হাতিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস হয়ে উঠেছে দুর্নীতির অভয়ারণ্য, বেপোয়ারা ভবরঞ্জন দাস

193

স্টাফ রিপোর্টারঃ  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে বৃদ্ধাংগুলী দেখিয়ে ভবের রাজ্য হাতিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস হয়ে উঠেছে দুর্নীতির অভয়ারণ্য

১৯৯৬ সালে ভবরঞ্জন দাস নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় যোগদান করেন সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে। যুগের পর যুগ তিনি দু’ এক মাসের জন্যে হাতিয়ার বাইরে বদলী হলেও হাতিয়ার মোহ তাকে বাইরে বেশি দিন থাকতে দেয়নি। ২০১৮ সালে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের চলতি দায়িত্ব পেয়েও মোহে তাকে হাতিয়া ছাড়াতে পারেনি। হাতিয়ার শিক্ষকদের বদলী, ডেপুটেশন, টাইমস্কেল, বকেয়া বিল, চিকিৎসা ছুটি, পিআর এল, পেনশন, অবৈধ উপায়ে উচ্চতর গ্রেড, প্রধান শিক্ষকের পদ পাইয়ে দেয়া, ক্ষদ্র মেরামত, বড় মেরামত, রুটিন, ম্যানটেইনেন্স, টয়লেট মেরামত, প্রাক প্রাথমিক বরাদ্দ, লক্ষ লক্ষ টাকার পুরাতন ব্লিডিং নামে মাত্র নিলামের ব্যবস্থা করে হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ, প্রতি সপ্তাহে / মাসে ঢাকায় গিয়ে টাকা বান্ডেল রেখে আসা এরই মধ্য দিয়ে ভব রঞ্জন দাসের হাত ধরে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা নামীয় শিক্ষার ভীত মৌলিক জ্ঞানার্জন। তার দীর্ঘ দুর্নীতির সোনালী কর্মজীবনের গ্রাসের কাহিনী বিভিন্ন শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো। তার নাকি রয়েছে ঈশ্বরের কৃপা কৃষ্ণ চন্দ্র মজুমদার নামীয় রাজের হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। কৃষ্ণ বাবু ভবরঞ্জন দাসের সানুগ্রহে বিদ্যালয়ে না গিয়ে সাংবাদিক হিসেবে উপজেলার উন্নয়ন সভা, আইন শৃংখলা সভা সহ সকল সভায় অংশগ্রহন করেন ঠিক তেমনি ভাবে ভবন রঞ্জন দাসের সকল কুকর্মের সহযোগী হয়ে সকল মহল থেকে তাকে বাঁচানোর জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২০১৮ ও ২০১৯ খ্রিঃ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নোয়াখালী ও উপপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা,চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে বিভিন্ন বদলীর আদেশের প্রতিস্থাপক না দিয়েই তার নিজস্ব মতে বদলী কার্যকর করেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নোয়াখালীর স্মারক নং ১১৪৭ তারিখঃ ৩১/৭/২০১৯ মোতাবেক চেয়ারম্যন ঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তাজনাহার বেগম, মধ্য মাইজচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তাহমিনা আকতার, স্মারক নং ১১১৮ তারিখঃ ৩১/৩/২০১৯ এ পূর্ব চরঈশ্বর রায় হালিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হুমায়ন কবির, স্মারক নং ৭৪০ তারিখঃ ৯/৩/২০১৮ এ মধ্য চরকিং মাহবুবিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ফরিদা আকতার কে প্রতিস্থাপক শিক্ষক দিয়ে বদলীর আদেশ প্রদান করা হয় কিন্তু বদলীর নীতিমালা ভঙ্গ করে ভবরঞ্জন দাস শিক্ষকদের থেকে বড় অংকের সুবিধার বিনিময়ে বদলীর সুযোগ করে দেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের স্মারক নং ৩৮. ০০৭.০১৫.৩০.৩৮.০০২১৩-৪৭৫ তারিখঃ ১০/১১/২০১৩ খ্রিঃ তারিখের জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গেজেটে মৃধ্যাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মফিজুর রহমান, দক্ষিণ পূর্ব নলচিরা হাজী কালামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওসমান গণি, পশ্চিম চর আমান উল্যাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আকতারি বেগম লাকি কে সহকারি শিক্ষক হিসেবে গেজেটভুক্ত করলেও ভবরঞ্জন দাসের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার মাধ্যমে ফটোশপ জালিয়াতি করে তিন জন শিক্ষককেই প্রধান শিক্ষক দেখিয়ে বকেয়া বেতন ভাতাদি পরিশোধ করেন মোটা অংকের লেনদেনের বিনিময়ে। এ দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্টীয় কোষাগারের লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাট হওয়ায় দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার নোয়াখালীর জেলা প্রতিনিধি মুশফিকুর রহমান, চেয়ারম্যন, দূর্ণীতি দমন কমিশন বরাবরে পত্র প্রতিকারের জন্যে আবেদন করলে দুর্নীতিদমন কমিশনের ২৮/৫/২০১৯ তারিখের স্মারক নং ০০.