শ্রীনগরে ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তার কারণে ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

525

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

শ্রীনগরে প্রায় ৫০০ মিটার ভাঙ্গাচুরা কাঁচা রাস্তার কারণে কয়েকটি গ্রামের ২০হাজার মানুষের চরমদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার বাড়ৈগাঁও বাজার-বিবন্দী বাজার পর্যন্ত (এলজিইডি) পাকা রাস্তাটির টুনিয়ামান্দ্রা গ্রামের বারেক মোল্লার বাড়ি হতে বিবন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন অটো-বেবী ষ্ট্যান্ড মোড় পর্যন্ত কার্পেটিং না হওয়া সাত গ্রামের মানুষের চলাচলে চরমদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে রাস্তাটির অবস্থা এতোই খারপ হয়েছে ছোট খাটো হালকা যানবাহন গুলো পর্যন্ত ওই রাস্তায় চলাচলে চরমদুভোর্গের স্বীকার হতে হচ্ছে। মানুষের হাটা চলাফেরায় অনপুযোগি হয়ে পরেছে। লক্ষ করা গেছে পথচারীদের কিছুটা দুর্ভোগ কাটিয়ে উঠতে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে রাস্তায় ভাঙ্গাচুরা ও ছোট বড় গর্তের মধ্যে কংকিট, মাটি ও বালু ফেলিয়ে ভরাটের কাজ করছেন তারা।

স্থানীয়রা জানায়, গত ৩-৪ বছর পূর্বে পর্যায়ক্রমে রাস্তাটির ৩ কিলোমিটার কার্পেটিংয়ের কাজ হলেও ওই ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তার কার্পেটিং কাজ এখনও হয়ে উঠেনি! এবিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একাধিকবার বাকি কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তারা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটির অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়ে। বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ার কারণে রিক্সা, ভ্যান, মোটর সাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন গাড়ীর চাকা মাটিতে দেবে গিয়ে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন চালকসহ পথচারীরা। বিবন্দী, পাঁচলদিয়া, জুরাসার, মুসলিমপাড়া, বাগবাড়ি, বনগাঁও ও টুনিয়ামান্দ্রা গ্রামের লোকজন প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়েই তাদের যাতায়াত করতে হয়। এ অঞ্চলের মানুষের একমাত্র প্রধান সড়ক এবং ঢাকা-মাওয়া মহসড়কের সংযোগ সড়ক হিসেবে পরিচিত রাস্তাটিতে প্রতিনিয়ত মানুষের চলাচল করতে হয়। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য বেহাল কাঁচা রাস্তাটির কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।

অপর একটি সূত্র থেকে জানাযায়, টুনিয়ামান্দ্রা ও বিবন্দী দুই গ্রামের সীমান্তবর্তী খালের উপর একটি কাঠের পুল ছিল। গত ২০১৬ সালে রাস্তার কার্পেটিং কাজের সময়ে রোলার মেশিন নেয়ার লক্ষ্যে পুলটি ভেঙ্গে খাল মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছিলো। কিন্তু পুলের দুই দিকের প্রায় ৫০০ মিটার রাস্তা আর পাকা হয়ে উঠিনি! একদিকে যেমন কাঁচা রাস্তার জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষের। অন্যদিকে খালটি ভরাটের কারণে কৃষি জমির পানি নিষ্কাশন হতে পারছেনা। এলাকার শতশত কৃষক তাদের আবাদি জমি নিয়ে বিপাকে পরেছেন। এতে করে মারাত্বক লোকসানের সম্মূক্ষীন হচ্ছেন তারা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাইয়ুম মিন্টু জানান, বিবন্দী বাজার হতে বাড়ৈগাঁও বাজার হয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক পর্যন্ত রাস্তটির দৈঘ্য প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার। তবে গত কয়েক বছর পূর্বে বাড়ৈগাঁও বাজার থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়েছে। বিবন্দী বেবী স্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার রাস্তা কার্পেটিংয়ের কাজ আর করা হয়নি। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য চিন্তা করে নিজ উদ্যোগে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় রাস্তার ভাঙ্গাচুরা ও গর্তগুলো ঠিকঠাক করি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুনরায় রাস্তাটি আরো ভংকর হয়ে উঠে। মানুষের কথা চিন্তা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি বাকি কাঁচা রাস্তার বিষয়ে একটু সুনজরে দেন তাহলে হাজারো মানুষের দূর্ভোগ লাঘব হবে।

শ্রীনগর উপজেলা (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নূর ইসলামের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করা হয়েছে। রাস্তাটির কাজের জন্য দ্রুত চাহিদাপত্র দেয়া হবে।

আলোকিত সকাল/এসআইসু

Facebook Comments