যার জবানবন্দিতে ফেঁসে গেলেন মিন্নি

861

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বরগুনা আলোচিত প্রকাশ্যে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন মামলার প্রধান সাক্ষী ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ওরফে মিন্নি।

মিন্নি এ হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

মিন্নি যে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আদালতে সেটি জোরালোভাবে দাবি করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরও।

মূলত রিফাত হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয়ের জবানবন্দিতে রিফাত হত্যার পরিকল্পনায় মিন্নির জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। একটি জবানবন্দির কারণেই রিফাত হত্যাকাণ্ডে ফেঁসে যান মিন্নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বুধবার আদালতকে জানান, ঘটনার আগের দিন (২৫ জুন) মিন্নি নয়ন বন্ডদের বাড়িতে গিয়ে এ হত্যার পরিকল্পনায় অংশ নেয়। এ হত্যাকাণ্ডের ৬ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয় আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এ হত্যায় মিন্নির সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে।

তিনি বলেন, রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় মূল নায়ক নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সঙ্গে মিন্নি পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান।

হুমায়ুন কবির বলেন, ফুটেজে মিন্নি রিফাত শরীফকে রক্ষার যে চেষ্টা করে, সেখানে সে নয়নকে জাপটে ধরলেও তাকে (মিন্নি) কোনো আঘাত করেনি। এটি ছিল মিন্নির লোক দেখানো। ঘটনার আগের দিন এবং ঘটনার পূর্ব মুহূর্তে নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির মুঠোফোনের আলাপ-আলোচনা থেকে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন প্রধান আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির ফোনালাপের তথ্যও পাওয়া গেছে।

বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

১৩ জুলাই রাতে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৮ দিন পর রিফাতের বাবা বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মিন্নির গ্রেফতার দাবি করেন। রিফাতের বাবার অভিযোগের ফলে আলোচিত এই হত্যা মামলা নাটকীয় মোড় নেয়।

রিফাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, চারজন রিমান্ডে আছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments