সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনের টার্গেট আওয়ামী লীগের

340

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ক্ষমতাসীন দলের জাতীয় সম্মেলনের আগেই সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের সম্মেলন শেষ করার টার্গেট নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিশেষত মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলনের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা আসতে পারে। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের এক যৌথসভা আজ সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠনের নির্দেশনা আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলীয় সূত্র জানায়, এর আগে গত ১২ জুলাই বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী এক সভা হয়। সভায় দলের জাতীয় সম্মেলনের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনকে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের তাগাদা দেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। সভায় যেন তৃণমূল পর্যন্ত ঢেলে সাজিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাউন্সিল করতে পারে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে লক্ষ্যেই আজকের (শনিবার) যৌথসভায় এ-সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা দেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

এদিকে বছরের পর বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। কোনো কোনোটির কমিটির মেয়াদ ১০-১২ বছর পার হয়ে গেলেও সম্মেলন হচ্ছে না। ফলে ওই সংগঠনগুলো নিয়মিত কর্মসূচি পালন করলেও তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা চলছে। এসব সংগঠনে নেতৃত্বের কারণে তরুণ সম্ভাবনাময় এবং সাংগঠনিক ক্ষমতাসম্পন্ন নেতারা অকালেই ঝরে পড়ছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জাতীয় রাজনীতি।

উল্লেখ্য, যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় প্রায় ছয় বছর আগে। সংগঠনটির তিন বছর মেয়াদি সর্বশেষ কমিটি হয় ২০১২ সালের ১৪ জুলাই। আওয়ামী লীগের ২০১৬ সালের সম্মেলনের আগে অন্য সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি গঠন করা হলেও যুবলীগের সম্মেলন বা কমিটি হয়নি।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলন হয় না প্রায় ১৪ বছর ধরে। ফলে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা হতাশ। সৃষ্টি হয় সাংগঠনিক স্থবিরতা। ২০০৬ সালের ৩১ মে ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হয়। এ সম্মেলনে মহানগরকে দুটি ভাগে ভাগ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় সম্মেলন। আবার ২০১২ সালে এসে কেন্দ্রের আরেক দফা সম্মেলন হয়। তখন মহানগরের সম্মেলন না হলেও উত্তর-দক্ষিণ উভয় অংশের কমিটি ১০১ সদস্যবিশিষ্ট করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি আজও। দুই শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন বর্তমান নেতৃত্ব।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা আবু কাওছার প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, সম্মেলন হলেই সব সমস্যা কেটে যাবে। আমরা সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনা পেলেই সম্মেলনের সময় নির্ধারণ করা হবে। তবে আশা আছে, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হয়ে যাবে।

সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়। দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়ায় বর্তমান কমিটি দিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে আওয়ামী লীগের এই সহযোগী সংগঠনটি।

অন্যান্য সংগঠনের মতোই শ্রমিক লীগের অবস্থাও নড়বড়ে। সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন শ্রমিক লীগের বর্তমান কমিটিও মেয়াদ পেরিয়েছে প্রায় তিন বছর আগে।

এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা হবে। আগামী অক্টোবরে মূল দলের সম্মেলনের আগেই তৃণমূল পর্যায়ে এবং সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সম্মেলন হবে। নতুন কমিটি এলে নব উদ্যোমে সংগঠনগুলো চলবে। জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলের কোথাও কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে সেগুলো চিহ্নিত করে মিটিয়ে ফেলা হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments