বিষফোঁড়া এখন কাঁচাবাজার

163

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সারাদেশে বৃষ্টি শুরুর পর থেকে গত দুই সপ্তাহে লাগাতার বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। বর্তমানে কোনো সবজির দামই ৫০ টাকা কেজির নিচে নেই। আর এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি বেড়ে গেছে ১০০ টাকা।

আদা ও রসুনের দামও লাগামহীন বাড়ছে। তবে পেঁয়াজের দাম বাড়তির পর কিছুটা কমলেও ডিমের দাম রয়ে গেছে আগের মতোই চড়া। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

কাঁচাবাজারে কোন কিছুর দাম নির্ভর করে মূলত কারওয়ান বাজারের পাইকারি দামের ওপর। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ঢাকায় সবজির সরবরাহ প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। এ কারণে দাম বেড়ে গেছে। এতে করে কাঁচাবাজার যেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের কাছে এখন বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, গত কয়েকদিনে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়।

অথচ গত সপ্তাহে এর দাম ছিলো ৬০ থেকে ৭০ টাকা। কারওয়ান বাজারের মরিচের পাইকারি ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে মরিচ ক্ষেত। একটু পানিতেই মরিচ গাছ মরে যায়।

এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের অনেক এলাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় সেখানকার মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

ওই এলাকা থেকেই বেশি মরিচ আসে ঢাকায়। তাদের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকায় মরিচের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ফলে দাম অনেকটা বেড়ে গেছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে আদা ও রসুনের দামও। এই দুটি জিনিসের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে এগুলোর দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ বলতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি চীনা রসুন ১৬০ টাকা, দেশি রসুন ১৩০ টাকা, চীনা আদা ১৪০ টাকা, থাইল্যান্ডের আদা ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দিন দশেক আগে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও ভারতীয় বড় পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বলেন, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিনই পাইকারি বাজারে আদা ও রসুনের দাম বাড়ছে। তবে কি কারণে দাম বাড়ানো হচ্ছে তা তিনি বলতে পারেননি।

সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ টাকা কেজির নিচে আছে মাত্র দুটি সবজি। কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা ও কুমড়া ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এর বাইরে বাকি সব সবজির দামই ৫০ থেকে ৮০ টাকা।

কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন ৮০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, পটোল ৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা এবং প্রতি পিস লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সালাদ জাতীয় সবজি। প্রতি কেজি টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা, দেশি শসা ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দাম এখনো আগের মতোই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিমের জন্য গুনতে হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।

তবে মুরগির মাংসের দাম কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ও পাকিস্তানি কক ২২০ থেকে ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া গরুর মাংস বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। মাছের দামও আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments