেছেন পাঁচ উইকেট! ক্রিকেট বিশ্বকাপে দ্বিতীয় বোলার ফিজ, যে কিনা পরপর দুই ইনিংসে পাঁচটি করে উইকেট শিকার করেছেন!

এই আসরে ফিজের উইকেট সংখ্যা আট ম্যাচে ২০টি!

রুবেল হোসেন :

টাইগার পেসার রুবেলের ছিল এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ! এই আসরে তিনি একাদশে জায়গা পেয়েছেন দুই ম্যাচে! জায়গা পেয়ে কেবল এক উইকেট! আর ব্যাট হাতে করেন ৯ রান!

আস/এসআইসু

Facebook Comments