সেই পেরুকে পেয়েও সতর্ক ব্রাজিল

341

আলোকিত সকাল ডেস্ক

এই পেরুকেই না গ্রুপ পর্বে ৫-০ গোলে হারিয়েছে। পাঁচ গোলে পাঁচ ভিন্ন গোলদাতা। শেষ দিকে গাব্রিয়েল জেসুস পেনাল্টি মিস না করলে তো ছয়ই হতো। কোপা আমেরিকার ফাইনালে যখন সেই পেরুকেই আবার পেল ব্রাজিল, শিরোপা জয়ে ফেভারিট কে, তা নিশ্চয়ই বলার প্রয়োজন নেই।

এই পেরুকেই না গ্রুপ পর্বে ৫-০ গোলে হারিয়েছে। পাঁচ গোলে পাঁচ ভিন্ন গোলদাতা। শেষ দিকে গাব্রিয়েল জেসুস পেনাল্টি মিস না করলে তো ছয়ই হতো। কোপা আমেরিকার ফাইনালে যখন সেই পেরুকেই আবার পেল ব্রাজিল, শিরোপা জয়ে ফেভারিট কে, তা নিশ্চয়ই বলার প্রয়োজন নেই।

ঘরের মাটিতে খেলা বলে এমনিতেই চাপে ছিল ব্রাজিল। টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে সে চাপ জয় করা ফুটবল খেলতে পারেননি আদেনর বাক্কি তিতের দল। অবশেষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে সাম্বার ছন্দে বিলায় তাঁরা ফুটবলানন্দ। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে কোয়ার্টার ফাইনাল জয়ের পর সেমিতে হারায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে। নবমবারের মতো কোপা আমেরিকা জয়ের জন্য তাই সংশয়াতীত ফেভারিট ব্রাজিল। আগের দুইবারের চ্যাম্পিয়ন চিলিকে সেমিতে বিদায় করে ৪৪ বছর পর টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠা পেরুর সম্ভাবনা নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে না তেমন একটা।

তবে বাংলাদেশ সময় কাল রাতে অনুষ্ঠেয় সে ফাইনালের আগে সতর্ক ব্রাজিল। ফাইনাল ম্যাচে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার বিলাসিতা দেখাচ্ছে না স্বাগতিকরা। লেফট ব্যাক আলেক্স সান্দ্রোর কথাতেই স্পষ্ট তা, ‘প্রতিটি ম্যাচ আলাদা। আর ফাইনালে কখনো কোনো ফেভারিট থাকে না। অমন ম্যাচে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।’ শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা ব্রাজিলকে নুইয়ে দেবে না বলে বিশ্বাস তাঁর, ‘প্রত্যাশা থাকাটাই স্বাভাবিক। আর চাপের সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত। ওভাবেই তো আমরা বেড়ে উঠেছি। যত চাপ, ততই আমাদের জন্য ভালো। আমাদের দলের খেলোয়াড়রা তরুণ, তবে এরই মধ্যে অনেক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। চাপ থাকলেও সমস্যা নেই। তবে পেরুর প্রতি আমাদের বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ ফাইনালটি ফুটবলতীর্থ মারাকানায় হওয়ায় স্বাগতিকরা আরো উজ্জীবিত রয়েছে বলে দাবি সান্দ্রোর, ‘মারাকানায় খেলা হবে খুব আবেগের। ব্রাজিলের প্রতিটি কিশোরের স্বপ্ন ওখানে খেলা; এখান থেকেই ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নেরও শুরু। সেই মারাকানায় ফাইনাল, তাই আমাদের জন্য হবে বিশেষ কিছু।’

গ্রেমিওতে খেলা স্ট্রাইকার এভারতনের কথায়ও সতীর্থের প্রতিধ্বনি। পেরুকে কিছুদিন আগে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিলেও ফাইনালে সামান্যতম ছাড় দেবে না বলে জানান তিনি, ‘এটি একেবারে ভিন্ন ম্যাচ হবে। আমরা কিভাবে তা সামাল দিই, তার ওপর সব কিছু নির্ভর করছে। আমাদের ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিতে হবে। ফাইনালের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে।’ এই টুর্নামেন্ট দিয়েই বিশ্ব ফুটবলে নজরকাড়া এভারতন শেষটাও রাঙিয়ে দিতে চান, ‘কোপার পারফরম্যান্সে আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন একেবারে বদলে গেছে। এখন পুরো বিশ্ব আমাকে চেনে। এই ভালো সময়টা কাজে লাগাতে চাই। চাই ব্রাজিলের হয়ে কোপা আমেরিকা জিততে।’

প্রত্যাশানুযায়ী সব এগোলে কাল দানি আলভেসের হাতেই ওঠার কথা কোপার শিরোপা। ৩৬ বছরের এই রাইট ব্যাক কি ট্রফি জিতেই বিদায় জানাবেন জাতীয় দলকে? সে গুঞ্জন সম্পর্কে কথা বলতে তীব্র অনীহা আলভেসের, ‘জানি, আমার বয়স কত। জানি, ফুটবলে এর অর্থ কী। এত দিন ফুটবল খেলে জানি, লোকে ভালো ফলই চায় শুধু। আমি সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছি। নিজের বয়স কিংবা লোকে আমাকে নিয়ে কী ভাবছে—তা নিয়ে চিন্তিত নই। কারো মুখ বন্ধ করার জন্য খেলছি না। আমি শুধু নিজের কাজটাই করছি।’

মাঠে ব্রাজিলের ১১ জন নিজেদের কাজ করতে পারলে কোপা আমেরিকার শিরোপা জয় হবে শুধুই সময়ের ব্যাপার। এএফপি

আস/এসআইসু

Facebook Comments