সেই রাতের বর্ণনা দিলেন ডা. সত্য প্রকাশ

366

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ভারতীয় নাগরিক ডা. সত্য প্রকাশসহ দুজনের সাক্ষ্য নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মনির কামাল সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেন। তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আগামী ৯ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেন। অপর সাক্ষী হলেন- রিক্সাচালক মো. আসলাম হোসেন।

ডা. সত্য প্রকাশ জবানবন্দিতে বলেন, ২০০২ সাল থেকে বাংলাদেশে বসবাস করে আসছি। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে খেতে যাই। সেখানে গিয়ে একটি টেবিলে বসি। এরপর সন্ত্রাসীরা রেস্টুরেন্টের ভিতরে প্রবেশ করে। তারা গোলাগুলি শুরু করে। আমার পাশে বসে থাকা একজন গুলিবিদ্ধ হন। এরপর সন্ত্রাসীরা আমার টেবিলের পাশে এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করে, আমি বাংলাদেশী কি না। আমি তাদের বলি আমি বাংলাদেশী। তখন সন্ত্রাসীরা আমাকে বলে, আপনি ভয় পাবেন না। আমরা আপনার কোন ক্ষতি করবো না। আপনি টেবিলের নীচে মাথা নীচু করে বসে পড়ুন। সারারাত আমি টেবিলের নীচে মাথা নীচু করে বসে থাকি। সারারাত গোলাগুলি চলে। অনেক রক্তাক্ত লাশ দেখতে পাই।

এ নিয়ে এই মামলায় ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬২ জনের সাক্ষ্য নেয়া শেষ হয়েছে।

সাক্ষ্য নেয়ার সময় আসামি মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন, শফিকুল ইসলাম ওরফে খালেদ, হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী ও হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এদিন শফিকুল ইসলাম ওরফে খালেদের পক্ষে তার আইনজীবী ফারুক আহমেদ জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জামিনের বিরোধীতা করেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন নিহত হন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments