মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে হচ্ছে বাংলাদেশ রিসার্চ সেন্টার; চুক্তি সাক্ষর

281

তানভীর ইউসুফ রনীঃ বাংলাদেশের বঙ্গমাতা ন্যাশনাল সেলুলার ও মলিকুলার রিসার্চ সেন্টার এবং কানাডার বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাকগিল এর সাথে ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবন নির্মান ও বাংলাদেশী স্কলারদের কানাডায় উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থায় মন্ট্রিয়লে একটি চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও কানাডার চলমান বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।

পন্য, বিনিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও সংস্কৃতি বিনিময়, লোকবল নিয়োগ সহ বিভিন্ন খাতে কানাডা এবং বাংলাদেশ একে অপরকে সাহায্য করে আসছে অনেকদিন ধরে। নতুন এই ‘মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং, মওউ’ কিংবা চুক্তির ফলে মন্ট্রিয়লের সুখ্যাত ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ‘বাংলাদেশ রিসার্চ সেন্টার’ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। সেই সাথে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ থেকে কমপক্ষে ৩০ জন পিএইচডি ও পোষ্ট ডক্টরেট শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার জন্য শীঘ্রই ম্যাকগিলে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

এই শিক্ষা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দিবে এবং বাংলাদেশের নাম বিশ্বে সমুজ্জ্বল করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এসময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষ বার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গমাতা ন্যাশনাল সেলুলার ও মলিকুলার রিসার্চ সেন্টার এবং ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্বাবধানে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ স্কলারশিপ চালু করার প্রস্তাবও দেয়া হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। কানাডার মন্ট্রিয়লে অনুষ্ঠিত চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য ও আন্তঃ সংসদীয় ইউনিয়নের সভাপতি প্রফেসর ডাঃ হাবিব মিল্লাত এমপি।

এসময় তাঁর সাথে ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের পরিচালক ডাঃ মাহমুদুজ্জাহান, কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান, প্রজেক্টটির উদ্যোক্তা ডাঃ আবু সাদাত নোমান, অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের মিনিস্টার মিয়া মোঃ মাইনুল কবির এবং কাউন্সিলর (বাণিজ্যিক) মোঃ শাকিল মাহমুদ। বাংলাদেশের এই প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপ্যাল এবং ভিসি ম্যাদাম সুজান ফরতিয়ের।

ম্যাকগিল ভিসি এসময় ম্যাকগিলে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রসংশা করেন। তিনি বলেন আগামীতে যারাই বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য ম্যাকগিলে আসবেন তাঁরাও বাংলাদেশ এবং ম্যাকগিলের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবেন। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন ডাঃ জোসেফিন, প্রফেসর এডিথ জরিখতা, প্রফেসর ডাঃ হাবিব মিল্লাত এমপি, ডাঃ মাহমুদুজ্জাহান, রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান এবং ডাঃ আবু সাদাত নোমান।

চুক্তি সাক্ষরের পর প্রস্তাবিত বাংলাদেশ ভবনের ডিজাইন এবং বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের ভিডিওচিত্র পরিবেশন করা হয়।

Facebook Comments