ময়মনসিংহে ধর্ষক কাজল র‌্যাবের অভিযানে আটক ॥ ভিডিও উদ্ধার

646

 

ময়মনসিংহে কিশোরী গণধর্ষণের অভিযোগের কয়েক ঘন্টার মধ্যে মূলহোতা ধর্ষক কাজল মিয়া আটক করেছে র‌্যাব-১৪। কাজল মিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহ সিটির আকুয়া উলঙ্গা পাড়ায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের মিডিয়া অফিসার ও সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ তফিকুল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার সকালে র‌্যাব-১৪ এর কার্যালয়ে এসে এক কিশোরী অভিযোগ করেন, গত বুধবার তার বোন ও দুলাভাই বাড়িতে না থাকার সুযোগে কাজল ও কাউছার নামে দুই ব্যক্তি ইলেক্ট্রিক কাজরে কথা বলে বাসায় ঢুকে। পরে ঐ দুই ব্যক্তি ৭ম শ্রেণী পড়–য়া কিশোরীকে তাদের সাথে দৈহিক মেলামেশার প্রস্তাব দেয়। তাদের প্রস্তাবে ঐ কিশোরী রাজী না হলে তাকে হত্যার হুমকিসহ ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় অভিযুক্তরা ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করে এবং পরে তারা ঐ ভিডিও দেখিয়ে কিশোরীর পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবী করে।

র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়কের কাছে এ ধরণের অভিযোগ করায়, কোন কালপেন না করে র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের সহায়তা মিডিয়া অফিসার ও সহকারী পুলিশ সুপার তফিকুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিম ধর্ষকদের আটকে অভিযানে নামে। অভিযানে তাৎনিক ধর্ষকদের মূলহোতা কাজল মিয়াকে আটক করা হয়। কাজল মিয়া আকুয়া উলঙ্গাপাড়ার মৃত আবু হানিফের ছেলে। র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত কাজল মিয়া ধর্ষণের অপরাধ স্বিকার করেছে। এছাড়া তার কাছ থেকে ঐ ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ভিডিওতে ধর্ষণের আলামত প্রমাণ মিলেছে। কাজল মিয়াকে কোতোয়ালী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে।

র‌্যাবের অধিনায়ক এফতেখার আহম্মেদ বলেন, কিশোরী ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধের অভিযোগ পেয়ে তাৎনিক সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি টিমকে নির্দেশ দেই যেখান থেকেই হোক এই জঘন্য অপরাধীকে আটক করে নিয়ে আসতে হবে। ঐ নির্দেশের আলোকে মাত্র কয়েকঘন্টার মধ্যেই কাজল মিয়াকে আটক করে দলটি।

পুলিশ সহ একাধিক সুত্রে জানা গেছে, কাজল মিয়া একজন ভয়ংকর অপরাধী। তার বিরুদ্ধে এক বিধবার জায়গা দখল, ঘরে তালা লাগিয়ে দেয়া, বসতবাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আকুয়া সালেহা আচার ফুড প্রডাক্টস ও ঐ প্রতিষ্ঠানের মালিকের বাড়িতে হামলা, গোলাম মোস্তফা নামক এক ঠিকাদারের জমি দখল করে তার কাছে চাঁদা দাবী করে। চাঁদাদাবীর ঘটনায় মামলা হলে জামিনে মামলার বাদিসহ অন্যান্যদের খুনের হুমকি, সালেহা আচার কোম্পানী বন্ধ করে দেওয়া, মোটরসাইকেল যোগে মোড়লবাড়ি এলাকায় মহড়া, খুনের হুমকি, নয়াপাড়ায় রাস্তা বন্ধকরণ, ওয়ারলেস গেইটের দণি পাশ এলাকায় জুয়ার আসর প্রতিষ্ঠাসহ মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। গত ১০ জুলাই আদালত থেকে বের হয়ে আবারও নানা অপরাধ, বিভিন্ন লোকজন ও মামলার বাদি এবং পরিবারকে ভয়ভীতি হুমকি দিয়ে আসতে থাকাবস্থায় ৩ জুলাই কিশোরী ধষর্ণের মত জঘন্য অপরাধ করে। এদিকে স্থানীয়বাসি গণধর্ষণে অপর অভিযুক্ত কাউছারকে জরুরীভাবে গ্রেফতারের দাবী উঠেছে।

 

Facebook Comments