লেজেগোবরে

4

দেশবার্তা নিউজ:করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ৭ দিনের বিধিনিষেধ। শুরুতে ঘোষণাটা দেয়া হয়েছিল লকডাউনের। তবে প্রজ্ঞাপনে এমন কিছু বলা হয়নি। সরকারের ১১ দফা বিধিনিষেধ গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা। শিল্প-কারখানা সচল। তবে নেই কোনো গণপরিবহন। এমন অবস্থায় সকাল থেকেই লেজেগোবরে অবস্থা চারপাশে।

নানা দুর্ভোগ সয়ে মানুষ নিজ নিজ কর্মস্থলে যান। দোকান, বিপণি বিতান বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও অনেক স্থানেই দোকানপাট খোলা থাকতে
দেখা গেছে। প্রধান সড়কের পাশের বেশির ভাগ দোকান বন্ধ থাকলেও পাড়া-মহল্লায় দেখা  গেছে ভিন্নচিত্র। এ ছাড়া গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশার ছিল আধিক্য। এতে কোনো কোনো স্থানে যানজট লেগে যায়। হোটেল-রেস্তরাঁয় বসে খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা মানা হয়নি অনেক ক্ষেত্রে। দোকান বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা বাতিল চেয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর নিউমার্কেট ও ইসলামপুরের ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করেন।
দিনে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেলেও সন্ধ্যার দিকে ঢাকার কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার দোকান বন্ধ করার জন্য অভিযানে নামে পুুলিশ। ঢাকার বড় তিন টার্মিনাল মহাখালী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এ ছাড়াও বাইরে থেকে আসা কোনো যানবাহনকে ঢাকায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে কঠোর নজরদারি বসায় পুলিশ।
শুধুমাত্র সরকার কর্তৃক অনুমোদিত যানবাহনগুলো ঢাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়েছে। তবে যারা বিভিন্ন জরুরি কাজে ঢাকায় এসেছেন তারা ঢাকার প্রবেশ পথে গাড়ি থেকে নেমে রিকশা ও সিএনজিতে করে গন্তব্যস্থলে যেতে দেখা গেছে। গতকাল সকাল থেকে ঢাকায় কোনো গণপরিবহন না থাকার কারণে সরকারি অফিসগামী এবং বিভিন্ন বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গন্তব্যস্থলে যেতে বেগ পেতে হয়েছে। অনেকেই রিকশায় করে গন্তব্যস্থলে গেছেন। প্রাইভেট গাড়ি চলাচল করা দেখে বিভিন্ন গন্তব্যস্থলে যাওয়া চলাচল ব্যক্তিরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
গতকাল লকডাউনের প্রথমদিন থেকেই ঢাকায় প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করেছে। আবার সড়কের বিভিন্ন মোড়ে গাড়ির চাপ থাকার কারণে যানজট দেখা গেছে।
সেগুলো চলাচলে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেয়া হয়নি। লকডাউনের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার (ডিএমপি) মো. শফিকুল ইসলাম গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন যে, সরকার লকডাউনের ক্ষেত্রে যে নির্দেশনা দিয়েছে তা পুলিশ শতভাগ কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করছে। কিছু গাড়ি যেগুলো ঢাকার বাইরে থেকে কাঁচামাল নিয়ে আসে সেগুলোকে শুধু ঢাকায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছে। লকডাউন কার্যকর করার ক্ষেত্রে পুলিশ বদ্ধপরিকর।
গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর, কল্যাণপুর, গাবতলী, মগবাজার, সেগুনবাগিচা, পল্টন, মতিঝিল, মালিবাগ ও কাকরাইল এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে যে, প্রত্যেক এলাকায় ঢিলেঢালা লকডাউন পালিত হয়েছে। ঢাকার একাধিক বড় শপিংমলগুলো বন্ধ ছিল। তবে বাইরের  ছোট দোকানগুলো খোলা ছিল। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী  লকডাউনে হোটেল-রেস্তরাঁও খোলার কথা বলা হলেও সেখানে নিষেধ ছিল যে, হোটেল ও রেস্তরাঁয় কেউ বসে খেতে পারবে না। কিন্তু, অনেক হোটেল ও রেস্তরাঁয় বসে খেতে দেখা গেছে।
গতকাল পীরেরবাগে কাঁচাবাজারে ছিল প্রচণ্ড ভিড়। সরকার কর্তৃক উন্মুক্তভাবে কাঁচাবাজার বসানোর কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। সেখানে মানুষজনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই ছিল না। অনেকের মুখে মাস্কও ছিল না বলে লক্ষ্য করা গেছে। বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলামের কাছে লকডাউনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান যে, লকডাউনের কথা তিনি শুনেছেন। পুলিশ বাজারে আসেনি। একই চিত্র ঢাকার বড় বাজার কাওরান বাজার, মহাখালী বাজার ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে দেখা যায়।  এ ছাড়াও কাওরান বাজার ও প্রেস ক্লাবের সামনের একাধিক হোটেলে সবাইকে একসঙ্গে বসে খেতে দেখা গেছে।  সেগুনবাগিচা মার্কেটের দোকানি রুবেল  হোসেন জানান, সকালে নিয়ম অনুযায়ী দোকান খুলেছি। প্রশাসনের লোকজন আমাদের কাছে আসেনি।
গতকাল গোটা ঢাকায় গণপরিবহন ছিল খুবই কম। অফিসগামী যাত্রীরা গণপরিবহন না পাওয়ার কারণে ভোগান্তির শিকার হন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে মহাখালীতে গণপরিবহনের জন্য অনেকেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। শামসুল নামে এক যুবক জানান, তিনি একস্থানে ১ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন কিন্তু কোনো যানবাহন পাননি।
রিকশাচালক হাসিব জানান, সকালে রিকশা নিয়ে সড়কে নেমেছি। মূল সড়কে পুলিশ অন্যদিনগুলোতে বাধা  দিয়ে থাকে। তবে লকডাউনের প্রথম দিন পুলিশ তাদের কোনো বাধা দেয়নি। সকালে যাত্রীর চাহিদা বেশি ছিল। বেশি ভাড়া হাঁকা হয়েছে বলে তিনি জানান। ট্রাফিক পুলিশ শহিদ জানান, সড়কে যানবাহনের চাপ কম ছিল। তবে সড়কে রিকশা ও প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে সড়কে মাঝে মধ্যে যানজট বেঁধেছে।
গতকাল সকালে গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় যে, কয়েকজন পুলিশের সার্জেন্ট টার্মিনালে বসে মোবাইলে কথা বলছেন। ওই টার্মিনাল থেকে কোনো বাস গন্তব্যস্থলে ছেড়ে যায়নি। কোনো বাস বাহির থেকে সেখানে ঢোকেনি। অধিকাংশ বাসের কাউন্টার বন্ধ। তবে অনেক যাত্রী টার্মিনালে এসে টিকিট না পেয়ে ঘুরে গেছেন। কোনো  কোনো যাত্রী সন্ধ্যার পর বাস ছাড়বে বলে টিকিটের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কারা টিকিটের আশ্বাস দিয়েছে যাত্রীদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, টার্মিনালের কিছু বাসের টিকিট মাস্টার তাদের আশ্বাস দেয়ার কারণে তারা টার্মিনালে বসে আছেন। গাবতলী  সেতুর ওপারে পুলিশের শক্ত প্রহরা ছিল। কিছু ট্রাক ও লেগুনাকে তারা আবার উল্টো পথে ঘুরিয়ে দেন। এ সময় সেখানে পুলিশের সঙ্গে যানবাহনের চালকদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটে। তারা  পেছনে ফিরে যান।
গতকাল করোনায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিষা রানী কর্মকারের নেতৃত্বাধীন একটি টিম। দুপুর ১ টার দিকে মিরপুর গোল চত্বর থেকে শুরু হয়ে এ অভিযান চলে কল্যাণপুর ও গাবতলী এলাকায়।  ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিষা রানী কর্মকার সাংবাদিকদের জানান, লকডাউনকে কেন্দ্র করে অনেকেই মাস্ক পরিধান করছেন। তবে বেশ কয়েকজনকে মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে উদাসীন থাকতে দেখা গেছে। কথা বলে তাদের সচেতনতা সৃষ্টির বিষয়টি তাদের মধ্যে জাগ্রত করার চেষ্টা করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে লকডাউনের মধ্যে রাজধানীতে চলাচল করা বিভিন্ন ধরনের গাড়ি গণপরিবহন নয় জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি লকডাউনের বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
তিনি বলেন, রাজধানীতে গণপরিবহন নেই। বিভিন্ন অফিসে তাদের প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা এনে সীমিত পরিসরে তাদের প্রয়োজন অনুসারে অফিস পরিচালনা করবেন, সেক্ষেত্রে এই পরিবহনগুলো তারা নিজেরা ব্যবস্থা করেছেন, এগুলো গণপরিবহন নয়। অফিসের সঙ্গে তাদের চুক্তিবদ্ধ হয়েছে, কর্মকর্তাদের আনা-নেয়ার জন্য শুধু ব্যবহার হচ্ছে। কোনো এলাকা থেকে দূরপাল্লার গাড়ি ছেড়ে গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘গণপরিবহন চলছে না। কিন্তু, রিকশা চলছে। রিকশার ওপর আমাদের কোনো বিধিনিষেধ নেই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিকশা কিন্তু অন্যান্য যানের চাইতে অনেক নিরাপদ। কারণ খুবই কম আক্রান্ত হয়। রিকশাওয়ালা এবং যাত্রীদের মধ্যে দূরত্ব থাকে, এজন্য সেটি কিন্তু, খুব কম ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বইমেলা স্বাস্থ্যবিধি মেনে করবেন, কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারিতে রাখবেন, সেক্ষেত্রে কেউ যাতে এখানে বেড়াতে না আসে। বই কেনার উদ্দেশেই আসবেন। এটাকে অন্যভাবে বা বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বা ঘুরে  বেড়ানো- এ রকম কোনো সুযোগ এখানে থাকবে না। অত্যন্ত  কঠোরতা রাখা হবে। স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মেনে তারা তাদের বইটি কিনে আবার গন্তব্যে ফিরে যাবেন।
তিনি আরও জানান, মাঠ প্রশাসন এবং সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যারা রয়েছেন এবং পুলিশ প্রশাসন, তারা অত্যন্ত কঠোরভাবে তাদের ওপর যে নির্দেশনা আছে সে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবেন। এখানে সেটির কোনো ব্যত্যয় হবে না।’
তিনি বলেন, ‘মানুষের গতিবিধিকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই, কারণ মানুষ যতই বাইরে আসবে ততই এ সংক্রমণ  বেড়ে যাবে। আজকে সকাল থেকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি আগের অবস্থা থেকে এখনকার অবস্থা অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সবাইকেই সহযোগিতা করতে হবে, সংক্রমণ যাতে করে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। এবার আমরা দেখছি সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে সবাইকে সংযত আচরণ করতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ
লকডাউনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। সরকার ঘোষিত লকডাউনে দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার দাবিতে রাজধানীর ইসলামপুর ও নিউমার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন তারা। গতকাল সকালে ইসলামপুর-পাটুয়াটুলি রোডে কয়েকশ’ ব্যবসায়ী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
সকাল থেকেই ‘গরিব মারার লকডাউন, মানি না, মানি না’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এসব এলাকা। এ সময় বক্তারা বলেন, গত একটি বছর ব্যবসায়ীরা লোকসান দিয়ে কোনোভাবে টিকে আছেন। সামনে ঈদ, এই সময়ে শপিংমল, দোকান বন্ধ রাখলে এর সঙ্গে জড়িত মালিক-কর্মচারীসহ বিপুল মানুষকে না খেয়ে মরতে হবে। করোনার আগে ভাতের অভাবে মানুষ মারা যাবে। বক্তারা সরকার ঘোষিত লকডাউনের সমালোচনা করে বলেন, এটি হাস্যকর একটি লকডাউন। এই ঢিলেঢালা হরতালের মতো। দোকান, শপিংমল আর গণপরিবহন বন্ধ রেখে সব খোলা রাখা হচ্ছে। বইমেলা হচ্ছে। অফিস খোলা রয়েছে। প্রাইভেট গাড়িতে মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে। লকডাউনেও যানজট হচ্ছে। শুধু শপিংমল-দোকানপাটগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এটা কেমন লকডাউন, প্রশ্ন করেন তারা।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা সকাল থেকে সড়ক বন্ধ করে লকডাউনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে। আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি। এদিকে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ করেন সহস্রাধিক ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, সবকিছু খোলা রেখে, শিল্প প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও বইমেলা খোলা রেখে শপিংমল বন্ধ রাখা উচিত নয়। রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। তাই আমাদের দাবি হচ্ছে, সীমিত পরিসরে হলেও আমাদের দোকান খুলতে দেয়া হোক।
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কাইয়ুম মানবজমিনকে জানান, নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা সকালে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করেছে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তারা গলির ভেতরে এই কর্মসূচি পালন করেছে। তারা দোকান খোলার দাবি জানিয়েছে।
দোকানপাট কোথাও খোলা, কোথাও বন্ধ: প্রাণঘাতী করোনা রোধে চলছে লকডাউন। সপ্তাহব্যাপী এই লকডাউনের প্রথম দিন রাজধানীতে কেটেছে ঢিলেঢালা ভাবে। প্রধান সড়কের পাশের দোকানপাট বন্ধ থাকলেও প্রায় সকল দোকানপাট খোলা চোখে পড়েছে ভেতরে সড়কের ধারজুড়ে।
রাজধানীর গ্রিনরোড এলাকা। এই সড়ক ধরে নিউমার্কেট পর্যন্ত দেখা যায় অলিগলির প্রায় সব দোকানই খোলা। নির্দেশনা অনুযায়ী খাবারের দোকান খোলা থাকবে কিন্তু বসে খেতে পারবেন না ক্রেতারা। নিয়মের তোয়াক্কা না করেই হোটেলগুলোতে পূর্বের মতোই খাবারের আয়োজন চলছে। এই সড়কের অধিকাংশ দোকানই খোলা। স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কা না করেই চলছে দোকানগুলো। তবে সুপারশপগুলোতে দেখা যায় নিরাপদ দূরত্ব মেনেই ঢুকছেন তাতে ক্রেতারা। সড়কজুড়ে সব খোলা মিললেও সাইন্সল্যাব এলাকায় ভিন্ন চিত্র। প্রধান সড়কের ধার দিয়ে প্রায় সব দোকানই বন্ধ। নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব দোকান খোলা রাখা যাবে সেগুলো খোলা।
রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকার শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম বলেন, এই এলাকায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ধানমণ্ডি লেকের ভ্রাম্যমাণ চা, ভেলপুরি, ঝালমুড়ি ইত্যাদি বিক্রেতারা বসেছেন এই এলাকায়। অনেকে আবার সবজি বিক্রি করছেন। সব দোকানই খোলা। তবে প্রধান সড়কের দিকের দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে।
করোনায় আরো ৫২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৭ হাজারের উপরে
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৭৫ জন। শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। টানা দুইদিন করোনা শনাক্ত ৭ হাজারের উপরে রয়েছে। এ পর্যন্ত মোট সরকারি হিসাবে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত আরো মারা গেছেন ৫২ জন। এ পর্যন্ত মারা গেলেন ৯ হাজার ৩১৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৯৩২ জন এবং এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫  লাখ ৫৫ হাজার ৪১৪ জন। গতকাল করোনা বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এসব তথ্য জানিয়েছে।
এতে আরো জানানো হয়, নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।  এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয় ৩১ হাজার ৯৭৯টি। পরীক্ষা হয়েছে ৩০ হাজার ২৩৯টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৮ লাখ ১৩ হাজার ৬২৪টি। তার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৩৬ লাখ ২৪ হাজার ১১৭টি। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ৫০৭টি। দেশে বর্তমানে ২২৭টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এরমধ্যে আরটি-পিসিআরের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে ১২০টি পরীক্ষাগারে, জিন এক্সপার্ট মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে ৩৪টি পরীক্ষাগারে এবং র‌্যাপিড অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে ৭৩টি পরীক্ষাগারে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫২ জনের মধ্যে পুরুষ ৩৪ জন এবং নারী ১৮ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মারা গেলেন ৭ হাজার ৪ জন এবং নারী মারা গেলেন ২ হাজার ৩১৪ জন। শতকরা হিসাবে যা পুরুষ ৭৫ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং নারী ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ। তাদের মধ্যে বয়স বিবেচনায় ৬০ বছরের উপরে রয়েছেন ৩২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আছেন ৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন, আর শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে মারা গেছে ১ জন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ৪০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৭ জন, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগের আছেন ১ জন করে। ৫২ জনের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৫০ জন এবং বাসায় ২ জন।
একদিনে টিকা নিয়েছেন ৪১ হাজার মানুষ: সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরুর ৪৭তম দিনে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৪১ হাজার ৩২২ জন। এর মধ্যে ঢাকায় নিয়েছেন ৭ হাজার ৬ জন। এ পর্যন্ত দেশে মোট টিকা নিয়েছেন ৫৫ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার ৭০১ জন এবং নারী ২১ লাখ ৩ হাজার ৭৯৩ জন। টিকা নেয়ার পর সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে মোট ৯৩৯ জনের। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টিকা নিতে অনলাইনে মোট নিবন্ধন করেছেন ৬৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭৮ জন। গত ২৭শে জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে গণটিকাদান শুরু হয় ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে।

Facebook Comments Box