০১.৭৫০০.৬২৪.২৬.০০১.১৯.২১৪,৮৫ এ তদন্ত কার্যক্রমের নিদের্শনা দেয়ার প্রেক্ষিতে দূর্ণীতি দমন সম্বনিত নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের নির্দেশে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নোয়াখালীকে রিপোর্ট প্রদানের দায়িত্ব প্রদানের সুযোগে ভবরঞ্জন দাস নিজের মত করে অভিযুক্ত শিক্ষকদের কাগজপত্রাদি ব্যাক ডেটে তৈরি করার কাজ করছে মর্মে খোঁজ পারওয়া যাচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস হাতিয়ার স্মারক ১০৫৭ তারিখঃ ২০/১১/১৮ মোতাবেক দক্ষিণ পূর্ব সোনাদিয়া সেকান্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উমেশ চন্দ্রের পিআরএল মঞ্জুরের জন্যে পত্র প্রেরিত হলেও টাইমস্কেলের জটিলতা, প্রধান শিক্ষকের পদ সহ বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় উক্ত শিক্ষকের পিআরএল মঞ্জুর না হয়ে বিভিন্ন আপত্তি হওয়ায় ভবরঞ্জন দাস নিজেই বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করে স্মারক নং ২০১৪ তারিখ ঃ ২০/৮/২০১৯ মূলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, নোয়াখালী থেকে সকল অনিয়মের মধ্যেই অর্থাৎ অবৈধ উপায়ে গৃহীত টাইমস্কেলে ও আপত্তিকৃত প্রধান শিক্ষকের পদের বিপরীতে পিআরএল মঞ্জুর করিয়ে দেন মোটা অংকের বিনিময়ে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তমরদ্দী কোরালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষ প্রেমেশ চন্দ্র দাস কে ছাত্রী/ শিক্ষিকা যৌন হয়রানীসহ বিভিন্ন অনিয়মের শাস্তি সরুপ বেতন স্কেল স্মারক নং প্রাশিঅ/ ৮-টি/৪ বিদ্যা- চট্ট খন্ড- ৪ (২)২০১৩/২১১/৪ তারিখঃ ৭/১২/২০১৪ মোতাবেক নির্দেশ প্রদানের পত্রটিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ করে দেন বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে। শূন্যের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জসিম উদ্দিনকে তমরুদ্দী কোরালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিধি বহির্ভুতভাবে সংযুক্তি প্রদান করে তাকে সুবিধা প্রদানকারী প্রধান শিক্ষক কে বাড়ি ও অফিসে ঘুরোঘুরির সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। ২০১৮ খ্রিঃ ৪৬ জন প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব পদায়নেও ভবরঞ্জন দাস মোটা অঙ্কের পদায়ন বানিজ্য করেছিলেন। ২০১৮-২০১৯ ও ২০১৯ -২০২০ অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামতে বিদ্যালয় প্রতি সর্বোচ্চ ২৫০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ আদায় করেছেন তার মনোনিত শিক্ষকের মাধ্যমে। স্লিপ ফান্ডের অর্থসহ সকল বরাদ্দ থেকে ৫% হারে অর্থ আদায় করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে শিক্ষা অফিসার। শিক্ষা অফিসার ভবরঞ্জন দাসকে মুটোফোনে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সবকিছু অস্বীকার করেন। ভূক্তভোগী ও বঞ্চিত শিক্ষকরা এ বিষয়ে প্রতিকার প্রত্যাশা করে এবং দূর্ণীতি দমন কমিশনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূর্ণীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নির্দেশনা কে বৃদ্ধাংগুলী দেখিয়ে দূর্ণীতির মহোৎসব পালন করেও দিব্বি চলছে ভবের রাজ্য হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিস।

Facebook Comments