মোংলার মাছমারা খালের ব্রিজ মরণ ফাঁদ!

236

আলোকিত সকাল ডেস্ক

মংলা পোর্ট পৌরসভার শেষ প্রান্তের মোংলা নদী সংলগ্ন মাছমারা খালের কাঠের ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় অনেকটা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ ব্রিজ এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। দুবছর আগে এই ব্রিজ থেকে পড়ে এক বৃদ্ধা নিহত হন। এছাড়া প্রায় সময়ই দুর্ঘটনায় লোকজন আহত হচ্ছেন।

মোংলা পোর্ট পৌরসভার শেষ প্রান্ত মাছমারা খালের উপর কয়েক বছর আগে বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন ব্রিজটি নির্মাণ করে। এরপর তারা একবার ব্রিজটি সংস্কারও করে দিয়েছিল। পরে ঐ সংস্থা মোংলা থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিলে ব্রিজটি আর সংস্কার হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঠের ব্রিজটির অধিকাংশ স্থানই ভাঙা। কাঠের পাটাতন নেই বললেই চলে। লোহার কাঠামোর সঙ্গে কোথাও মাঝখানে সরু একটি কাঠ, আবার কোথাও দুই পাশে দুটি সরু কাঠের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে লোকজন ব্রিজটি পার হচ্ছে।

মাছমারা গ্রামের সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেফালী বিশ্বাস ও নারকেলতল গঠন এডুকেশন সেন্টারের প্রধান শিক্ষিকা প্রীতি বালা বলেন, পৌরসভা ও পার্শ্ববর্তী চাঁদপাই এবং সোনাইলতলা ইউনিয়নের জয় খাঁ, পাকখালী, মাকঢ়ঢোন, মাছমারা ও নারকেলতলা গ্রামের প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দা এ ব্রিজ পার হয়ে মংলা শহরে যাতায়াত করে। দুবছর ধরে ব্রিজটির কোনো সংস্কার না করায় খুবই বিপদের মধ্যে আছি। এই ব্রিজের দুই পাড়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্রিজ পার হয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয়। এই ভাঙা ব্রিজের কারণে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

গঠন এডুকেশন সেন্টারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জিয়ারুল শেখ, সৈকত আকন, মনিরুল, সুমন ফরাজীসহ প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী বলে, বাবা-মা সঙ্গে না থাকলে তারা খুবই ভয়ে ভয়ে এ ব্রিজ পার হয়। একটু বৃষ্টি হলেই ব্রিজের ওপর এমন পিচ্ছিল হয় যে তাদের মতো শিশুরা তখন আর ব্রিজ পার হতে পারে না। পা ফসকে গেলেই খালে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এই ব্রিজ দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে।

নারকেলতলা গ্রামের পল্লী চিকিত্সক পবিত্র বৈরাগী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নির্মল রায় ও পাকখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা দিনমজুর শাজাহান বলেন, ২০১৭ সালে এই ব্রিজ পার হওয়ার সময় কুলসুম বেগম নামে এক বৃদ্ধা পড়ে গিয়ে মারা যান। এটি এখন মানুষ মারার ব্রিজে পরিণত হয়েছে।

মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র জুলফিকার আলী বলেন, ব্রিজের এই দুরবস্থার কথা আমার জানা ছিল না। এলাকাবাসীও আমাকে এ বিষয়ে মৌখিক বা লিখিতভাবে কিছুই জানায়নি। মূলত ব্রিজটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন নির্মাণ করে দিয়েছিল। এরপর একবার তারা সংস্কারও করে দেয়। সে কারণে পৌর কর্তৃপক্ষ এর সংস্কার কাজ করেনি। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ ব্রিজটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments