বিশ্বজয়ে ক্রিকেটের ঘরে ফেরা

226

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বড় কোনো অর্জনের পর সমর্থকদের সঙ্গে মিলেমিশে বিজয় মিছিল নতুন কিছু নয়। আর ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের চেয়ে বড় আর কী রয়েছে! ভিক্টোরি-প্যারেডের প্রত্যাশা তাই বাড়াবাড়ি ছিল না। কিন্তু দেশটির ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড সে সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। কেন জানেন? কারণ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজের প্রস্তুতিতে তা বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

উৎসব উদ্‌যাপন অবশ্য তাতে থেমে থাকেনি। লর্ডস থেকে পরশু বিশ্বজয়ী ক্রিকেটারদের হোটেলে ফিরতে ফিরতে পেরিয়ে যায় রাত সাড়ে ১২টা। সবার গায়ে তখনো মাঠের পোশাক, অনেকের গলায় ঝুলে আছে বিজয়ের পদক। এরপর নিজেরা উৎসব করেছেন রাতভর। কাল ওভালে গিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে এউইন মরগানের দল।

ইংল্যান্ডে ক্রিকেট এমনিতে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে নেই। তার ওপর পরশু ইংল্যান্ডে ছিল খেলার আরো বড় দুই ইভেন্ট উইম্বলডন ফাইনাল ও সিলভারস্টোন গ্রাঁ প্রিঁ। তবু টিভিতে বিনা মূল্যে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখানোর সুবাদে অনেকের চোখ ছিল সেদিকে। আর যে রোমাঞ্চকরভাবে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতল স্বাগতিকরা, সেটি ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের নতুন জোয়ার সৃষ্টি করতে পারে। ফাইনাল শেষের সংবাদ সম্মেলনে আসা বিজয়ী অধিনায়ক মরগানের প্রত্যাশা সেটিই, ‘আমি আশা করব, এ জয় আবার ক্রিকেটের সঙ্গে দেশের মানুষকে সম্পৃক্ত করবে। অবশ্যই আজ খেলার এক বড় দিন। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল, উইম্বলডন ফাইনাল, সিলভারস্টোন গ্রাঁ প্রিঁ। রবিবারের এমন ছুটির দিনে লোকে হয়তো বাসায় টিভিতে ডেভিড অ্যাটেলবরোর অনুষ্ঠান দেখে কিংবা সিনেমা। আশা করছি, আজ তাঁরা ক্রিকেট দেখেছেন।’

৫০ ওভারের ম্যাচ টাই, সুপার ওভারও তাই, কেবল বেশি বাউন্ডারী মারার সুবাদে বিশ্বকাপ জিতল ইংল্যান্ড। ১২তম আসরে প্রথমবারের মতো বিশ্বসেরার মুকুট উঠল তাঁদের মাথায়। ক্রিকেটারদের মাথায় তুলে নাচানাচি করার চল ইংল্যান্ডে তাই না থাকলেও কী, বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ী বীরত্বের কাল বীরোচিত সম্মানই দিয়েছেন সমর্থকরা।

ওভালের ওই উদযাপনে বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে মাঠে আসে ইংল্যান্ডের পুরো দল। তাঁদের একটু স্পর্শ করার জন্য, ছবি তোলার জন্য, অটোগ্রাফ নেবার জন্য সমর্থকদের সে কী ভিড়! নিরাপত্তার বলয় আলগা হয়ে যায়, স্টোকস-বাটলার-আর্চাররা ভেসে যান জনসমুদ্রে। স্কুল পোশাক পরা ছোট্ট শিশুদের কী উল্লাস! গ্যালারিতেও তখন সমুদ্রের গর্জন। অ্যাশেজ জয়ের আলাগা গুরুত্ব, আলাদা মাহাত্ম্য, আলাদা সম্মান ইংলিশদের কাছে রয়েছে সত্যি। কিন্তু ছোট্ট ওই ছাইদানি জয়ে তো আর বিশ্বজয় হয় না! বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ট্রফি জিতে যেটি হলো! আবেগের সমুদ্রে ডুবে যাওয়া বাটলার তাই বলেন কাল, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারি না যে, কী হলো। সকালে ঘুম থেকে উঠেও বিশ্বকাপ জয়ের অর্জনের সঙ্গে ধাতস্থ হতে সময় লেগেছে। মনে হয় না, আর কখনো এত আনন্দ হবে। মনে হয় না, আর কখনো কোনো জয়কে এতো পরোয়া করব।’

সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপনেই শেষ নয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করতে ছুটতে হবে ইংল্যান্ড দলকে। সন্ধ্যায় তাঁর ডাউনিং স্ট্রিটের বাসভবনে বিশ্বসেরাদের ডেকে পাঠিয়েছেন থেরেসা মে। এই বিশ্বকাপ জয় ক্রিকেট এবং সামগ্রিক অর্থে ইংল্যান্ডের খেলাধূলার ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখবে বলে তাঁর বিশ্বাস, ‘দুর্দান্ত এক দলের দুর্দান্ত এক পারফরমস্যান্স ছিল এটি। ঘরের মাটিতে এমন রোমাঞ্চর অর্জন আমাদের ক্রীড়া ইতিহাসে চির অমলিন হয়ে থাকবে। আমি এটি ভেবেও রোমাঞ্চিত যে, এ বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেক শিশু জীবনে প্রথমবারের মতো ব্যাট ধরবে আর ভাববে ভবিষ্যতে গ্রেট ক্রিকেটার হতে চায়, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চায়। ইংল্যান্ডের খেলাধুলার অগ্রগতিতেই এটি এক বড় পদক্ষেপ।’

ইংল্যান্ডের অন্যান্য খেলায় না হোক, ক্রিকেটের বাঁকবদলে এটি তো অবশ্যই বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বকাপ জয়ের চেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আর কী হতে পারে!

আস/এসআইসু

Facebook Comments