রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন

188

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বিলিন হচ্ছে পাকা বেড়িবাঁধ। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা বাগুয়ারচর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আসছে বন্যা মৌসুমের আগেই ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পূর্বপাড় বামতীরে অবস্থিত পাকা বেড়িবাঁধ রাস্তা ভেঙে নদী পানি বাঁধের ভিতরে প্রবেশ করছে। এই পাকা বেড়িবাঁধ ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বন্দবেড় ইউনিয়নের বাগুয়ারচর, বাইটকামারী, খনজমারা, বাইশপাড়া, ঝুনকিরচর, ঝিগনিকান্দা, তিনতেলীচরসহ প্রায় ১০টি গ্রাম।

যুগের পর যুগ রৌমারী ব্রহ্মপুত্র নদের বামতীর পূর্বপাড়ের মানুষ এমপি, মন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাগণ বরাবর ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন প্রতিরোধে আবেদন-নিবেদন করে। রৌমারী উপজেলার বন্দরের চরশৌলমারী ও যাদুরচর ইউনিয়নে মানুষজন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন রোধে কার্যকরী স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবছরই রাক্ষসী ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বিলিন হয়ে যায় হাজারো ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, সরকারি, বেসরকারি স্থাপনা।

রৌমারী নদীভাঙন প্রতিরোধ আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সিএসডিকে এনজিওর নির্বাহী পরিচালক মো. আবু হানিফ মাস্টার বলেন, পাকা বেড়িবাঁধ ও বাগুয়ারচর, বাইটকামারী গ্রাম রক্ষায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডিও লেটারসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রাম, ঢাকাসহ সচিবালয়ে যোগাযোগ ও দৌড়াঝাঁপ করা হয়। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ দিয়ে তীর সংরক্ষণের বরাদ্দ দিয়েছে ২৮০ মিটার। বরাদ্দ না দেওয়ায় শত চেষ্টা করেও রক্ষা করা গেলো না পাকা বেড়িবাঁধটি।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপঙ্কর রায় বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনকবলিত পাকা বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছি। পাকা বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে বাঁধে ভিতরে বসবাসরত এলাকায় নদের পানি প্রবেশে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে পাকা বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। আমরা পাকা বেড়িবাঁধ ও বাগুয়ারচর, বাইটকামারী গ্রাম রক্ষায় দুই কিলোমিটার জিও ব্যাগ দিয়ে তীর সংরক্ষণের প্রস্তাব প্রেরণ করেছিলাম। ২৮০ মিটার বরাদ্দ দিয়েছিলো যা দিয়ে কাজ করা হয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments