হংকংয়ের পার্লামেন্ট ভবনে হামলায় চীনের নিন্দা

170

আলোকিত সকাল ডেস্ক

গণতন্ত্রকামীদের ধারাবাহিক বিক্ষোভের মধ্যে ইউরেশিয়ার দক্ষিণপূর্ব উপকূলীয় দেশ হংকংয়ে পার্লামেন্ট ভবনে ভাংচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীন। বিক্ষোভকারীদের এ ধরনের আচরণকে একদমই অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে বেইজিং। চীনের হংকং বিষয়ক দূতের পাঠানো সেই বিবৃতিতে বলা হয়, এটি একটি মারাত্মক বেআইনি কর্মকাণ্ড। যা দেশে আইনের শাসনকে অবজ্ঞা করার শামিল। চীন তা কখনোই মেনে নিবে না।

যদিও সড়কে আন্দোলনরত এসব গণতন্ত্রকামীদের প্রতি এরই মধ্যে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘হংকংয়ের প্রতিটি জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তাই তাদের এই কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা না দেওয়ার জন্য ব্রিটেন দেশটির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।’

এর আগে গত সোমবার (১ জুলাই) চীনের কাছে হংকং হস্তান্তর বার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকেই সড়কে জড়ো হতে শুরু করে লাখ লাখ জনগণ। পরে এক সময় তার সরকারি দপ্তরগুলোতে ভাংচুর করতে শুরু করে। এমনকি আইনি পরিষদ ভবনসহ দেশটির পার্লামেন্ট ভবনেও ধাতব বস্তু দিয়ে চালানো হয় হামলা। বিক্ষোভরত গণতন্ত্রকামীদের একটি দল অঞ্চলটির পার্লামেন্ট ভবনের কাচ ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা অধিবেশন কক্ষে ঢুকে স্প্রে-পেইন্ট দিয়ে সেখানকার দেওয়ালে নানা বার্তা লিখে দেয়।

আন্দোলনকারীদের থামাতে গিয়ে ব্যর্থ হয় গণতন্ত্রপন্থি পরিষদ সদস্যরাও। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভবনগুলোর আশেপাশে অনেক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যে কারণে আন্দোলনরত লোকজন কিছুক্ষণ শান্ত থাকলেও একটু পর তারা আবারও সামনের দিকে এগোতে শুরু করেন। মূলত এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনকরীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নিজের টুইট বার্তায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হংকং হস্তান্তর বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আমরা তাদের স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানই। কোনো সহিংসতাই গ্রহণযোগ্য নয়, তারপরও হংকংয়ের জনগণের আইন মেনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। যা আজ অগণিত সাহসী মানুষ করে দেখিয়েছেন।’হংকংয়ের পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশের পূর্বে ভাঙচুর চালান বিক্ষোভকারীরা।

এ দিকে চীনা সরকারের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করে কিছু উগ্রপন্থি অতিরিক্ত সহিংসতা চালিয়েছে। এতে রাষ্ট্রের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এটা বিস্ময়কর, মর্মান্তিক আর ক্ষোভ সৃষ্টিকর একটি বিষয়। এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড হংকংয়ের আইনের শাসনের ওপর চরম চ্যালেঞ্জ এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি মারাত্মক অবজ্ঞা। যা সকলের কাছে একদমই অগ্রহণযোগ্য।’

প্রায় ১৫০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের অধীনে থাকার পর ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অঞ্চলটি শক্তিশালী চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক এই দিবসটির ২২ বছর পূর্তিতে সোমবার আন্দোলনে সড়ক অবরোধ করেন গণতন্ত্রকামী এসব লোকজন। প্রতি বছরের এই দিনে কর্মকর্তারা এক দিকে সরকারি ভবনগুলোতে উৎসব পালন করেন আর অপর দিকে গণতন্ত্রকামীরা অবস্থান নেন রাজপথে।

দীর্ঘদিন যাবত হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সাল থেকে অঞ্চলটিকে স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দেয় দেশটি। এর আগে গত মাসেও চীনপন্থি এক বিল নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল ইউরেশিয়ার দক্ষিণপূর্ব উপকূলের এই দেশ।

মূলত চীন এবং তাইওয়ানে আসামি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত একটি বিলের বিপক্ষে তখন গোটা দেশে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভ দাঁড়ায় চীনের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে। বেইজিংয়ের দুর্বল আইন ব্যবস্থা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ডের কারণে হংকংয়ের সাধারণ মানুষ সেখানে কাউকে ফেরত পাঠাতে চাইছেন না। তাদের মতে, পার্লামেন্টে বিলটি পাস হলে তা অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রে চীনা হস্তক্ষেপের সুযোগ অনেকাংশে বাড়িয়ে দিবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments