যখন পড়বে না পায়ের চিহ্ন

325

আলোকিত সকাল ডেস্ক

কখন যে পথ আপনি ফুরালো, সন্ধ্যা হলো যে কবে! রবীন্দ্রনাথের কাছে সমাপ্তির মানে অনেকটা এমনই। আসলে দেখতে দেখতেই একটা সময় মানুষ জীবনের লাস্ট স্টেজে চলে আসে। কখন যে তার পথচলা শুরু হলো, আর কখন শেষ- যেন টেরই পাওয়া যায় না। ব্যাট-বলের ক্রিকেটও সেই সমাপ্তির বাইরের নয়। একটার পর একটা সিঁড়ি বেয়ে আজ বা কাল বিদায় নিতেই হয়। সেটা কারও জন্য হয় রঙিন, কারও আবার মলিন। এই দুইয়ের মাঝে বন্দি হওয়াও স্বাভাবিক। যেমনটা মাশরাফি বিন মুর্তজা, ক্রিস গেইল, লাসিথ মালিঙ্গা, মহেন্দ্র সিং ধোনি, ইমরান তাহির, হাশিম আমলা আর শোয়েব মালিকের ললাটে জুটেছে। আশার ফানুস উড়িয়ে যাদের যাত্রা হয়েছিল, তাদের এবার বিষণ্ণ বদন নিয়ে ফিরতে হলো ইংল্যান্ড থেকে। কারও শেষ বিশ্বকাপ, কারও ওয়ানডে ক্রিকেটেরও ইতি।

সেভেন স্টার। সবারই লম্বা ক্যারিয়ার। যার মাঝে ছিল অসংখ্য উত্থান-পতন। কখনও চোট, কখনও ফর্মহীনতায় ভুগে আবার জ্বলে ওঠার আনন্দ। তার পরও দিন শেষে সবার মনে একটা ইচ্ছা থাকে- শেষ বেলায় কিছু দিয়ে যাওয়া। অন্তত ঝলমলে একটা সমাপ্তি যে চাই। অথচ এই সাতজনের হয়েছে তার উল্টো। সবশেষ ধোনি গেলেন রাজ্যের হতাশা নিয়ে। টুর্নামেন্টের প্রথম থেকে ভারত ছিল উজ্জ্বল। গ্রুপ পর্ব পার করে সেমিফাইনালের টিকিটও কাটে দারুণভাবে। কিন্তু গন্তব্যের কাছাকাছি এসে ডুবে যায় তাদের আশার ভেলা। ধোনির জন্য কষ্টটা এ জন্য বেশি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেদিন তিনিই হতে পারতেন জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি। উত্তাল সমুদ্রে একটা সময় বৈঠাও ধরেছিলেন ধোনি। পারেননি শেষ পর্যন্ত আগলে রাখতে। তাতে ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্ন রাঙাতে না পারার হতাশা হয়তো অনেক দিন তাকে তাড়িয়ে বেড়াবে। একই পথের পথিক হয়েছেন মাশরাফি, গেইল, তাহির, আমলা ও মালিক। ক্রিকেটের ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ আর পড়বে না তাদের পায়ের চিহ্ন। অবশ্য টাইগার দলনেতার ব্যক্তিগত অর্জনের ঝুলিটা অপূর্ণ থাকলেও দলগতভাবে বাংলাদেশ খুব বেশি খারাপ করেনি। দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানদের বিপক্ষে জেতার পাশাপাশি বড়বড় দলগুলোরও ঘাম ঝরিয়েছে। কুড়িয়েছে দেশি-বিদেশি দর্শকদের বাহ্বা। সমীহ আদায় করেছে জয়ী দলগুলোর অধিনায়ক, কোচ থেকে শুরু করে সাবেক তারকাদের থেকে।

লংকানরা নীরবে অনেকদূর পাড়ি দিয়েছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঝিমিয়ে ঝিমিয়েও একটা সময় জেগে উঠেছিল। ‘চোকার’খ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়মিত হারের পর জয়ের হাসি নিয়ে দেশে ফিরেছিল। কিন্তু এই দলগুলোর মধ্যে যাদের ছিল শেষ বিশ্বকাপ, তাদের শূন্যতা যে থেকেই গেল। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের হিসাব মেলালে মালিঙ্গার পাল্লাটা ভারীই দেখাবে। বিদায়ী বিশ্বকাপে বল হাতে তিনি অনেক কিছু পেয়েছেন। স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট জমিয়ে দেওয়ার অন্যতম কারিগর এই পেসার। আসরজুড়ে আলো ছড়িয়ে নিয়েছেন সাত ম্যাচে ১৩ উইকেট। যার সুবাদে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি উইকেট টেকারেও নাম উঠেছে তার। ৭১ উইকেট নিয়ে যে তালিকার নাম্বার ওয়ান অসি কিংবদন্তি ম্যাকগ্রা। সেখানে ৫৬ উইকেট পাওয়া মালিঙ্গা দখলে নিয়েছেন তিন নম্বর আসন। তার পরও মনের মাঝে অপ্রাপ্তির একটা বীণা বাজছেই। ইশ! যদি আরেকটু এগোনো যেত। যদি এই লগ্নে তাহার (সোনালি ট্রফি) দেখা পাওয়া যেত।

আস/এসআইসু

Facebook Comments