রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ বিলিয়ন ডলার

153

আলোকিত সকাল ডেস্ক

গত অর্থবছরের অর্জনের তুলনায় কম ধরা হচ্ছে নতুন অর্থবছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা। সমাপ্ত অর্থবছরে ২০১৮-১৯ দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এর চেয়ে কম লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করেছে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। পণ্য ও সেবা মিলে মোট ৫১ বিলিয়ন ডলারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রার প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে ইপিবি। এর মধ্যে পণ্য রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রফতানিতে সাত বিলিয়ন ডলার।

ইপিবির এই প্রস্তাব গত অর্থবছরের পণ্য রফতানির তুলনায় ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। বিভিন্ন ধরনের সেবা রফতানিতে ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে ইপিবি।

গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রফতানি বেশি হয়েছে ৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি হয়েছে রফতানি। প্রথমবারের মতো চার হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে মোট চার হাজার ৫৪ কোটি ডলারের রফতানি আয় এসেছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, গত তিন অর্থবছর ধরে কম করে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে। গত অর্থবছরে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আগের অর্থবছরে (২০১৭-১৮) ছিল ৮ শতাংশ।

অত্যন্ত সন্তোষজনক রফতানি আয়ের পরও কম হারে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাবের কারণ জানতে চাইলে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম গতকাল সমকালকে বলেন, রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। সেই পদ্ধতি মেনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গত সপ্তাহে রফতানি লক্ষ্যমাত্রার প্র্রস্তাব পাঠিয়েছেন তারা। মন্ত্রণালয়ই এ বিষয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। প্রতিবছর এভাবেই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়ে আসছে। এ পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক ব্যবসা পরিবেশ এবং প্রবণতা, সরবরাহ চেইন ইত্যাদি বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ ছাড়া রফতানি খাতের বড় পণ্যের উদ্যোক্তা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। তাদের পরামর্শও আমলে নেওয়া হয়। এসবের সমন্বয় করেই রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে গত মাসের শেষ সপ্তাহে বৈঠক করে ইপিবি। খাতভিত্তিক পরিস্থিতি জানতে চাওয়া হয় নেতাদের কাছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা কত হওয়া উচিত, সে বিষয়েও পরামর্শ চাওয়া হয়। তাদের মতামত ছিল আরও বেশি হারে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।

রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ইপিবির প্রস্তাব পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি রফতানি লক্ষ্যমাত্রার প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে বলে জানিয়েছেন। তবে পণ্য ও সেবা মিলে নাকি শুধু পণ্য রফতানিতে এই প্রবৃদ্ধি ধরা হবে, তা সুস্পষ্ট করেননি বাণিজ্যমন্ত্রী। ইপিবির প্রস্তাবে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সেবা রফতানিতে ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। এ দুই খাত মিলে রফতানি প্রবৃদ্ধির প্রস্তাব দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। ব্রিফিংয়ে গত অর্থবছরের বিভিন্ন পণ্য এবং বাজারে ভালো রফতানি আয়ের তথ্য তুলে ধরে সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। রফতানি খাতে একক পণ্য পোশাক নির্ভরতা কমানো এবং নির্দিষ্ট প্রচলিত বাজার নির্ভরতা কমাতে সরকারের পদক্ষেপের কথা জানান তিনি। এ লক্ষ্যে পাট, চামড়াসহ কিছু পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।

পণ্যের মতো সেবা রফতানিতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে গত অর্থবছরে। অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সেবা রফতানি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। মোট ৪৮৬ কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের সেবা রফতানি হয়েছে। সেবা রফতানিতে বছরের শেষ দুই মাসের তথ্য এখনও সংগ্রহ করতে পারেনি ইপিবি।

গত অর্থবছরে সেবা রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০০ কোটি ডলার। তার আগের অর্থবছর ৪৩৩ কোটি ডলার মূল্যের সেবা রফতানি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ইপিবি সেবা রফতানি লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করেছে ৭০০ কোটি ডলার।

ভালো রফতানির পরও সেবায় কম লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব প্রসঙ্গে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, সেবার ক্ষেত্রে দুর্বল ভিত্তিমূলের ওপর মোটামুটি রফতানিকে অনেক বেশি মনে হয়েছে। আগামীতে এই রফতানি প্রবণতা নাও থাকতে পারে। কারণ, রফতানিযোগ্য সেবা খাত এখনও অনেক দুর্বল।

আস/এসআইসু

Facebook Comments