শিক্ষার্থীদের পারাপার গাড়ির ফাঁকে ফাঁকে

329

আলোকিত সকাল ডেস্ক

গতি নিয়ন্ত্রক কিংবা জেব্রা ক্রসিং না থাকায় শিক্ষার্থীরা চলে গাড়ির ফাঁকে ফাঁকে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি যেন শেষ নেই। জেব্রা ক্রসিং না থাকায় মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন লেখাপড়া করছে যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

ব্যস্ততম এই মহাসড়ক পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া নিয়ে অভিভাবক মহল সদা উদ্বিগ্ন থাকলেও প্রশাসন এ ব্যাপারে নির্বিকার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের কুমিল্লায় গত ৫ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন আর এর মধ্যে আহত হয়েছেন অত্যন্ত পাঁচ শতাধিকের বেশি শিক্ষার্থী।
গত মাসে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মহাসড়ক পাড় হতে গিয়ে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রবিউল (১৫) কার্ভাডভ্যানের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন। কুমিল্লার গোমতা ইসহাকিয়া উচ্চ বিদালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী আকলিাম স্কুলে শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্টাক চাপায় মহাসড়কেই প্রাণ হারান। শুধু রবিউল কিংবা আকলিমা নন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলচলরত সময়ে প্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিকার হয়ে অনেক শিক্ষার্থী মারা যায়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের গোমতা ইসহাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, কুটুম্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মাধাইয়া উচ্চ বিদ্যালয়, হাসানপুর সরকারি কলেজ, শহীদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌরীপুর স্বল্প পেন্নাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌরীপুর মুন্সী ফজলুর রহমান কলেজ, দাউদকান্দি মহিলা মাদরাসা, রায়পুর কে.সি উচ্চ বিদ্যালয়, দোতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, চৌদ্দগ্রাম হাজী জাফর আলী মডেল হাইস্কুল, চৌদ্দগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চৌদ্দগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোরপাই মহিলা মাদরাসা, ক্যন্টারমেন্ট ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কেরনখাল উচ্চ বিদ্যালয়সহ প্রায় শতাধিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক পারাপারের জন্য নেই কোনো জেব্রা ক্রসিং কিংবা গতি নিয়ন্ত্রক। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে শিক্ষাথীঁদের স্বার্থে নির্মাণ করা হয়নি কোন ফুটওভার ব্রিজও।

চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা বিদ্যালয়, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে জেব্রা ক্রসিং বা ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সেখানে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গাইডম্যান রাখা হয়েছে। কুটুম্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আলমগীর হোসেন দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, জেব্রা ক্রসিং না থাকায় দ্রæত ও বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী দোতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুল ছাত্তার বলেন, মহাসড়কে জেব্র ক্রসিং দেয়া হলে সড়ক দুর্র্ঘটনা অনেকাংশেই রোধ করা সম্ভব। কেরনখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহানা সুলতানা বলেন, গতি নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কিংবা জেব্রা ক্রসিং দেয়া যদি সম্ভব না হয়, তবে সরকার ব্যস্ততম এলাকার স্কুল-কলেজের সামনে মহাসড়কের ওপর ওভারব্রিজ নির্মাণ করুক-এমনটাই আমরা চাই।

মাধাইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান রেজবী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে সড়ক ও জনপদের ছবিসহ সাইনবোর্ড দেয়া থাকে। অথচ বাস চালক বা ছোট বড় যে কোন পরিবহন তা মানছে না। হাইওয়ে পুলিশের দাউদকান্দি থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সড়কের কোথায় কী হবে সেটা সড়ক বিভাগের দায়িত্ব। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহাদ উল্লাহ বলেন, এ সমস্যা সম্পর্কে কখনো কেউ আমাদের জানায় নি। তবে যদি ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের কাছে বলা হয়, তবে আমরা ব্যবস্থা করব।

আস/এসআইসু

Facebook Comments