শ্রেণীকক্ষ সঙ্কটে স্কুলের বারান্দায় চলছে পাঠদান

246

মোঃইমরুল হাসান শিকদার চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

নানা সমস্যায় জর্জরিত সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো,শ্রেণীকক্ষের সংকট,বৈদ্যুতিক ফ্যান না থাকাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পাঠদান কার্যক্রম দিন দিন মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়ে শ্রেণী কক্ষ সঙ্কটের কারণে বাধ্য হয়ে বারান্দায় মাদুর বিছিয়ে সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বার বার জানানোর পরও কোন সমাধান মিলেনি।

রোববার (৭ জুলাই) সরজমিন গিয়ে জানা যায়, যমুনার ভাঙনে বিধ্বস্ত চৌহালীতে শিক্ষা বিস্তারের জন্য ১৯৪৫ সালে উত্তর খাষকাউলিয়া এলাকায় খাষকাউলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। বর্তমানে ১০ জন শিক্ষক ২৭৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পাঠদান করাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের একটি পাকা ভবনে ২টি শ্রেনী কক্ষ ও ওলায়সেট ঘরে ৩টি শ্রেনী কক্ষে পাঠদান চলছে। এসব কক্ষে শিক্ষার্থীদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় পরিত্যক্ত একটি টিনের ঘরের বারান্দায় মেঝেতে চট পেড়ে অনেক কষ্টে ক্লাস নিতে দেখা গেছে। এসময় প্রচন্ড গরমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।

বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী ছালাম, জোসনা ও ইয়াকুব আলী জানান,আমাদের বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শীতের সময় মাঠে ও গরমে ভাঙ্গা ঘরের বারান্দায় চটে বসে ক্লাস করতে হয়। অনেক সময় বৃষ্টি আসলে আর ক্লাস করা হয়না। এছাড়া বিদ্যালয়টি রাস্তা সংলগ্ন হওয়ায় মাটি বাহি ট্রলি ও অটো ভ্যানের শব্দে ক্লাসে মনোযোগ আসে না। সমস্যাটি নিরসনে দ্রুত নতুন ভবনের দাবি জানায় তারা।

এদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ক্লাস রুম সংকটের কারনে একদিকে যেমন পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে, অপরদিকে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে না পারায় পিছিয়ে পড়ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিন জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামো সংকটের কারণে পাঠদান মারাক্তক ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি অথবা তীব্র গরমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাটিতে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিনের এ সমস্যা সমাধানে ৩-৪ বছর আগে সংশ্লিষ্ট অফিসে জানানো হয়েছে। তারা এসে ভবন নির্মানের জন্য মাপঝোক করে নিয়ে গেলেও এখনও কোন নতুন ভবন নির্মান হয়নি। এ কারনে চরম দুর্ভোগে পড়ে পরিত্যক্ত একটি ঘরের ভাঙ্গা বারান্দায় পাঠদান অব্যাহত রাখতে হচ্ছে।

চৌহালী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খান জানান, একটি টিনের ঘর পরিত্যক্ত থাকায় শ্রেনী কক্ষের সংকট দেখা দিয়েছে। অন্য শ্রেনী কক্ষ গুলোও সংস্কার করা প্রয়োজন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ হলে সমস্যার সমাধান হবে

আস/এসআইসু

Facebook Comments