আশঙ্কাজনক বেড়েছে শিশু ধর্ষণ

228

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বেড়েই চলছে শিশুদের ওপর সহিংসতা আর নির্যাতন। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত শিশুদের ওপর মোট ২১৫৮টি সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে ৯৮৮ শিশু অপমৃত্যুর শিকার হয়েছে। খুন হয়েছে ২০৫ শিশু। ধর্ষণ বেড়েছে ৪১ শতাংশ। ছয় মাসে ৪৯৬ শিশু ধর্ষিত ও ৭২৬ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সংবাদ পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে বাস্তবচিত্র আরও ভয়াবহ। শিশু অধিকার ফোরামের প্রোগ্রাম অফিসার আজমি আক্তার খোলা কাগজকে বলেন, ‘শিশুদের ওপর নির্যাতন বেড়েই যাচ্ছে, বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা।’

তিনি বলেন, অন্য অনেক কারণের সাথে বিচারহীনতার সংস্কৃতি শিশু নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার জন্য দায়ী।

আজমি আক্তার বলেন, ‘শিশু নির্যাতন বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

২০১৯ সালের প্রথম ৬ মাসে উল্লেখযোগ্য শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো হলো, হত্যা, ধর্ষণ, আত্মহত্যা। এছাড়া বিভিন্ন দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে পানিতে ডুবে, সড়ক দুর্ঘটনায়; নিখোঁজ পরবর্তী মৃত অবস্থায় পাওয়া, বাবা মায়ের হাতে নিহত হওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পিটিয়ে নির্যাতন।

গত বছরের তুলনায় এই বছরের প্রথম ৬ মাসে দেশে শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ৪১% হারে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বছরের প্রথম ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪৯৬টি শিশু। যেখানে গত বছরের প্রথম ছয় মাসে এই সংখ্যা ছিল ৩৫১টি। এপ্রিল এবং মে এই দুই মাসেই শিশু ধর্ষণ হয়েছে ২৪১টি। ৫৩ শিশুকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। ২৭টি প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ২৩ জন শিশুকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ছয় মাসে ২০৫টি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, এর মধ্যে ১৮টি শিশু বাবা-মায়ের হাতে হত্যার শিকার হয়েছে। এছাড়াও এই সময়ে ১২০টি শিশু অপহৃত হয়েছে। এর মধ্যে ৭২টি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। অপহরণ হওয়া শিশুদের মধ্যে ৬১টি শিশুকে অপহরণের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী জীবিত উদ্ধার করেছে। নিখোঁজ হওয়া শিশুদের মধ্যে ২৪টি শিশুকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এছাড়াও জানুয়ারী থেকে জুন এই সময়কালে সড়ক দুর্ঘটনায় এবং পানিতে ডুবে যথাক্রমে ২৮৬ এবং ১৯৪ টি শিশু নিহত হয়েছে, ৯৩টি শিশু আত্মহত্যা করেছে। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশু শিক্ষার্থীরা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments