সুদানে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, নিহত ৭

200

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সুদানে বেসামরিক শাসনের দাবিতে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। রোববার (৩০ জুন) রাজধানী খার্তুমের বিভিন্ন সড়কে নেমে আসা প্রায় হাজারও উত্তেজিত জনতা। এ সময় পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে টিয়ার গ্যাস ও গুলি ছুঁড়লে অন্তত সাত বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়। এতে আহত হন আরও কমপক্ষে দুই শতাধিক লোক বলে জানিয়েছে খার্তুমের চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী চিকিৎসক সুলাইমান আব্দুল গাবের বলেন, ‘পুলিশের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া ১৮১ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৭ জনের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। তাদের বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

এর আগে বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ার করে ক্ষমতাসীন ট্রানজিটাল মিলিটারি কাউন্সিলের (টিএমসি) প্রধান নির্বাহী হামদান ডাগলো বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের সকল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে আমরা মেনে নেব; তাদের প্রত্যেককেই রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। তবে সেখান থেকে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।’ পরবর্তীতে এর অংশ হিসেবে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষমতাসীন টিএমসি খার্তুমে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে চেকপয়েন্ট স্থাপন করে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের অনেকেই দেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রদর্শন করেন। তাদের মধ্যে অনেকে আবার ‘সিভিলিয়ান, সিভিলিয়ান’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এ দিন রাজধানী খার্তুম ছাড়াও দেশের অন্যান্য শহরগুলোতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে প্রায় তিন দশক যাবত ক্ষমতায় থাকা সুদানের সাবেক নেতা ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশ পরিচালনা শুরু করে ট্রানজিটাল মিলিটারি কাউন্সিল। ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করেও দমানো যায়নি সুদানিদের। তখন দেশে ট্রানজিটাল মিলিটারি কাউন্সিলের পদত্যাগ ও বেসামরিক সরকার গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে সুদানিজ প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশন (এসপিএ) নামে একটি সংগঠন; যা এখনো অব্যাহত আছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments