মূল আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় শঙ্কিত রিফাতের স্বজনরা

320

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বরগুনায় দিনে-দুপুরে স্ত্রীর সামনে শাহনেওয়াজ রিফাতকে (রিফাত শরীফ) কুপিয়ে হত্যায় জড়িত প্রধান আসামিরা এখন পর্যন্ত গ্রেফতার না হওয়ায় শঙ্কা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার স্বজন-শুভানুধ্যায়ীরা। যদিও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, প্রধান ঘাতকসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

জেলা পুলিশের তথ্যানুযায়ী, রিফাত শরীফকে হত্যার ঘটনায় এরইমধ্যে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত চারজন এবং বাকি চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ভিডিও ফুটেজ দেখে ও হামলাকারীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য ঘেঁটে।

এ আটজনকে গ্রেফতার করা হলেও রিফাতের স্বজনসহ স্থানীয়দের মাঝে এখনো স্বস্তি আসেনি। তারা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের ৬ দিন অতিবাহিত হলেও রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় প্রকৃত দোষীরা শাস্তি পাবে কি-না, এ নিয়ে তারা শঙ্কিত। তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

কলেজছাত্র শোভন বলেন, নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী আগে থেকেই মাদকসহ বহু মামলার আসামি। তারপরও তারা বীরদর্পে ঘুরছে। ঘটনার ৬ দিন অতিবাহিত হলেও হত্যাকাণ্ডে এ দু’জনকে এখনো গ্রেফতার হয়নি। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিচার দাবি জানাই।

স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপর হলে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীসহ মামলার মূল আসামিদের গ্রেফতারে এতো বেগ পেতে হতো না। সময় যাচ্ছে, কিন্তু মামলার মূল আসামিরা গ্রেফতার হচ্ছে না। এভাবে বিলম্বিত হলে তাদের পার পেয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকে যায়।

ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি জানিয়ে রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ অবিলম্বে প্রধান আসামিদের গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়েছেন।

বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন রোববার (৩০ জুন) তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আসামিরা নজরদারিতে রয়েছে। খুব শিগগির তাদের গ্রেফতারে সক্ষম হবে পুলিশ এবং ভালো সংবাদ দেওয়া হতে পারে।

তথ্যানুযায়ী, বরগুনা পৌর শহরের ডিকেপি রোড এলাকার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে সাব্বির আহমেদ নয়ন (নয়ন বন্ড)। তবে তাদের আদিনিবাস পটুয়াখালী জেলার দশমিনায়।

ছিনতাই, ছাত্রদের মোবাইল জিম্মি করে টাকা আদায়, যাকে-তাকে ধরে মারধর থেকে তার অপরাধ প্রবণতা শুরু হলেও ধীরে ধীরে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

নয়নের নেতৃত্বে স্থানীয় যুবকদের নিয়ে একটি গ্রুপও তৈরি করা হয়। যার প্রধান সহযোগী ছিলেন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি সড়কের দুলাল ফরাজীর দুই ছেলে রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী। তারা বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেনের আত্মীয় বলে এলাকায় পরিচয় দিয়ে থাকেন।

আর নয়ন বন্ডের সঙ্গে বর্তমান সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের ‘সখ্য’ রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। যদিও এ নিয়ে চলছে আওয়ামী লীগের দু’টি গ্রুপের মধ্যে চলছে কাঁদা ছোড়াছুড়ির ঘটনা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments