শরণখোলায় ২৫০ মিটার বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন

328

আলোকিত সকাল ডেস্ক

শরণখোলায় রবিবার দুপুরে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে বলেশ্বর নদীর জোয়ারের পানি প্রবেশ করে দক্ষিণ সাউথখালীর গাবতলা এলাকা প্লাবিত হয়। অর্ধশতাধিক পরিবারের রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। রবিবার সকালেও নতুন করে প্রায় ২৫০ মিটার এলাকা বেড়িবাঁধ বলেশ্বর নদীতে বিলীন হয়। এ সময় আরো একটি মুদি দোকান ও একটি মাছের ডিপো নদীগর্ভে চলে যায়।

দক্ষিণ সাউদখালী ওয়ার্ডের সাউদখালী ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন জানান, রবিবার দুপুরে বলেশ্বর নদীর জোয়ারের পানিতে দক্ষিণ সাউদখালীর গাবতলা গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মানুষের বাড়িঘরে পানি ওঠায় তাদের রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। ১৫/২০টি পুকুর ডুবে মাছ ভেসে গেছে। তিনি আরো বলেন, রবিবার সকালে নতুন করে প্রায় ২৫০ ফুট এলাকা বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে চলে গেছে। এ সময় সেলিম হাওলাদারের মুদি দোকান ও মাছের ডিপো ঘর নদীতে বিলীন হয়েছে।

বাপাউবোর ‘সিইআইপি’ প্রকল্পের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, সাউদখালী ইউনিয়নের গাবতলায় বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন হওয়ার খবর শুনেছেন। জরুরি ভিত্তিতে রিংবাঁধ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিংকন বিশ্বাস বলেন, বেড়িবাঁধের দুটি পয়েন্টে ভেঙে গেছে। তা অবিলম্বে মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ভোলায় আট গ্রাম প্লাবিত

ভোলা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি জানান, পূর্ণিমা আর দক্ষিণ-পূর্ব কোণের একটানা বাতাসের প্রভাবে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারে চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন ঢালচরের ৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে রাস্থাঘাট, হাটবাজার, স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং বসতঘর। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে জোয়ারের পানি হুহু করে বাড়তে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনজু খন্দকার জানান, প্রতি বছর এই সময়ে জোয়ারের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বাতাসের দাপট থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক উচ্চমাত্রার জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে সমগ্র ঢালচর। পানির তোপে গ্রামের কাঁচা রাস্তাগুলো ভেসে গেছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। ডুবে গেছে ঘরভিটা, ফসলের ক্ষেত, হাটবাজার এবং রাস্তাঘাট। দক্ষিণ উপকূলের ঢালচর বাগান থেকে শতাধিক মহিষ জোয়ারের পানির তোড়ে সাগরে ভেসে গেছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল সালাম হাওলাদার জানান, গত শুক্রবার থেকে জোয়ারে প্লাবিত হওয়ায় বাড়িঘর ডুবে গেছে, রাস্তাঘাটের ব্যপাক ক্ষতি হয়েছে। স্কুল মাদ্রাসায় ক্লাস বন্ধ রয়েছে। বেশ কিছু মসজিদে নামাজ বিঘ্নিত হয়েছে। এখনো জোয়ারের পানি প্রতিনিয়ত উঠানামা করছে।

চরফাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকায় প্লাবিত এলাকার খোজ খবর নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

ভোলার পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী কাইসার আলম জানান, স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৬ ফুট উচ্চতার জোয়ারের পানি ঢাল চরের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বেঁড়িবাধ না থাকার ফলে উপজেলার ঢালচরের মেঘনা পাড়ের মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে আছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments