বিড়াল হত্যা, তরুণীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

354

আলোকিত সকাল ডেস্ক

এবার একটি বিড়ালের বাচ্চা মেরে ফেলে ফেইসবুকে ভিডিও ছাড়ায় আদালতে দৌড়াতে হবে এক তরুণীকে। যে কাজের জন্য তাকে এর আগে একদিন জেলের ভাতও খেতে হয়েছে। বিড়াল হত্যা করে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইশরাত জাহান মেহ্জাবীন (১৭) নামের এক তরুণীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন চন্দ্র দেবনাথ গত ৩১ মে চার্জশিটটি দাখিল করেন। সংশ্লিষ্ট থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মো. আশরাফ সোমবার বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা আইন, ১৯২০ এর ৭ ধারায় চার্জশিটটি দাখিল করা হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই ধার্য তারিখে চার্জশিটটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। চার্জশিটে ১২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

আসামির বিরুদ্ধে যে ধারায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে সেই ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৬ মাসের কারাদন্ড, সেই সাথে ২০০ টাকা অর্থদন্ডের কথা বলা হয়েছে।

এদিকে চার্জশিটে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গত ১৭ মে যে কোন সময়ে একটি বড় বিড়াল ২/৩ দিন বয়সের একটি ছোট বিড়াল ছানাকে আসামি ইশরাত জাহান মেহ্জাবীনের বাসার খাটের নীচে রেখে যায়। এরপর ওইদিন রাত ১০ টার দিকে ইশরাত তার রুমে রেক্সিনের কাগজের ওপর প্লাস্টিকের পাইপ এবং লোহার ছোঁড়া দিয়ে বিড়ালের ছানাটিকে হত্যা করে। বিড়াল ছানাটি হত্যা করার সময় ইশরাত সেটি তার মোবাইলে ভিডিও করে।

এরপর বিড়াল ছানাটির মৃত দেহ এবং প্লাস্টিকের পাইপটি একটি পলিথিনে ভরে ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেয়। পরদিন ময়লাওয়ালা ময়লা নেয়ার সময় ঝুড়ি থেকে এগুলো নিয়ে যায়। এরপর ১৯ মার্চ রাতে ইশরাত তার ফেসবুক আইডিতে বিড়াল ছানা হত্যার ভিডিওটি আপলোড করে। আবার ওই রাতেই ভিডিওটি ডিলিট করে দেয়।

একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন গত ২১ মার্চ মুগদা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ওইদিনই রাজধানীর গোপীবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করে পুলিশ। পরবর্তীতে ওই তরুণী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অসম্মতি জানান। ওইদিন তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ১৭ মার্চ রাতে একটি বিড়ালছানা হত্যা করে ওই তরুণী। ১৯ মার্চ নিজের ফেসবুক আইডিতে হত্যার ভিডিও ও মৃত বিড়ালের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বেশ কিছু ছবি আপলোড করেন তিনি।

এদিকে গ্রেপ্তারের পর ওই তরুণী জানিয়েছিলেন, তিনি ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী। ২০১৭ সালে এসএসসি পাস করেছেন, তবে অসুস্থতার কারণে পড়াশোনা আপাতত বন্ধ রয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments