৯ জনের ফাঁসিতে শুধু হতাশ নই, বিক্ষুব্ধও : মির্জা ফখরুল

277

আলোকিত সকাল ডেস্ক

২৬ বছর আগে তৎকালীন বিরোধীদলের নেতা শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলির বর্ষণের ঘটনায় দলের ৯ জন নেতা-কর্মীকে ফাঁসির আদেশ দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পাবনায় যে রায় দেয়া হয়েছে তাতে গোটা জাতি বিস্মিত হয়েছে। ২৬ বছর আগে ট্রেনে দুইটি গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। কে ছুড়েছে, কয়টি ছুড়েছে তার কোনও প্রমাণ নেই। অথচ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৯ জনকে ফাঁসি দিয়েছে। আর এই রায় প্রমাণ করেছে বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থার কোনও স্বাধীনতা নেই।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল, এই রায়ে আমরা শুধু হতাশ নই, বিক্ষুব্ধ। এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এ দেশে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নেই। এ সময় তিনি বলেন, ট্রেনে গুলি ছোড়ার ঘটনায় বিএনপি নেতাদের সাজা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওইদিন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের গোলাগুলির ঘটনার ট্রেনে এ গুলি লাগে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটা অর্থনীতি ফোরামের দাওয়াতে গেছেন। চীন সরকারের দাওয়াতে যান নাই। আমরা খুব খুশি হতাম তিনি যদি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনা প্রেসিডেন্টের সাথে বসে প্রধান প্রায়ওরিটি সমাধানের কাজটি যদি করতেন। কিন্তু তিনি তা করছেন না। তিনি চুক্তি করেছেন, মেগাপ্রজেট, মেগা দুর্নীতির চুক্তি। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা সব সময় বলে বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে। তারা ক্যান্টনমেন্টের দল। কিন্তু তারা একবারও বলে না এরশাদের আমলে দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা রাজনীতিতে এসেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন- এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যে যাবে সে হবে জাতীয় বেঈমান। কয়েকদিন পরে তিনি এরশাদের অধীনে নির্বাচনে গিয়েছেন। আমরা এগুলো ভুলে যাইনি। দেশের মানুষ তা ভুলে যায়নি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া প্রতিটি সময়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। এখনও তিনি করে যাচ্ছেন। এখন যে কারাগারে আছেন এটাও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি বিশ্বাস করি আজকে যদি সব পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনীতিবিদরা এক হয়- তাহলে এই অপশাসন ও দুঃশাসনকে সরাতে কোনও বেগ পেতে হবে না। ঐক্যের কোনও বিকল্প নেই। যারা ঐক্যের বাইরে কথা বলবেন, তারা আসলে দেশ, গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার ক্ষতি করবেন। তাই ঐক্য, ঐক্য ও ঐক্যের কোনও বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। জনগণের আর বিচার ব্যবস্থার ওপরে কোনও আস্থা নেই। বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাগুলোতে প্রমাণ হয়েছে, আজকে বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে দলীয়করণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করে মাত্র ৪ টি পত্রিকা রেখে আর সব বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সব পত্রিকা খুলে দিয়েছিলেন।

খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এই ধরনের মামলায় সবাই জামিন পান। শুধু খালেদা জিয়া জামিন পাচ্ছেন না। এই ধরনের মামলায় জামিন পাওয়ার উদাহরণ আমাদের সামনেই আছে। ব্যারিস্টার মঈনুল হক জামিন পেয়েছেন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জামিন পেয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আর কোনও আস্থা নেই। একটা নির্বাচনও তারা সুষ্ঠু করতে পারেননি।

ঐক্যের কোনও বিকল্প নেই মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই জগদ্দল পাথর থেকে মুক্তি পেতে ঐক্যর কোনওে বিকল্প নেই। যারা ঐক্যর বিরুদ্ধে কথা বলে তারা মূলত গণতন্ত্রের শত্রু। তারা মূলত স্বৈরাচারের দোসর। অতীতে সকল ক্ষেত্রে ঐক্যর মধ্য দিয়ে সাফল্য এসেছে। এখনও সকল পেশাজীবীসহ বিভিন্ন মত ও পথের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ও গণতন্ত্রের নেত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তিতে এগিয়ে আসতে হবে। সম্পূর্ণ অনৈতিক, বেআইনি ও অমানবিকভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে আটক করে রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

ড্যাবের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড্যাবের নবনির্বাচিত সভাপতি হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. আবদুস সালাম, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ডা. ওবায়দুল কবির খান, নবনির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. মেহেদী হাসানসহ আরও অনেকে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments