রংপুরে আসন ধরে রাখতে মরিয়া জাপা

55

রংপুর-৩ আসন। এ আসন থেকে বারবার নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তবে গত ১৪ জুলাই ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থান মৃত্যুবরণ করেন এরশাদ। এরপর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে এ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে জয় ধরে রাখতে মরিয়া জাতীয় পার্টি।

১৯৯১ সাল থেকেই এ আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ আসন থেকে মোট ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এরশাদ। এছাড়া তার ভাই ও জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও স্ত্রী রওশন এরশাদ এ আসন থেকে একবার করে জয়লাভ করেন।

এরমধ্যে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ এর নির্বাচনে এ আসন থেকে জয়লাভ করেন এরশাদ। অন্যদিকে, ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে জয়লাভ করেন জিএম কাদের। আর ২০০৯ সালের উপ-নির্বাচনে জয়লাভ করেন রওশন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে রংপুর-৩, কুড়িগ্রাম-২ ও ঢাকা-১৭-এ তিনটি আসনে অংশ নেন এরশাদ। নির্বাচনে সবগুলি আসনে জয়ী হন তিনি। তবে ঢাকা-১৭ আসনকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বেছে নেন। পরে বাকি দুই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালের উপ-নির্বাচনে তার স্ত্রী রওশন এরশাদ রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন।

গত ১৪ জুলাই রোববার সকাল পৌনে ৮টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন।

এদিকে, এরশাদের মৃত্যুতে তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে সংসদ সচিবালয়। গত ১৬ জুলাই সংসদ সচিবালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া আসনটি শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করেন।

গেজেটে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৩০ আষাঢ় ১৪২৬/১৪ জুলাই ২০১৯ তারিখ পূর্বাহ্ণে মৃত্যুবরণ করায় একাদশ জাতীয় সংসদের ২১ রংপুর-৩ আসনটি উক্ত তারিখে শূন্য হয়েছে।’

সংবিধানের ১২৩(৪) দফায় বলা হয়েছে- ‘সংসদ ভাঙিয়া যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করিবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে (তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোনো দৈব-দুর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহা হইলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে)।’

আসন শূন্য হওয়ার দিন থেকেই নব্বই দিন গণনা করা হয়। এক্ষেত্রে আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে ওই আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে এইচএম এরশাদের আসনটি শূন্য ঘোষণা করার পাশপাশি ওয়েবসাইট থেকে তার নামটি সরিয়ে নিয়েছে।

এদিকে, রংপুর-৩ আসনটি এবার জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে রাজি নয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ। তাই এ আসনের উপ-নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াতে শুরু করেছেন। বিগত নির্বাচনগুলোতে মহাজোটের শরিক জাপাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এ আসনটি।

অন্যদিকে, রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সবমিলিয়ে এরশাদের অবর্তমানে এ আসনটি জাপার ধরে রাখা স্থানীয় নেতাকর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এ আসনের উপ-নির্বাচনে জয় পেতে মরিয়া জাতীয় পার্টি।

জানা গেছে, দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচনে কে অংশ নিচ্ছেন তা এখনও চুড়ান্ত হয় নি। প্রার্থী ঠিক করার জন্য দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, প্রার্থী হতে অনেকেই তোড়জোড় শুরু করেছেন। তবে এ বিষয়ে জাতীয় পার্টি এখনও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। তবে প্রার্থী ঠিক করার জন্য দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা প্রার্থী হতে চান তাদের ওই কমিটির কাছে গিয়ে বিগত দিনের অবদান, দলের কর্মকান্ডে ভুমিকাসহ সব বিষয় জানাতে হবে। কমিটি প্রার্থীদের মধ্য থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা তৈরী করে জমা দেবার পরেই দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে এখনও প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচারণা শুরু করেছেন আমরা তাদের পর্যবেক্ষণ করছি।

Facebook Comments