সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস ১৩ বছরেও চালু হয়নি!

154

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বিভিন্ন সরকারের আমলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া যমুনা নদীতে সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস দীর্ঘ ১৩ বছরেও চালু হয়নি। বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও বগুড়া জেলার মধে আন্তঃবাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌরুটটি চালুর জন্য বিভিন্ন সময়ে সম্ভাব্যতা যাচাই ও দফায় দফায় সার্ভে করা হলেও আজও ফেরি সার্ভিস চালু হয়নি। সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস চালু ও নৌবন্দর প্রতিষ্ঠা দুটি জেলার জনগণের দীর্ঘ দিনের দাবি।

সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস চালুর জন্য ইতিপূর্বে সারিয়াকান্দি-গাবতলী বগুড়া ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক প্রশস্তকরণ করা হয়। জামালপুরে মাদারগঞ্জ থেকে মাদারগঞ্জ (জামথল) ঘাট পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার নতুন পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়।

উল্লেখ্য, বহু বছর ধরে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর, শেরপুর জেলার মানুষ ব্যবস্যা-বাণিজ্য, চাকরি ও আত্মীয়তা উপলক্ষ্যে এ নৌরুটে ৮/১০ কিলোমিটার উত্তাল যমুনা নৌকায় পাড়ি দিয়ে বগুড়াসহ উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু ফেরি সার্ভিস না থাকায় যানবাহন পারাপার হয় না। সে কারণে ব্যবসায়িক উদ্দেশে মালামালও পরিবহন হয় না। সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস চালু হলে সহজে এবং স্বল্পসময়ে নদী পারাপার সম্ভব হবে। বর্তমানে বগুড়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে জামালপুর, শেরপুর যেতে সময় লাগে ৩/৪ ঘণ্টা। কিন্তু ফেরি সার্ভিস চালু হলে সরাসরি ৭০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে এবং সময় সাশ্রয় হবে। এদিকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নওগাঁ ও জয়পুরহাটের যানবাহন বিকল্প হিসেবে এ রুট ব্যবহার করতে পারবে।

ফেরি সার্ভিস চালুর দাবিতে ২০০৬ সালে সারিয়াকান্দি ও মাদারগঞ্জবাসী একযোগে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। এ সময় মাদারগঞ্জ ও কালিতলা ঘাটে পন্টুন নিয়ে আসা হয়। ঐ সময় বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাক এসটি খিজির কালিতলা ঘাটে এসে নোঙর করে। সাত মাস ঘাটে অবস্থান করার পর অজ্ঞাত কারণে চলে যায়।

এদিকে গত ৫ জুলাই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আব্দুস সাত্তার শেখ ও বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী মফিদুল ইসলাম সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌ-রুট পরিদর্শন করেন। সারিয়াকান্দির কালিতলা ঘাটে অবস্থানকালে যুগ্ম সচিব উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বলেন, সরেজমিন দেখে গেলাম। সম্ভাবনাময় এ নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে। এ সময় জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী, মাদারগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান বেলাল, পৌর মেয়র মির্জা কবীর, বগুড়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমার মতি, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কোরবান আলী উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে সারিয়াকান্দি-সোনাতলা আসনের এমপি আব্দুল মান্নান এবং মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ আসনের এমপি মির্জা আজম বলেন, মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। এ জনগুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালু হলে জনপদের মানুষের দীর্ঘ দিনের নদী পারাপারের সমস্যা দূর হবে। একই সঙ্গে আন্তঃজেলা বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে। বন্দর-ঘাটে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

আলোকিত সকাল/এসআইসু

Facebook Comments