সিলেটে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ভোগান্তিতে নগরবাসী

348

আলোকিত সকাল ডেস্ক

নগরীর জিন্দাবাজারে রাস্তা খুঁড়ে রাখায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নগরবাসী —আব্দুল বাতিন ফয়সল

হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস

বছর জুড়েই চলতে থাকা রাস্তা-ঘাটের মেরামত কাজে চলাচলে বিপাকে পড়েছেন সিলেট নগরবাসী। তাদের অভিযোগ—সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যেন শেষ হতে চায় না। বিশেষ করে চলতি বর্ষায় তাদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তি। শহরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার, জেল রোড, দক্ষিণ সুরমার মুক্তিযোদ্ধা চত্বরসহ আরো কয়েকটি সড়ক দেখলেই দুর্ভোগের সাতকাহন চোখে পড়ে।

‘চলমান কাজগুলোর ঠিকাদাররা নিজেদের খেয়াল খুশি মতো করে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এসব বিষয়ে কোনো দায়-দায়িত্ব আছে বলে মনে হয় না। জনগণের ভোগান্তি অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছেছে’—এমন মন্তব্য করেছেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘শুধু ভাঙা-গড়া নয়, নাগরিক সুবিধাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিতভাবে নগরের প্রায় প্রতিটি রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়িতে নগরবাসীর জীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।’ তিনি বলেন, ‘সৌন্দর্যবর্ধনের নামে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব কৌশলে হুমকির মুখে।’

বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধূরী দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর নগরীর রাস্তাঘাট প্রশস্তকরণ, ‘ছড়া’ উদ্ধারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে গতির সৃষ্টি হয়। নাগরিকরাও স্বাগত জানান। কিন্তু প্রলম্বিত সংস্কার কাজে এখন অনেকেই বিরক্ত। অধিকাংশ সড়কে কাজ এক সাথে ধরেও শেষ করা হচ্ছে না। যদিও এসব উন্নয়ন কাজে দুর্ভোগ হওয়া কথা স্বীকার করে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ দুঃখ প্রকাশ করেছে। কিন্তু দুর্ভোগ শেষ হওয়ার যেন লক্ষণ নেই! এ দিকে, নগরীতে আন্ডারগ্রাউন্ড বৈদ্যুতিক ক্যাবল প্রকল্পের কারণে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। বর্ষায় কাদা-জলে সব একাকার! রাস্তার পাশে নালা উপচে পানি ছড়িয়ে পড়ছে সড়কে।

মেয়র আরিফের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আন্ডারগ্রাউন্ড বৈদ্যুতিক কেবল প্রকল্প শুরু করেন গত ফেব্রুয়ারি মাসে। কিন্তু প্রকল্পটি হাতে নেয়ার পর কাজ বন্ধ থাকে প্রায় দুই মাস। মাসখানেক আগে আবার বর্ষা মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো কাজ শুরু হয়। ব্যবসায়ীরা প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতায় অতিষ্ঠ।

সিসিকের ২৭টি ওয়ার্ড জুড়ে রাস্তাঘাট, ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পের কাজ চলছে। একবার রাস্তায় ঢালাই-কারপেটিং কাজ শেষ হয় তো আবার শুরু হয় ড্রেন নির্মাণ। এতে পর্যটন নগরীতে দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন নগরবাসী। নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারে বিশাল কালভার্ট নির্মাণের কাজ গত রমজানের আগে শুরু হয়ে এখনো শেষ হয়নি।

চেম্বার প্রশাসকের বিবৃতি

নগর জুড়ে চরম এই দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে সোমবার বিবৃতিতে সিলেট চেম্বারের প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রায় চার-পাঁচ মাস আগে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে খোঁড়া হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। এতে নগরবাসীর চলাচলে যেমন বিঘ্ন ঘটছে, তেমনি ক্ষতির সম্মুখীন ব্যবসায়ীরাও।’ চেম্বার প্রশাসক বলেন, ‘সিলেটের ছোটো-বড়ো সব ব্যবসায়ীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, জেলরোডসহ আশপাশের এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণসামগ্রী রাখায় রাস্তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।’ চেম্বার সভাপতি আগামী এক মাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো চলাচলের উপযোগী ও বাসা-বাড়ির সীমানা প্রাচীরের ভাঙা অংশ পুনর্নির্মাণের অনুরোধ জানান। তিনি দুর্ভোগ এড়াতে জনবহুল এলাকাগুলোতে একই সাথে একাধিক উন্নয়নকাজ পরিচালনা না করার জন্য সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ জানান। তিনি আরো বলেন, বর্ষা মৌসুমে দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নির্বাচনসহ যাবতীয় কাজ গুছিয়ে নেয়া যেতে পারে। এতে পরবর্তী বর্ষার আগে সেসব কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। ফলে কাজের মানও ভালো হবে এবং অপচয়ও কম হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments