সাতকানিয়ায় শতাধিক গ্রামীণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী

351

আলোকিত সকাল ডেস্ক

গত ১০ দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। শতাধিক গ্রামীণ সড়ক চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। খালের তীরে অবস্থিত হাজারো মানুষের চোখের ঘুম নেই। গৃহহীন মানুষ অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। আউশের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে কৃষকরা। ইতিমধ্যে ওই এলাকার কয়েকশ একর ফসলি জমি, বাড়িঘর, স্কুলের সীমানাপ্রাচীর, সবজি ক্ষেত ও কবরস্থান তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং খালের পাড়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ দেওয়া না হলে আগামীতে ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এখন টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল না থাকলেও চারদিকে ছড়িয়ে আছে বন্যার ক্ষত চিহ্ন। উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৭ ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। উপজেলায় পানিবাহিত রোগসহ ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি ও লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার সোনাকানিয়া, চরতী, কেওচিয়া, ছদাহা, এওচিয়া, খাগরিয়া, আমিলাইশ, ধর্মপুর, পুরানগড়, কালিয়াইশ, নলুয়া, বাজালিয়া, মার্দাশা, উত্তর ঢেমশা, দক্ষিণ ঢেমশা, সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ছে চরম বেকায়দায়। মৌসুমি ও নিয়মিত সবজি চাষিরা যোগাযোগ ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায় চরম লোকশানের মুখোমুখি।

উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম ইলিয়াছ চৌধুরী জানান, বন্যায় তার ইউনিয়নের এলজিইডি ও গ্রামীণ সব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এওচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক জানান, বন্যায় ইউনিয়নের ৩০টি বাড়ি বিলীনসহ ১৫০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া এডিবি, এলজিএসপি ও গ্রামীণ সড়কগুলোর ক্ষতি হয়েছে। কেওচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির আহমদ জানান, ইউনিয়নের ব্যবসায়ীপাড়া সড়ক, হামিদিয়া সড়ক, ওবাইদিয়া সড়ক, তেমুহিনি সড়ক ও ধর্মপুর-কেওচিয়া সড়ক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতাধিক পুকুর ও মাছের প্রজেক্ট পানিতে তলিয়ে গেছে।

কাঞ্চনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রমজান আলী জানান, ইউনিয়নের ইউপি সড়ক, নয়া সড়ক, মতুরাডেঙ্গা সড়ক, গোনাই পাড়া সড়ক, বকশীরখীল সড়ক, হাজারীখীল সড়ক, গুড়গুড়ি মাহমদু মেম্বার সড়ক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কালিয়াইশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফেজ আহমদ জানান, ইউনিয়নের এলজিইডির বিওসির মোড় সড়ক, মাইগ্গাপাড়া সড়ক, মৌলভীর দোকান সড়ক, কাঠগড় সড়ক, মুক্তিযোদ্ধা ফজল করিম সড়ক, মাস্টার হাট সড়কসহ শতাধিক গ্রামীণ সড়ক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

চরতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, ইউনিয়নের উত্তর ব্রাহ্মণডেঙ্গা তোফায়েল আহমদ চৌধুরী সড়ক, পূর্বপাড়া সড়ক, বোটঘাটা সড়ক, সুইপুরা-দক্ষিণ চরতী সড়ক, তালগাঁও সড়ক দিয়ে মানুষ ও যান চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে। খরস্রোতা শঙ্খ নদী গিলে খেয়েছে ৭টি বাড়ি। বাজালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্ত জানান, আমার জীবনে এ ধরনের বন্যার পানি আমি দেখিনি। ইউনিয়নের এলজিইডি ও গ্রামীণ এমন কোনো সড়ক নেই যেখানে ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। শতাধিক পরিবার ঘরছাড়া হয়ে দিন কাটাচ্ছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ১০টি পাকা-আধাপাকা বাড়ি।

আমিলাইশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এইচ এম হানিফ জানান, ইউনিয়নের ৫, ৬, ৭, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলজিইডি সড়কসহ সব গ্রামীণ সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। পুরানগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ ফ ম মাহবুবুল হক সিকদার জানান, ইউনিয়নের ছোটো-বড়ো সকল সড়ক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সোনাকানিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের জানান, ইউনিয়নের হাতিয়ারকুল সড়ক, শাহ আবদুল বারী (রা.) সড়ক, ভরিয়ার কুল সড়ক, ছিদ্দিকীয়া মহিলা মাদ্রাসা সড়ক, গারাংগিয়া সড়কের অনেক অংশ ভেঙে গেছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারদোনা হক মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন জানান, বন্যায় ভরিয়ারকুল, রঙ্গিপাড়া সড়ক বিপর্যস্ত হওয়ায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আসা-যাওয়ায় খুবই কষ্ট হচ্ছে।

উপজেলার গারাংগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি এরফানুল করিম চৌধুরী জানান, গত বন্যায় স্কুলের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে যাওয়ার কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা নিরাপত্তা হুমকিতে আছে।

গারাংগিয়া আলুরঘাট এলাকায় কবরস্থান ডলু খালের অস্তিত্ব সংকটে। উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের সবজি খেত সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে।

সাতকানিয়া উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম জহির জানান, বন্যায় কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট মেরামতের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে সাহায্য আসলে রাস্তাঘাট মেরামত করা হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments