রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

252

নিহাল খান,রাজশাহী প্রতিনিধি

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ (৬ জুলাই)।এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে ।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন শুরু হয়।

পরে সেখানে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম.আব্দুস সোবহান সহ শিক্ষকবৃন্দ। শিক্ষকরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাকে আরো এগিয়ে নিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।

পরে বেলুন-ফেস্টুন ও পায়রা উড়ানো শেষে শুরু হয় আনন্দ র‌্যালী। শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহনে র‌্যালিটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রদক্ষিণ করে সিনেট ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে শোভা পাচ্ছে বর্ণিল আলোকসজ্জা। রং-বেরঙের আলোক সজ্জায় জ্বলজ্বল করছে ক্যাম্পাস। বিশেষত রাবির সিনেট ভবন, প্রশাসনিক ভবন, প্রধান ফটকজুড়ে আলোকসজ্জা সবার নজর কেড়েছে। শিক্ষার্থীরা রাতের ওই আলোতে ছবি তোলার জন্য ভিড় করছেন বিভিন্ন ভবনের সামনে।

উল্লেখ্য যে, ১৯৫৩ সালে মাত্র ১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। শহীদ ড. শামসুজ্জোহার স্মৃতি বিজড়িত দেশের শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠের রয়েছে গৌরব-ঐতিহ্যের সুদীর্ঘ ইতিহাস। ব্রিটিশ আমলে রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নের জন্য ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী কলেজ। এই কলেজে আইন বিভাগসহ পোস্ট গ্রাজুয়েশন শ্রেণি চালু করা হলেও কিছুদিন পরেই সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

তখনই রাজশাহীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজন অনুভূত হয়। ১৯৪৭ সালের দিকে রাজশাহীতে স্যাডলার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৫০ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ৬৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে গিয়ে কারারুদ্ধ হন ১৫ ছাত্রনেতা। পরে ছাত্রজনতার পক্ষ থেকে ঢাকায় একটি ডেলিগেশন পাঠানো হয়। অবশেষে ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইনসভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস হয়।

নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইতরাৎ হোসেন জুবেরীকে সঙ্গে নিয়ে মাদার বখশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো পরিকল্পনা প্রণয়ণ করে। এরপর শুরু হয় রাবির পথচলা। ১৯৫৩ সালে রোপণ করা বীজটি বতর্মানে বিশাল মহিরুহে পরিণত হয়েছে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর। বর্তমানে ৩০৩ দশমিক ৮০ হেক্টরের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ১২০৫ জন শিক্ষক ও ২০০০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ২৩০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২৫ হাজার ৫৭৯ জন ও ছাত্রী ১২ হাজার ৫৫১ জন। বেড়েছে অবকাঠামো। ১২টি একাডেমিক ভবনসহ বর্তমানে রাবির ছাত্রদের থাকার জন্য আবাসিক হল রয়েছে মোট ১১টি ও ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ৬টি।

সুদীর্ঘ সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা নিয়ে অনেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রেখেছেন। দীর্ঘ এ সময়ে রাবি তৈরি করেছে ভাষা বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, সেলিনা হোসেন, ইতিহাসবিদ আব্দুল করিম, তাত্ত্বিক ও সমালোচক বদরুদ্দীন উমর, চলচ্চিত্র পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম, নাট্যকার মলয় ভৌমিক, মাসুম রেজা ও জাতীয় ক্রিকেটার আল আমিন হোসেনদের মতো অসংখ্য গুণীজনকে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments