সেমিতে মোড়লদের লড়াই

380

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আইসিসির বিগ-থ্রি নীতি বাতিল হয়েছে দুই বছর আগে। কিন্তু ‘তিন মোড়ল’ ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের আধিপত্য একটুও খর্ব হয়নি। চলতি বিশ্বকাপেও তাদের আধিপত্য বজায় রয়েছে। প্রথম তিন দল হিসেবে সেমিফাইনালেও জায়গা করে নিয়েছে এই তিন মোড়ল।

বিশ্বকাপে ভারতকে সুবিধা দিয়ে সূচি তৈরির অভিযোগ ছিল ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি’র বিরুদ্ধে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের বোলারদের কথা বিবেচনা করে উইকেট তৈরির অভিযোগও উঠেছে। ইংল্যান্ড অধিনায়কের সমালোচনার একদিন পর উইকেটের চরিত্র বদলে যেতে দেখা গেছে। ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গুঞ্জন রয়েছে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুলতেই জিততে চায়নি ভারত।
চলতি আসরে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের পর বড় মোড়ল ভারতও উঠে যায় সেমিতে। বাকি ছিল তৃতীয় মোড়ল ইংল্যান্ড। যারা আবার তিন মোড়লের পরীক্ষিত শত্রু পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার কাছে হোঁচট খেয়েছে লীগ পর্বে। তাই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি পরিণত হয় অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনালে। সেখানে জিতলেই সেমিফাইনাল! এমনই হাতছানি সামনে রেখে খেলতে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড। হারলে সুযোগ থাকবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার।

ব্যাট-বলে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। কিন্তু মাঠের লড়াই ছিল একপেশে। যে লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিগ থ্রি’র তৃতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালের টিকেট কাটে ইংল্যান্ড। সঙ্গে শেষ চারে নিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডকে। খেলা শেষে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ প্রশ্ন তোলেন, ম্যাচটি পাতানো ছিল কিনা!
২০১৪ সালে পাস হয়েছিল ‘বিগ-থ্রি’ নীতি। ‘বিগ-থ্রি’ নীতিতে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আইসিসির সম্ভাব্য আয়ের ভাগ বণ্টনের একটা বর্ণনা দেয়া হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, আগামী ৮ বছরে আইসিসি’র আয়ের ২৭.৪ শতাংশই যাবে বিসিসিআই, ইসিবি ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে। অস্ট্রেলিয়া পাবে ২.৭ ভাগ অর্থ, ইংল্যান্ডের ভাগে ৪.৪ ভাগ। আর ভারত একাই নিয়ে নেয়ার কথা ২০.৩ ভাগ! এত দিন এ নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় যে তত্ত্বটা ছিল, ৮ বছরে আইসিসি থেকে ভারত নিয়ে নেবে ৫৭১.৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার। বাকি দেশগুলোর প্রবল আপত্তির মুখে বেশিদিন টিকেনি বিগ-থ্রি নীতি। ২০১৭ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নিয়ে বিগ-থ্রি নীতিতে পরিবর্তন আনেন শশাঙ্ক মনোহর।

আইসিসি ‘তিন মোড়ল’ নীতি বাতিল করলেও অঘোষিতভাবেই ক্রিকেটবিশ্বে মোড়লগিরি এখনও করে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত আর ইংল্যান্ড। এই তিন দলের সঙ্গে নিচের সারির দলগুলো যদি সিরিজ আয়োজন করতে চায়, তাহলে হাতে-পায়ে ধরাটা কেবল বাকি থাকে! আইসিসিও তাদের দাপটের কাছে নীরব। ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশকে আর টেস্ট সিরিজ খেলতে আমন্ত্রন জানায়নি অস্ট্রেলিয়া। ভারতে একবার মাত্র টেস্ট খেলার আমন্ত্রন পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ একমাত্র টেস্টটি খেলেছিল হায়দরাবাদে। ইংল্যান্ডেও মাত্র দুইবার টেস্ট সিরিজের আমন্ত্রণ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সর্বশেষ সিরিজি।

এসব নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথ্যা নেই আইসিসির। তিন মোড়লের প্রেসক্রিপশনে বিশ্বকাপে এবার দল কমিয়ে আনে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাদের বাড়তি সুবিধা দিতে গিয়ে বিশ্বকাপে পিচ তৈরির অভিযোগ করেছিলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা। সাঙ্গাকারা আইসিসির দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলে বলেছিলেন, ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ায় গতির বোলার আছে তাই তাদের সুবিধা মতো সবুজ পিচে তাদের ম্যাচ আয়োজন করে আইসিসি। সূচি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। দক্ষিণ আফ্রিকা যখন তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নামে তখন মাত্র প্রথম ম্যাচটি খেলেছিল ভারত। আইপিএল শেষে ক্রিকেটারদের ১৫ দিন বিশ্রাম চেয়েছিল ভারত। তাদের সেই দাবি রাখতে গিয়েই বিশ্বকাপ শুরুর এক সপ্তাহ পর ভারতের ম্যাচ রাখে আইসিসি। আইসিসি শুধু ভারতের খেলোয়াড়দের বিশ্রামের কথা চিন্তা করেছে, অন্যদের নয়। এই বিষয়টি নিয়েই বেশি ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্যালিস। বরাবরই তিন মোড়ল নিয়ে সোচ্চার থাকে বিগ-থ্রির বাইরের দলগুলো। কিন্তু আইসিসি মোড়লদের বাইরে যেতে না পারায় ক্রিকেটের এই হাল!

আস/এসআইসু

Facebook Comments