একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বিপুল শিক্ষার্থী ঝরেপড়ার শঙ্কা

205

আলোকিত সকাল ডেস্ক

তিন ধাপে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন গ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল থেকে শুরু হয়েছে ক্লাস। এবছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এরমধ্যে কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছেন ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৩২৫ জন শিক্ষার্থী।

ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছে ১২ লাখ ৫৬ হাজার ৩২৬ জন। এ হিসাব অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনের বাইরেও রয়েছে ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৪০ জন শিক্ষার্থী। আর রেজিস্ট্রেশন করেও ভর্তি নিশ্চায়ন করেনি ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী। আশঙ্কা করা হচ্ছে বাদ পড়া এসব শিক্ষার্থীর অধিকাংশ ঝরে পড়বে।

তবে ভর্তির বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের ভর্তির উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড। কলেজে আসন খালি থাকা সাপেক্ষ আগামী সপ্তাহ থেকে এসব শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ দেয়া হবে। শিক্ষার্থীরা কলেজে গিয়েই ভর্তি হতে পারবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, একাদশ শ্রেণির ভর্তির ক্ষেত্রে তৃতীয় ধাপ পর্যন্ত সারা দেশে ১২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী এখনো ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তির বাইরে রয়েছে। তাদের জন্য ভর্তি কার্যক্রম উন্মুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, সারা দেশে সকল কলেজ থেকে শূন্য আসন সংগ্রহ করা হচ্ছে, আসন সংখ্যা পাওয়ার পর এ কার্যক্রম উন্মুক্ত করা হবে। আসন খালি থাকলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি কলেজে গিয়ে ভর্তি হতে পারবে। সেই ক্ষেত্রে আর অনলাইন আবেদনের প্রয়োজন হবে না।

জানা যায়, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য পর্যায়ক্রমে পৃথক তিন ধাপে আবেদন গ্রহণ করা হয়। আবেদন গ্রহণ এবং ভর্তি নিশ্চায়ন শেষে গতকাল পহেলা জুলাই শুরু হয়েছে ক্লাস। কিন্তু ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে রয়ে গেছে। শুধু ঢাকা বোর্ডের কলেজগুলোতেই প্রায় দুই লাখের বেশি আসন ফাঁকা রয়েছে।

শিক্ষা বোর্ড বলছে, ভর্তি না হওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকে ভর্তির জন্য আবেদন করে কলেজ পেয়েও ভর্তি নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে অনেকে আবার ভর্তির জন্য আবেদনই করেনি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তিন ধাপে অনলাইন আবেদন ও ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়াকেও আগের চেয়ে সহজ করা হয়েছে। তারপরও অনেক শিক্ষার্থী ভর্তির বাইরে রয়ে গেছে, সেটি ভাবনার বিষয়। তবে আজ (সোমবার) ক্লাস শুরু হওয়ার পর আসন খালি থাকা সাপেক্ষে তারা চাইলে ভর্তি হতে পারবে। আমরা তাদের ভর্তির জন্য উন্মুক্ত করে দেব।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এই বোর্ডের অধীন কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে তিন লাখ ১৬ হাজার ৮৬৩ জন শিক্ষার্থী। দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের তুলনায় এই বোর্ডে শিক্ষার্থী ভর্তির হার সবচেয়ে বেশি। তবু এই বোর্ডে এখনো আসন খালি রয়েছে প্রায় দুই লাখ। এ কারণে শেষ পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীই ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে না বলে আশা করছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক।

শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অনেকে প্রতি বছর কারিগরি শিক্ষা নিতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়। বর্তমানে একই সঙ্গে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ভর্তির আবেদন নেয়া হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী হয়তো পলিটেকনিকে আবেদন করেছে। এরপরও কেউ ভর্তিবঞ্চিত থাকলে ও কলেজে আসন খালি থাকলে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে।

শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি আমার সংবাদকে বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার বড় কারণ বেকারত্ব। দেশে কর্মস্থানের অভাবে শিক্ষা থেকে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

শিক্ষিত হয়ে বসে থাকার চেয়ে অন্যকিছু করার চেষ্টা করছে। ফলে শিক্ষাবিমুখতা বাড়ছে। আবার আর্থিক কারণেও অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমিয়ে আনতে ব্যাপকহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির তাদিগ দেন এই শিক্ষাবিদ।

আস/এসআইসু

Facebook Comments