মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে জামালগঞ্জে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

258

মোঃ আবুল কালাম জাকারিয়া

সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি ও আললোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ‘মাছ চাষে গড়ব দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এবং ‘মৎস্য সেক্টর সমৃদ্ধি, সুনীল অর্থনীতির অগ্রগতি’- এই স্লোগান ও প্রতিপাদ্যক সামনে রেখে র‌্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এসে আললোচনা সভায় মিলিত হয়। আললোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল। এত স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমিত পন্ডিত।
সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ। বিশষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম জিলানী আফিদী রাজু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বীনা রানী তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল হক, জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদ) মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সিএনআরএস উপজেলা ম্যানেজার ইয়াহহিয়া সাজ্জাদ, ব্যবসায়ী পংকজ পাল চধুরী, উপজলা সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি মা. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, হাওর বাঁচাও-সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন পুরকায়স্থ।

স্বাগত বক্তব্যে মৎস্য কর্মকর্তা অমিত পন্ডিত বলেন, বর্তমানে বাংলাদশ মাছ উৎপাদনে উদ্বত্ত। মাছে উৎপাদন বাংলাদেশ এখন বিশ্বের তৃতীয় অবস্থানে আছে। চাষের মাছ বাংলাদশ বিশ্বে পঞ্চম। প্রাকৃতিক ও চাষের মাছ মিলিয়ে বাংলাদেশ চতুর্থ। প্রধানমন্ত্রী জননৃত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মায়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্র জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন ১ লাখ ১৮ হাজার ৮শ’১৩ বর্গ কিলামিটার এলাকার উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে আমাদের ব্লু ইকানামি বা সুনীল অর্থনীতিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সর্বোপরী ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি উন্নত দেশ তথা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ায় মৎস্য খাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আমরা হাওর পারের মানুষ। এখানকার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস্য ধান ও মাছ। বর্তমানে এ উপজলায় বিভিন প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে। ২০১৭-১৮ সালে বাংলাদেশ যমন লক্ষ্যমাত্রার চয় বেশি মাছ উৎপাদন হয়েছে এবারও এর চেয়ে বশি উৎপাদন হবে আমরা আশা করি। এ এলাকার মৎস্যজীবী ও মৎস্য চাষীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় আমাদের এ সফলতা ধরে রাখতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল বলেন, এই হাওর অঞ্চল প্রাকৃতিকভাবই প্রচুর মাছ উৎপাদন হয়। হাওর, জলাশয়, নদীনালা মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়পছে। বাংলাদেশ মাছ রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। আমাদের গর্বের বিষয়, আনন্দের বিষয় সারা বিশ্বে প্রাকৃতিক উৎস থেকে ৯০ লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়। বাংলাদেশে উৎপাদন হয় ১০ লাখ টন। বাংলাদেশে যেভাব মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে আমরা আশাবাদী কয়েক বছরের মধ্যেই আমরা বিশ্বের প্রথম স্থানে পৌঁছে যাব।

আস/এসআইসু

Facebook Comments