ইংল্যান্ডকে সেমিতে তুলতেই ম্যাচ ছাড়লো ভারত?

256

আলোকিত সকাল ডেস্ক

এজবাস্টনে গতকাল বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইংল্যান্ডের দেয়া ৩৩৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে ৫ উইকেটে ৩০৬ রান নিয়ে নিজেদের ইনিংস শেষ করে ভারত। আর তাতেই উঠেছে যত প্রশ্ন। শক্তিশালী ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের কি সামর্থ্য ছিল না ৫ উইকেট হাতে থাকার পরও ম্যাচটা বের করে নিয়ে আসার?

ভারতীয় ইনিংসের ৪০তম ওভারের ১ম বলে যখন ঋষভ পন্থ ফিরে গেলেন, হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে তখন ক্রিজে যোগ দিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফিনিশার তকমা পাওয়া মহেন্দ্র সিং ধোনি। ৬৫ বল থেকে ভারতের তখন দরকার ১১২, ক্রিজে ধোনির সঙ্গে তখন আরেক হার্ডহিটার হার্দিক পান্ডিয়া।

সেখান থেকে নিশ্চয় ভারতের মতো একটা দল জয়ের জন্যই খেলার কথা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধোনি ঠিকই টিকে থাকলেন ক্রিজে, হার্দিকও টিকে ছিলেন ৪৫তম ওভার পর্যন্ত। তার বিদায়ে মাঠে নামলেন কেদার যাদব, যার হিটিং সামর্থ্য নিয়েও নেই প্রশ্ন। কিন্তু ওই ৬৫ বলে ভারত তুলল মাত্র ৮০।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবেই সমালোচিত হচ্ছে ধোনির পারফরম্যান্স

ধোনির এমন হাল ছেড়ে দেয়া মনোভাবের সমালোচনা করলেন স্বয়ং সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী। ম্যাচ শেষে সৌরভ বলেন, ‘এর চেয়ে ভারত যদি ৩০০ রান করেও অলআউট হতো, তাও ভালো ছিল। তাতে অন্তত প্রশ্ন তোলার কিছু থাকত না। কিন্তু হাতে পাঁচ উইকেট থাকার পরেও রান তাড়া করা গেল না, এটা অবাক করার মতো বিষয়।’

টুর্নামেন্টে এই প্রথম কোনো ম্যাচে পরাজয়ের মুখ দেখল ভারত। এ নিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলী, ভিভিএস লক্ষ্মণসহ সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটাররা বেশ ক্ষুদ্ধ। তারা বলছে, চেষ্টা করলে অবশ্যই ম্যাচ জিততে পারত ভারত। সৌরভের ব্যাখ্যায়, ‘এই প্রথম ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে শক্তিশালী একটা দলের বিপক্ষে রান তাড়া করার সুযোগ পেল ভারত, কিন্তু পারা গেল না। এটা অবশ্যই চিন্তার বিষয়।’

সৌরভ আরও বলেন, ‘পান্ডিয়া-ঋষভরা যেখানে ম্যাচটা ছেড়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে অভিজ্ঞ ধোনির উচিত ছিল দায়িত্ব নেয়া। আর কেদার যাদবের কথা কিছু বলার নেই। সে বোধহয় একটা বাউন্ডারি মেরেছে! কোনো গ্যাপই খুঁজে পেল না সে, অবাক করার মতো বিষয় এটা। ’

ভারতের গতকালের ম্যাচ নিয়ে প্রশ্ন আছে আরও। বাঁহাতি ইংলিশ অলরাউন্ডার যখন একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনও যুজবেন্দ্র চাহালকে দিয়ে একের পর এক ওভার করিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। অথচ ডানহাতি স্পিনার কেদার যাদবের মতো অস্ত্র ছিল তার কাছে, যিনি বাঁহাতিদের বিরুদ্ধে কার্যকর হয়ে উঠতেই পারতেন। যেখানে চাহাল ১০ ওভার বল করে ৮৮ রান দিলেন, সেখানে কেদার তো একটি ওভার পেতেই পারতেন! মার খাওয়ার পরও কোহলি কেন তার পাঁচ বোলারকে দিয়েই বোলিং চালিয়ে গেলেন, সেটা একটা রহস্যই বটে।

ফিল্ডিংয়ে সাবস্টিটিউট ফিল্ডার রবীন্দ্র জাদেজা অবিশ্বাস্য একটা ক্যাচ নিলেও একাদশের কারও কাছ থেকে পাওয়া যায়নি অতিরিক্ত কোনো প্রচেষ্টা। ইংলিশ ইনিংসের অনেকগুলো চার ভারতীয় ফিল্ডাররা ডাইভ দিলেই হয়তো ঠেকাতে পারতেন, কিন্তু দৃষ্টিকটুভাবে সেগুলোকে যেতে দিয়েছেন সীমানা দড়ির ওপারে। ভালোভাবে সেট হয়েও ‘চেস মাস্টার’ খ্যাত বিরাট কোহলি প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন ৮৬ স্ট্রাইক রেট নিয়ে, কোনো মানে হয়?

এই ম্যাচকে ঘিরে ঝুলে ছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার সেমির স্বপ্ন। ইংল্যান্ডের জয়ে সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। ম্যাচটা ভারত ইচ্ছে করেই হাত থেকে ফেলে দিলো কিনা, সেই রহস্য কি আদৌ উদ্ঘাটিত হবে?

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box