বিয়ের দাবিতে বাড়িতে প্রেমিকা, পালিয়েছেন প্রেমিক

202

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সাতক্ষীরায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক তরুণী। তবে তার আগেই পালিয়ে গেছেন প্রেমিক আবু সাঈদ। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের বাঁশঘাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেওয়ার পর সাঈদের বাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে তার মুঠোফোন ভেঙে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী।

এ বিষেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আমিনা খাতুন বলেন, ‘বাঁশঘাটা গ্রামের রেজাউল বকসের ছেলে আবু সাঈদের সঙ্গে প্রায় ছয় বছর ধরে ওই তরুণীর প্রেম চলছিল। তাকে বিয়ে করবে বলে আবু সাঈদ তার সাথে দৈহিক মেলামেশাও করেছে বলে দাবি মেয়েটির।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেয়ের বাবা তাকে অন্য কোথাও বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে আবু সাঈদ তা বিভিন্ন কৌশলে ভেঙ্গে দিয়েছে। গত তিন থেকে চার দিন আগে ওই তরুণী সাঈদকে বিয়ের কথা বলতে তার বাড়িতে আসে। এ সময় বাড়ির লোকজন কৌশলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে পাশের রাস্তায় পাঠিয়ে দিলে সেখানেই অবস্থান নেয় মেয়েটি। সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রাস্তায় থাকার পর তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। মেয়েটি এ সময় বারবার বলে, “সাঈদ আমাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা না দিলে আমি ভিন্ন পথ অবলম্বন করব।”

ওই তরুণী জানান, তিনি এইচএসসি পাস করার পর ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এর আগে তাদের গ্রামের ইটভাটার ম্যানেজার আবু সাঈদ তাকে চলার পথে বারবার উত্ত্যক্ত করতেন। এক পর্যায়ে তিনি সাঈদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

তরুণীর দাবি, ‘সাঈদ আমাকে বিয়ে করবে কথা দেয়। পরে এই সুযোগে সাঈদ আমাকে দৈহিকভাবে ব্যবহার করেছে। সাঈদের বাবা টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটমাট করতে চায়। কিন্তু আমি বলেছি টাকা দিয়ে প্রেম ভালাবাসা বেচাকেনা করা যায় না।’

তরুণী জানান, বিয়ের বিষয়ে জানতে কয়েকদিন আগে তিনি সাঈদের বাড়িতে যান। তবে এ খবর পেয়ে সাঈদ বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই তরুণী ফের সাঈদের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখন আমি আর আমার বাবা-মার কাছে আশ্রয় পাচ্ছি না। আবু সাঈদ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তার মা-বোন আমাকে মারধর করে বের দিয়েছে। এখন আমি কী করব, কোথায় দাঁড়াব?’

এ বিষয়ে জানতে আবু সাঈদের বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে তার বোন সাবিহা জানান, সাঈদ বাড়িতে নেই। তবে মঞ্জিলা খাতুনের বিষয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments